মেইন ম্যেনু

অদ্ভূত পুতুল, ভেতরে মৃত মানুষের আত্মা!

মৃত মানুষের আত্মা নাকি পুতুলের শরীরে বাস করে! অদ্ভূত এমন এমন বিশ্বাস থাইল্যান্ডের মানুষের মাঝে। দেশটির ব্যাংককের পশ্চিম শহরতলীর সাওয়াং আরোম মন্দির ‘কুমান’ বা প্লাস্টিকের তৈরি শিশু পুতুলের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে।

এখানকার পুতুলগুলোর পরণে ঐতিহাসিক পোশাক আর তাদের হাতে রয়েছে সোনাভর্তি ব্যাগ। আর থাইবাসীরা এ মন্তিরে সারাদিন ধরে যাতায়াত করেন ও ধূপকাঠি জ্বালান এবং রঙচঙে পুতুলগুলোর কাছে নতজানু হয়ে সৌভাগ্য প্রার্থনা করেন।

ওই মন্দিরের ভিক্ষুরা বলছেন, তাদের পুতুলের সংগ্রহ প্রতিদিন বাড়ছে। স্থানীয়রা ওই পুতুলকে ডাকেন ‘শিশু পরী’ নামে, স্থানীয় ভাষায় লু-থেপ।

ভিক্ষু ফ্রা প্রাসিত ওয়ারাইয়ান সংবাদদাতা জনাথান হেডকে বলেন, থাইরা সাধারণত এই পুতুল নিজেদের সঙ্গে রাখে, তাকে পূজা করে ভাগ্যদেবতা হিসাবে। কিন্তু ভাগ্য খারাপ হলে সেই পুতুল তারা তুলে দেয় মন্দিরে ভিক্ষুর হাতে। কারণ তাদের ভয় ওই পুতুল ঘরে রাখলে ভাগ্য আরও খারাপ হতে পারে। তাই মন্দিরে ধীরে ধীরে পুতুলের পাহাড় গড়ে উঠেছে।

থাইল্যান্ডে সর্বত্রে দেখা যায় এই পুতুল। এই শিশু পুতুল নিয়ে মানুষ ঘরে-বাইরে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে ঘোরে। পুতুলগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করে তারা।

এ দেশটির নারীরা পুতুলগুলোকে খুব আন্তরিকতা নিয়ে পরিচর্যা করেন। তাদের নখে রং লাগানো থেকে শুরু করে তাদের চুল আঁচড়ে দেওয়া এবং গহনা দিয়ে তাদের সাজানো সবই চলছে এমন আড়ম্বরে যেন পুতুলগুলো জীবন্ত প্রাণী। যেন তাদের সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দর করে রাখা ও পরিচর্যা করার মধ্যে দিয়েই তারা পাবে ভাগ্যের সন্ধান।

অনেক থাই এই শিশু পুতুলকে নিজের শিশু জ্ঞানে যত্ন-আত্তি করে এবং বলে এই পুতুল যে তাদের সৌভাগ্য এনে দিয়েছে এমন প্রমাণ তাদের কাছে ভুরি ভুরি।

থাইদেরবিশ্বাস বড় বড় চোখের কিছুটা পশ্চিমা চেহারার এই পুতুলগুলো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। এই পুতুলগুলোতে জ্বীন ভর করে যে জ্বীন প্রসন্ন হলে তাদের ভাগ্য খুলে দিতে পারে।

লু-থেপে থাইদের বিশ্বাস, অনেক দিনের হলেও গত বছর থাইল্যান্ডে এই পুতুল নিয়ে মানুষের মাতামাতি তুঙ্গে ওঠে যখন কিছু তারকাকে দেখা যায় তাদের প্রিয় লু-থেপ পুতুল সব জায়গায় সঙ্গে নিয়ে তারা ঘুরছে। বিমানযাত্রা থেকে শুরু করে রেস্তোঁরা পর্যন্ত সর্বত্রে তাদের হাতে লু-থেপ। এমনকি বিত্তশালীদের দেখা যায় বিমানে পুতুলের জন্য তারা আলাদা টিকেটও কাটছেন।

তবে গত মাসে এই লু-থেপ বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। থাই একটি বিমান সংস্থা পুতুলের জন্য টিকেট বিক্রি করতে রাজি হলেও কিছুদিনের মধ্যেই বিমান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, লু-থেপ জীবন্ত কোনো প্রাণী নয়- সেটি মালামাল হিসাবে গণ্য হবে এবং তাকে মাল হিসাবে বহন করতে হবে। বহু থাই এটাকে তাদের বিশ্বাসের ওপর বড় ধরনের আঘাত বলে মনে করে। অনেকে বিমানে যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এক একটি পুতুল এক হাজার ডলারের বেশি দামে বিক্রি হয় থাইল্যান্ডে।

এই বিশ্বাস থাইল্যান্ডে শত শত বছরের পুরানো। বিশ্বাসীরা প্রাচীনকালে সত্যিকার মৃত ভ্রূণ শুকিয়ে তার ওপর রং করে এই লু-থেপ বা পুতুল তৈরি করতেন। মানুষ মনে করত এইভাবে তৈরি পুতুল অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এবং তার ভেতরের আত্মা অনেক কিছু করতে পারে। তাকে খাওয়ানো- পরানোও যেমন খুশি করার অধিকার সবার ছিল না।

কিন্তু এখন যেসব পুতুল লু-থেপ হিসাবে বিক্রি হয়, তার দাম-ভেদে রকমফের আছে। আর তার জন্য পোশাক-আশাক, সাজসজ্জা আর গয়নাগাঁটিও বিক্রি হয় নানা দামে। কাজেই এই ভাগ্য নির্ধারনী পুতুল এক এক পরিবারে একেক রকম আদর পেয়ে থাকে।






মন্তব্য চালু নেই