মেইন ম্যেনু

অনিশ্চয়তায় ৫০ বিলিয়ন ডলার!

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছর উদযাপন হবে আগামী ২০২১ সালে। ওই বছরই তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার আয় করতে চায় পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে বিনিয়োগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ পোশাক খাত সম্পর্কে অপপ্রচারই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, বিজিএমইএ ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের টার্গেট দিয়েছে গত বছর। ওই বছর পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ শতাংশ। যদিও ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের জন্য প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন ১৩ শতাংশ। এতে গত দুই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টার্গেট অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বিজিএমইএ। এভাবে প্রতিবছর টার্গেট থেকে পিছিয়ে গেলে ২০২১ সালে ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার আয় অনেকটাই অনিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন তারা।

প্রবৃদ্ধির এই ঘাটতির জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকেই দায়ী করে বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম বলেন, এ জন্য স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামের চার লেনের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সুবিধা বাড়াতে হবে। আর এসব হলেই কেবল ২০২১ সালে ৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার আয় সম্ভব হবে।

এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জে যে গার্মেন্টসপল্লি হচ্ছে, তা দুই থেকে চার বছরের মধ্যে স্থানান্তরিত করতে হলে গার্মেন্টস মালিকদের খরচ বেড়ে যাবে। যার প্রভাব এই টার্গেট অর্জনে পড়বে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমাদের এগোতে হবে বলে জানান শহিদুল্লাহ আজিম।

এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমান বিশ্ববাজারে অন্যান্য বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঘাটতি পূরণ করে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছা চ্যালেঞ্জ হবে।

তবে প্রবৃদ্ধি অর্জনে কিছু আশার বাণী শোনান এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, এই জন্য উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি আরো ভালো পণ্য রপ্তানি করতে হবে। কমপ্লায়েন্স লেভেলের উন্নয়ন করতে হবে। তৈরি পোশাক খাতে যে সংস্কার হচ্ছে বিদেশিদের কাছে এই ইতিবাচক বার্তাটি বেশি বেশি প্রচার করতে হবে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরো বলেন, পোশাক খাতের জন্য আরো বাজারের তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, জাপান, রাশিয়া এবং আফ্রিকাতে বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এ ছাড়া পোশাক তৈরির জন্য কাঁচামালে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন আইনি জটিলতা দূর করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

এদিকে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর আগে অপপ্রচার চালাচ্ছে আমেরিকান এবং ইউরোপীয় ক্রেতাদের দুটি জোট অ্যাকর্ড অ্যান্ড অ্যালায়েন্স, এমন অভিযোগ করে আসছে বিজিএমইএ এবং সরকার। এ দুটি সংগঠন এ দেশে কারখানার নিরাপত্তার বিষয়টি না দেখে কাজ করছে ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে। ফলে উঠে আসছে না এ খাতে উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, পোশাক রপ্তানিতে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা হলেও অসম্ভব না। তবে এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স যে অপপ্রচার চালাচ্ছে এটা সত্যি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কারখানাগুলো আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। এগুলো বেশি বেশি বিদেশে প্রচার করতে হবে। বিগত বছরগুলোতে পোশাক খাতে যে অগ্রগতি হয়েছে তা প্রচার করতে সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনকে (আইএলও) নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের আলাদা কিছু করে দেখাতে হবে; যাতে তারা অপপ্রচার চালাতে না পারে।’

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, ‘৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করতে হলে আমাদের দুটি বিষয়ের উন্নয়ন প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে স্থিতিশীলতা (যা আমাদের ইমেজ নষ্ট করছে), আরেকটি হচ্ছে অবকাঠামোগত উন্নয়ন।’ অবকাঠামোগত উন্নয়নে জ্বালানি-বিদ্যুৎ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবহণের জন্য প্রয়োজন বন্দর নির্মাণ।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই