মেইন ম্যেনু

অদৃশ্য সাপের কামড়ে দিশেহারা জায়েদপুরের মানুষ

অদৃশ্য সাপের দংশন আতঙ্কে ভুগছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর জায়েদপুর গ্রামের মানুষ। আতঙ্কে দিন পার করা মানুষের কেউ কেউ সাপে কেটেছে বলে দাবি করলেও দংশনের কোনো ক্ষত দেখাতে পারেননি। তারা বলছেন জিন সাপ বাতাসের মতো গায়ে পড়ে কামড় বসিয়ে চলে যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, এটি ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ (গণমানসিক অসুস্থতা)।

কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের জাহেদপুর ও আশেপাশের গ্রামের প্রায় হাজার খানেক মানুষ অদৃশ্য সাপ আতঙ্কে ভুগছেন। নারীদের মধ্যেই এ আতঙ্ক বেশি বিরাজ করছে। সম্প্রতি সাপের দংশনে একজন মারা গেলে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গ্রামবাসীর দাবী, এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষকে সাপে দংশন করেছে। এসব জিন সাপের কাজ। এ সাপ দেখা যায় না, বাতাসের মতো আসে। তারপর দংশন করে চলে যায়। সাপের কামড়ে মাথা ঘোরা, পায়ে জ্বালাপোড়া, বমি খিচুনি হয়।

এলাকাবাসীরা বলছেন, একমাত্র কবিরাজের মাধ্যমেই বিষ নামিয়ে সুস্থ হওয়া সম্ভব। সে কারণে এলাকার কবিরাজ বাড়িতে সাপের বিষ নামাতে গ্রামবাসী ভিড় করছে। সাপকে সন্তুষ্ট করতে পালাগানের আয়োজন করা হচ্ছে।

সাপে কাটা রোগী সাহেলা ও কবিতা জানান, ‘হঠাৎ করেই শরীরের যে কোন স্থানে মশার কামড়ের মতো অনুভব হচ্ছে। কিছু সময়ের মধ্যেই অসহনীয় জ্বালাপোড়া অনুভূত হচ্ছে। সেই সাথে শরীর ঝিনঝিন করা, মাথা ঘোরা ও চোখে অন্ধকার নেমে আসছে। সকলে বলছে সাপে কামড়েছে। কিন্তু সাপকে কামড়াতে তো দেখলাম না। আবার কবিরাজরা বলছে যে সাপে কামড়িয়েছে।’

এদিকে সাপের আতংকে গ্রাম ছাড়ার ঘটনাও ঘটেছে। অনেকেই বাড়িতে তালা লাগিয়ে সাপে কাটার ভয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। আতঙ্কে অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। খোদ জনপ্রতিনিধিরাও ব্যাপারটিকে বিশ্বাস করছেন ।

এলাকাবাসী শেফালী ও কফিলা খাতুন রাইজিংবিডিকে জানান, ‘চোখের সামনে সকলকে সাপে কাটতে দেখে আর কি বসে থাকা যায়। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছি। এই গ্রামে কোন সাপ দেখা যাচ্ছে না কিন্তু সাপে কামড়াচ্ছে। বলা তো যায় না কখন কাকে কামড়ায়।’

এলাকার ওঝা আমিনুদ্দিন ও আলিম উদ্দিন জানান, ‘আসলে এই গ্রামে আল্লাহর গজব পড়েছে। এ ছাড়া কিছুই বলার নাই। তবে অসুস্থ্য ব্যক্তিদের শরীরে হাত চালান দিয়ে বিষের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। ব্লেড দিয়ে শরীর কেটে বিষযুক্ত রক্ত বের করে দিচ্ছি এবং একটু তৈল-পানি পড়ে মাথায় দিয়ে দিচ্ছি তারা ভালো হয়ে যাচ্ছেন।

শিলাইদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন খান তারেক বলেন, ‘বিষয়টি আমিও শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আমি সেখানকার মানুষদেরকে ভীত না হওয়ার আহবান জানিয়েছি।’

আতঙ্ক, গুজব বন্ধে এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন গুজব বন্ধে এলাকায় সচেতনতামূলক কাজ করছে। এটাকে ‘গণমানসিক অসুস্থতা’ আখ্যায়িত করে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ চিকিৎসকদের।

কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. অনামিকা অধিকারী বলেন, ‘এটা আসলে কোন রোগ নয়। এটা মানুষের মাঝে একটা আতঙ্ক। কিছু মানুষ আছে যারা এ গ্রামে এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।’

এ ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার দুপুরে কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকুল উদ্দিন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিবুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় সচেতন জনসাধারণ প্রশাসনের প্রতি এসব গুজবের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মনের আতঙ্ক দূর করার উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই