মেইন ম্যেনু

‘অনিয়মের হেডকোয়ার্টার’ বেরোবি: আট বছরেও হয়নি একটি সিনেট সভা

বেরোবি সংবাদদাতা: নিয়মিত সিনেট সভা না হওয়া,গত উপাচার্য ও বর্তমান উপাচার্যের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অনিয়মের হেড কোয়ার্টার’ বলেছেন সিনেটের সম্মানিত সদস্য এবং লালমনিরহাট -১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোতাহার হোসেন।

সিনেটের সম্মানিত সদস্য হওয়ার পরও সিনেট অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে তাঁকে আহ্বান না করা এবং দীর্ঘদিন ধরে সিনেট সভা না হওয়ায় গত রবিবার ক্ষুব্ধ হয়ে এক মুঠোফোনে এ কথা বলেন তিনি।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ৮ বছর পেড়িয়ে গেলেও) তিন উপাচার্যের মেয়াদে অনুষ্ঠিত হয়নি সিনেট সভাও। গত উপাচার্যের মেয়াদ শেষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন নবী’র উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩ বছরেও আহ্বান করা হয়নি একটি সিনেট সভা। তবে আগামী মে-জুন মাসের দিকে সিনেট সভা আহ্বান করা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা যায়,বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গৃহীত এবং ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতির সম্মতিপ্রাপ্ত ২০০৯ সালের ২৯ নং আইন দ্বারা পরিচালিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৯(১) ধারা অনুযায়ী, সিনেট চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে,বৎসরে অন্যূন ০১(এক) বার, সিনেটের সভা অনুষ্ঠিত হইবে ; তবে শর্ত থাকে যে,সিনেট চেয়ারম্যান শিক্ষাবর্ষের যে কোনো সময় সিনেটের বিশেষ সভা আহ্বান করিতে পারিবেন।-বলা হলেও এর ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল জলীল মিয়া এবং বর্তমান উপাচার্য ড. একে এম নূর-উন নবী।

উল্লেখিত আইনের ২০ নং ধারা অনুযায়ী, ‘সিনেটের ক্ষমতা ও দায়িত্ব’ সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘(ক) সিন্ডিকেট কর্তৃক প্রস্তাবিত সংবিধি অনুমোদন,সংশোধন ও বাতিল করিতে পারিবে।’ (খ) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সিন্ডিকেট কর্তৃক পেশকৃত প্রস্তাব, বার্ষিক প্রতিবেদন, বার্ষিক হিসাব ও বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয়ের প্রস্তাব বিবেচনাক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।’

তবে ক্রমাগত কয়েক বছর ধরে সিনেট সভা না হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভেস্তে গেছে বলে মনে করেন অনেকেই। কী কারণে বর্তমান উপাচার্যের সময়ে ৩ বছরসহ ক্রমাগত ৮ বছর ধরে সিনেট সভা আহ্বান করা হয়নি তা জানা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু ছালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান (তুহিন ওয়াদুদ) গত রবিবার এক মুঠোফোনে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ বছর ধরে সিনেট হয় না।

সিনেট সভা না হওয়ার কারনে বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-সংবিধি ও প্রবিধি করবার জন্য সিনেটের প্রয়োজন হয়। স্বায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিনেট না হলে পরে সেখানে এগুলো অনুমোদন হয় না। আর এগুলো অনুমোদন না হলে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-সংবিধি ও প্রবিধি হওয়ার (প্রণয়নের) জন্য সিনেট (সভা) হওয়া খুবই জরুরী।’

প্রথম উপাচার্যের সময় সিনেট গঠন-ই হয়নি।আর ২য় ও ৩য় উপাচার্যের সময়ে (সিনেট গঠনের পর) একবারও সিনেট সভা আহ্বান করা হয় নি’ বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সচল রাখতে হলে বছরে অন্তত একবার সিনেট আহ্বান করা জরুরী। কিন্তু কোনোভাবেই কেউ সেটা কার্যকর করছেন না।সিনেট হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যা সমাধান হওয়ার সুযোগ ছিলো সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

সিনেট সভা না হওয়ার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান সমস্যা সরকারকে জানানো সম্ভব হচ্ছেনা বলেও তিনি মনে করেন।

সিনেটের একজন সম্মানিত সদস্য লালমনিরহাট-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বলেছি, আমাদের সিনেট সদস্য বানালেন কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলো কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো মিটিং নেই(অর্থাৎ আমাদের আহ্বান করলেন না)। তিনি বলেন আমি এটা দেখতেছি।’

এ সময় তিনি গত উপাচার্যের দুর্নীতি আর অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটা অনিয়মের হেড কোয়ার্টার।’

আরেক সম্মানিত সদস্য গাইবান্ধা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বেগম মাহবুব আরা বেগম গিনি রবিবার এক মুঠোফোনে বলেন, আমাকে (সিনেট সভায়) ডাকলে যাবো।এখন পর্যন্ত সিনেট সভা আহ্বানের ব্যাপারে তাঁকে চিঠি পাঠানো হয়নি বলেও জানান এই মাননীয় সাংসদ।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে এম নূর-উন নবীকে জিজ্ঞেস করলে সিন্ডিকেট না হওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা,অস্থিতিশীল পরিবেশ ও নানা জটিলতার কথা তুলে ধরেন। তবে ‘আগামী মে-জুন মাসের দিকে সিনেট সভা আহ্বান করা হবে’ বলে তিনি মুঠোফোনে জানান।






মন্তব্য চালু নেই