মেইন ম্যেনু

অন্তর্বাস খুলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিতে হলো পরীক্ষার্থীদের!

মেডিকেল ভর্তির পরীক্ষা দিতে গিয়ে আজব এক নির্দেশের মুখে পড়তে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢোকার আগে কোনো নারী পরীক্ষার্থীদের কাউকে খুলতে হয়েছে অন্তর্বাস, কাউকে জিনসের প্যান্ট বদল করতে হয়েছে আর কাউকে বা প্যান্টের ধাতব বোতাম ও কানের দুল খুলতে হয়েছে। হয়রানির শিকার হয়েছেন পুরুষ পরীক্ষার্থীরাও।

ভারতে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইইটি) নামে মেডিকেল ভর্তির পরীক্ষার সময় গতকাল রোববার কেরালার কুন্নুর জেলায় এই ঘটনা ঘটে। সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের (সিবিএসই) পরিচালনায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আজ সোমবার ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, কেরালার কুন্নুর জেলায় টিস্ক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কেন্দ্রে এমন উদ্ভট নির্দেশে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন নারী পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষা কেন্দ্র কোনো ধাতব পদার্থ নিয়ে ঢোকা যাবে না—এমন নির্দেশের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী পরীক্ষার্থী বলেন, কন্নুর জেলার পায়ানুরের কুনহিমঙ্গলাম এলাকার টিস্ক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে তাঁর পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল। পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার আগে পোশাকে ধাতব হুক থাকায় মেটাল ডিটেক্টরে তা ধরা পড়ে। এ কারণে নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে পোশাক বদল করতে বলেন। পোশাক বদল করতে বাধ্য করা হয় তাঁকে।

রেণুকা নামের এক পরীক্ষার্থীর মা বলেন, ‘এটা খুবই অমানবিক। পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢোকার আগে আমার মেয়েকে তাঁর ওপরের অংশের অন্তর্বাস খুলতে বাধ্য করা হয়েছে। পরীক্ষা দিতে হবে, তাই বাধ্য হয়েই সে তা খুলে পরীক্ষার হলে ঢুকেছে। আমি একজন শিক্ষক, তাই তরুণ-তরুণীদের মানসিকতাটা বুঝতে পারি। এ ঘটনা অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলেছে। এ ব্যাপারে আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব।’

আরেক পরীক্ষার্থীর বাবা রাজেশ নামবিয়ার বলেন, তাঁর মেয়ে জিনসের প্যান্ট পরে এসেছিলেন। সেই প্যান্টে ধাতব বোতাম থাকায় তা বদল করেই তাঁকে পরীক্ষার কেন্দ্র ঢুকতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেক মেয়ে লম্বা হাতার জামা পরে এসেছিলেন। পরীক্ষার কেন্দ্রে ঢোকার আগে সেই জামার হাতা কাঁচি দিয়ে কেটে ছোট করে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রের ফটকের আশপাশে কোনো প্রসাধন কক্ষও ছিল না। এ অবস্থায় আমাকে অন্তর্বাস খুলতে বলা হয়। পরে উপায় না পেয়ে সেখানেই কোনোমতে সেটি খুলে বাইরে অপেক্ষায় থাকা মায়ের হাতে দিই। এটা খুবই অপমানজনক একটি ঘটনা।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রোববার দেশের শতাধিক শহরে অভিন্ন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের সামনে অসংখ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এই পরীক্ষায় গাঢ় রঙের পোশাক, ফুল হাতা শার্ট, বড় বোতাম, ধাতব বোতাম ও হুক নিষিদ্ধ করা হয়।

হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের সদস্য জে প্রমীলা দেবী নিন্দা জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কাছেও তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে রাজ্য মানবাধিকার কমিশন একটি মামলা দায়ের করেছে। সেখানে সিবিএসই’র আঞ্চলিক পরিচালককে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই