মেইন ম্যেনু

অক্ষমতাকে জয় করে সফলতার গল্প

জীবনে দূর্ঘটনা বলে কয়ে আসে না। সুস্থ সবল যে মানুষটিকে আজ বিদায় দিলেন কালই হয়ত ভয়াবহ কোন দূর্ঘটনায় বিকলাঙ্গ হয়ে ফিরে আসবে সে। অনেকে জন্মগ্রহণই করেন শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে। সাদা চোখে এই দূর্ভোগ আমরা যতটা গভীর মনে করি ভূক্তভোগীর জন্য তা আসলে কয়েক গুণ বেশী কষ্টের।

কিন্তু এসবের মাঝেও কিছু মানুষ আছেন যারা প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। নিজেদের মনের জোর তাদেরকে দিয়েছে সফলতা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিশ্রম দিয়েছে খ্যাতি। আসুন জেনে নিই তাদের জীবনের গল্প, যে গল্প আমাদের শিক্ষা দেয়, লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। থেমে যাওয়া যাবে না কখনোই।

Olesya Vladykina
ঝলমলে চেহারার অলেসিয়ার বয়স মাত্র ২০ বছর। এই অল্প বয়সেই তিনি অনেক কিছু সহ্য করেছেন। থাইল্যান্ড এ একটি দূর্ঘটনায় তিনি তার বাম হাত হারান, হারান তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটিকে। সেই মূহুর্তটি বদলে দেয় তার জীবনকে। তিনি থেমে থাকেন নি। দূর্ঘটনার পর তিনি ২য়বারের মত প্যারালিম্পিক গেমস এ অংশগ্রহণ করেন। প্রথম স্থান অধিকার করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন তিনি। তিনি সব কাজ একা নিজের এক হাতেই করেন।

Nick Vujicic
দুই বাহু এবং দুই পা ছাড়াই বেঁচে থাকা তার। এমন পরিস্থিতিতেও তার মানসিক শক্তি ছিল অদম্য। তিনি সারা বিশ্বের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। তিনি শুধু সংগ্রামী নন, তিনি সফল। তিনি সুখী। নিক গলফ খেলেন, সারা বিশ্বে ভ্রমণ করেন, ঘুরে বেড়ান, একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষ যা যা করেন নিক তার চেয়ে মোটেই পিছিয়ে নেই। তিনি একজন মোটিভেশনাল স্পিকার। নিজের মনের শক্তি ছড়িয়ে দেন বিশ্বময়। সম্প্রতি ২য় সন্তানের জনক হয়েছেন। পথে ঘাটে শিশূরা যদি প্রশ্ন করে, তার কি হয়েছিল তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দেন ” সিগারেটের কারণেই এমন হয়েছে”!

বিল পর্টার
যখন আপনার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং আপনি জানেন যে আপনি এটি অর্জন করতে পারবেন তখন কোন অসুখই আপনার জন্য বাধা হবে না। বিল পর্টার ছিলেন সেরেব্রাল পালসি আক্রান্ত একজন মানুষ। তিনি সেলস এ চাকরি করতে চেয়েছিলেন। তিনি তার যোগ্যতায় বিশ্বাস করতেন এবং জানতেন তিনি এটি ঠিকই অর্জন করতে পারবেন। পরবর্তীতে তিনি আমেরিকার সবচেয়ে ভাল সেলসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। তাকে উৎসর্গ করে “Door to Door” নামে একটি সিনেমা তৈরি হয়। সিনেমাটি তাদেরকে দেখতে পরামর্শ দেওয়া হয় যারা মনে করেন এমন কোন কিছু আছে যা তাদেরকে পেছনে ফেলবে, বাধা দেবে লক্ষ্য অর্জনে।

Evgeny Smirnov
একজন নৃত্যশিল্পীর কাছে নাচের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলার মত দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না। একজন প্রফেশনাল নৃত্যশিল্পী কি করবেন যদি সড়ক দূর্ঘটনায় তাকে পা হারাতে হয়? নিশ্চয়ই নাচ ছেড়ে দেবেন! কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন, এভগেনি স্মিরনভ, একজন রাশিয়ান ব্রেক ড্যান্স চ্যাম্পিয়ন নাচ তো ছাড়লেনই না, বরং নতুন করে শিখতে শুরু করলেন। ড্যান্স শো তে তার পার্ফরমেন্স অবাক করে দেয় সারা বিশ্বকে। তিনি একটি বাধাকে জয় করার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। তিনি প্রমাণ করেন, এক পা ছাড়াও নাচ করা সম্ভব।






মন্তব্য চালু নেই