মেইন ম্যেনু

অতিরিক্ত যৌনমিলন কী মানুষকে সুখী করে?

মানুষের জৈবিক চাহিদার পূরণ তার সুখের কারণ হলেও খরগোশের মতো অতিরিক্ত যৌনমিলন কখনোই মানুষকে বেশি সুখী করতে পারে না। যেসব যুগল সপ্তাহে মাত্র একবার যৌন মিলন করেন তারাই সবচেয়ে বেশি সুখী বলে দাবি করা হয়েছে নতুন এক গবেষণায়।

বুধবার সোশ্যাল সাইকোলজিক্যাল এন্ড পার্সোনালিটি সাইন্সের জার্নালে প্রকাশিত হয় গবেষণাটি। গবেষণার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ইউনিভার্সিটি অব টরেন্টো মিসিসাউগার ফেলো এবং গবেষণার প্রধান লেখক অ্যামি মুইসি বলেন, আমাদের গবেষণায় এ বিষয়টিই উঠে এসেছে যে দম্পত্তিদের মধ্যে প্রতিদিন যৌনমিলন হওয়া আবশ্যক না। তবে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’

৩০ হাজার লোকের উপর জরিপ করে প্রকাশিত ওই গবেষণায় বলা হয়, অতিরিক্ত যৌনমিলনেই অতিরিক্ত সুখ দেয় এমন কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি গবেষণায়।

মুইসি এবং তার সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ থেকে ৮৯ বছর বয়সী ২৫ হাজারেরও বেশি লোকের উপর জরিপ চালান ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা অন্যান্য বিষয়ের সাথে কথা বলেন তাদের যৌন সম্পর্কের পরিমাণ নিয়ে। যেখানে কথা হয় একেবারেই যৌন মিলন করেন না এমন লোক থেকে শুরু করে সপ্তাহে চার বারের বেশি যৌন মিলন করেন এমন লোকেদের সঙ্গে । সেখানে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই সপ্তাহে গড়ে একবার যৌন মিলন করেন। এক্ষেত্রে যৌনমিলনের পরিমাণ এবং সুখের মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি গবেষকরা।

তবে সুখের জন্য টাকার চাইতে যৌনমিলন বেশি প্রয়োজন বলে দেখা গেছে গবেষণায়। ৩৩৫ জন লোকের উপর অনলাইনে করা এক জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয় তাদের বাৎসরিক আয় নিয়ে। সেখানে আয়ের তারতম্য এবং যৌনমিলনের পরিমাণের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে মুইসি বলেন, লোকজন মনে করেন বেশি টাকা এবং বেশি যৌনমিলন বেশি সুখী করে তবে সুখের ক্ষেত্রে টাকার চাইতে যৌনমিলনটা বেশি প্রয়োজন।

তৃতীয় এক জরিপে গবেষকরা কথা বলেন, দুই হাজার ৪০০ যুগলের সাথে। সেখানে অংশগ্রহণকারীদের যৌন মিলনের পরিমাণ এবং জীবনে সুখী হওয়ার মধ্যে কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি। সপ্তাহে একবার যৌনমিলন করা যুগলদের বেশি সুখী দেখা গেছে যেখানে অতিরিক্ত যৌনমিলনের কোনো বাড়তি সুবিধা দেখা যায়নি।

মুইসি বলেন, গবেষণাটিতে এমনটি বলা হয়নি যে, জীবনে সুখী হওয়ার জন্য যুগলদের যৌনমিলনের পরিমাণ কমিয়ে কিংবা বাড়িয়ে সাপ্তাহিক গড় পরিমাণে আসা উচিত। তবে তাদের যৌন চাহিদা নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলা উচিত।

তিনি বলেন, আপনার সঙ্গীকে চাপ না দিয়ে কিংবা যতো পারা যায় ততো যৌনমিলনে লিপ্ত না হয়ে উচিত হবে সঙ্গীর সাথে একটা ঘনিষ্ট সম্পর্ক রাখা।






মন্তব্য চালু নেই