মেইন ম্যেনু

অজানা রোগে আক্রান্ত তমার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শংকিত বাবা-মা

অজানা রোগে আক্রান্ত কিশোরীটির নাম তমা আক্তার। বয়স ১৭ ছুঁই ছুঁই। সে এবার বাসাইল উপজেলার জশিহাটি ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে এসএসসি সমমান পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। তার ইচ্ছা সে দাখিল পাশ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিড়িতে পা দেবে। কিশোরীটির মা শারমিন বেগমও সেরকম আশা করেন। তবুও বাবা-মা’র চোখে মুখে শুধুই শংকা-হতাশা । শিক্ষা গ্রহণ শেষে তারা তার মেয়েকে বিয়ে দিতে পারবেন তো ?

জানা যায়, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার জশিহাটি পশ্চিম পাড়ার একজন দরিদ্র কৃষক আতাহার আলীর ঘরে ১৯৯৭ সালে জন্ম নেয় তমা আক্তার। ১৭শতাংশ ভিটা আর সামান্য কৃষি ভূমি থেকে পাওয়া ফসল দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলে আতাহার আলীর সংসার। দরিদ্রতার কারনে আতাহার আলী ২ ছেলেকে তেমন পড়াশুনা করাতে পারেনি। তারা এখন পৃথক পৃথক

সংসার বেধেঁছে। ৩ কন্যার জেষ্ঠ ২ জনকে সাধ্যমত পাত্রস্থ করেছেন। কিন্তু কনিষ্ঠ তমার ভবিষ্যত নিয়ে তিনি মহা দূশ্চিন্তায়। পৃথিবীতে আগমনের দিন থেকেই তমা তার মুখয়াববের একপাশে দুরারোগ্য রোগ বয়ে নিয়ে বেড়ে উঠছে। বাম গালে অস্বাভাবিক ধরনের টিউমার আকৃতির মাংসপিন্ডটি বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বড় হচ্ছে । এতে তমার কথা বলা, খাদ্য গ্রহনেও সমস্যার শেষ নেই। এ রোগের কোন চিকিৎসা আছে কিনা তাদের জানা নেই ।

তমার মা শারমিন বেগম জানান ৫ বছর বয়সে তাকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসাপাতালে ৩মাস ভর্তি রাখা হয়েছিল কিন্তু কোন ফল পাওয়া যায়নি। ৬ বছর বয়সে সে পা পিছলে পড়ে গেলে টিউমারটি ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। প্রথমে তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে গজ ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা জাতীয় শিশু হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ভর্তি করতে না পারায় বর্হিবিভাগের চিকিৎসক তমাকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার উপদেশ দিয়ে ফেরত পাঠায়। দরিদ্র পিতা আতাহার আলীর পক্ষে তমাকে বিদেশে নেয়া সম্ভব হয়নি বলে তার আর কোন চিকিৎসা গ্রহণ হয়নি। দীর্ঘদিন চিকিৎসার হাল ছেড়ে দিলেও এখন তমার পরিণত বয়সের কথা মাথায় রেখে তার বাবা-মা তার চিকিৎসা করাতে চান।

কিন্তু পর্যাপ্ত টাকা পয়সা ও সক্ষম লোকবল না থাকায় তমার বাবা-মা বুঝতে পারছেনা তারা কি করবেন। তমার মা শারমিন বেগম দেশের বরেণ্য চিকিৎসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যদি কোন অর্থসক্ষম ব্যক্তি কিংবা সরকারি/বেসরকারি সংস্থা মেয়ের চিকিৎসায় এগিয়ে আসত তাহলে হয়তো তার মেয়েটির জীবন স্বার্থক হতো। অচেনা রোগে আক্রান্ত তমা বলেন, আমি সুস্থ হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চাই।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই