মেইন ম্যেনু

অনুমতি না পেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সমাবেশ

৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেলে দলীয় কার্যালয় রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে সমাবেশ করবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

আজ রবিবার বিকালে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন। সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সাথে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলন হয়।

হানিফ বলেন, ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য আ.লীগের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিলাম অনুমতির জন্য। অনুমতি দেয়া হয়েছে এমন চিঠি আমরা এখন পর্যন্ত ডিএমপির কাছ থেকে পাইনি। আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি ডিএমপি ৫ জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি কাউকে দিচ্ছে না। সেই বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পায় তাহলে আমরা আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবো। এছাড়াও ঢাকার ১৮টি স্পটে আমাদের ঢাকা মহানগরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে আনন্দ র‌্যালি ও জনসভা হবে।

বিএনপি ৩১ তারিখে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে এমন দাবিকে মিথ্যাচার উল্লেখ করে হানিফ বলেন, গতকাল গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে গতকাল (২ ডিসেম্বর, শনিবার) ডিএমপিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমরা গতকালই দেখলাম তারা আবেদন করলো আর কিভাবে এখন বলে তারা ৩১ তারিখ সমাবেশের অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এটা তাদের মিথ্যাচার।

এ সময় হানিফ দাবি করেন, তারা ৩১ ডিসেম্বর ডিএমপির কাছে অনুমতি চেয়েছেন। এসময় পাশ থেকে দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, ৩০ ডিসেম্বর তারা ডিএমপির কাছে অনুমতি চেয়েছেন। তখন হানিফও বলেন, আমরা ৩০ ডিসেম্বর সমাবেশের অনুমতি চেয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই দশম জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে এদেশে গণতন্ত্র সুসংহত হয়েছে। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। তাই আমরা মনে করি দশম জাতীয় নির্বাচন গণতন্ত্রের বিজয়। এ গণতন্ত্রের বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য এ দিবসটিতে আমরা প্রতিবছরই দেশবাসীকে নিয়ে আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে পালন করবো। আর সেভাবেই আমাদের কর্মসূচি রয়েছে। গতবছরও আমরা এমন উৎসব পালন করেছি, এবছরও করবো। ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এটা জন্য বিএনপি কবে কর্মসূচি দিল, পরে আমরা কর্মসূচি দিয়ে গোলযোগ বাদিয়েছি সেটা যদি বিএনপি বলে থাকে, তাহলে তারা মিথ্যাচার করছে।

হানিফ বলেন, আ.লীগ কখনও দেশে গোলযোগ সৃষ্টি করে অশান্তি তৈরি করতে চায় না। কারণ এখন আ.লীগ ক্ষমতায় আছে। আমরা কেন গোলযোগ করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবো? এটাতো দেশের জনগণ দেখেছে বিএনপি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

দুই দল যদি একই সময়ে সমাবেশ করে তখন কোনো সংঘর্ষের আশঙ্কা করেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপি মাঠে নামবে কি নামবে সেটা তাদের বিষয়। এর আগে মায়া ভাই (ঢাকা মহানগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক) একবার বলেছিলেন বেশি লাফালাফি করবেন না, পরে হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি সে কথা বলতে চাই না। বিএনপিকে বলবো, দশম জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা যে ভুল করেছিল এবং অন্যায় করেছিল তার জন্য তারা গণতন্ত্র হত্যা দিবস নয়, অনুতপ্ত দিবস পালন করা উচিত। তাহলে জাতি হয়তো তাদের সহায়তা করতে পারে।

হানিফ বলেন, ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবসের নামে গতবছর বিএনপি যে ৯০ দিনব্যাপী সহিংসতা করেছিল, বেগম জিয়া যদি ভাবেন গতবছরের ন্যায় এবারও সন্ত্রাসীও নাশকতামূলক কর্মকান্ড করবেন। গতবার যেভাবে জনগণ তাকে সমুচিত শিক্ষা দিয়েছিল এবারও তার চেয়ে কঠোর সমুচিত শিক্ষা দেবে জনগণ। সেই সঙ্গে আছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের দলীয় কোনো পরিকল্পনার দরকার নেই।

৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের দিনকে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ আখ্যা দিয়ে ওইদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে একইদিনে ওই স্থানেই সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দুই দলই ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে অনুমতি চেয়েছে। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তারা কোনো দলকেই সমাবেশের অনুমতি দেবে না। এ ব্যাপারে ডিএমপির সিদ্ধান্ত আজ বিকালে জানানোর কথা রয়েছে।

এর আগে দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন, ঢাকা মহানগর আ.লীগের ভারাপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহা উদ্দিন নাছিম, আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আইন বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরু, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আবদুল মান্নান খান, তথ্য সম্পাদক আফজাল হোসেন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই