মেইন ম্যেনু

অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রী রোক্সনার

শহরে দালালের পাল্লায় পড়ে অনুমোদনহীন নাফ ক্লিনিকে ডাঃ দেবদুলালের দুই বার অপারেশনে অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল আশাশুনির মেধাবী ছাত্রী রোক্সনা খাতুনের (১৪)। শনিবার রাত ৯টায় সদর হাসপাতালের পূর্ব পার্শের নাফ ক্লিনিকে পেটে প্রচন্ড খিচুনি উঠায় ঐ কিশোরীর মৃত্যু হয়। রেক্সোনা খাতুন আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের নুরুল শেখের মেয়ে ও গদাইপুর জেহের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় কয়েকজন নেতার চাপে মেয়ে পিতা কোথাও অভিযোগ দাখিল করতে না পেরে মেয়ের লাশ নিয়ে চলে যায়। অন্যদিকে ডাঃ দেবদুলাল সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য গতকাল দিনভর বিভিন্নভাবে দেনদরবার করতে থাকে।

নিহত রেক্সোনা খাতুনের পিতা নুরুল শেখ জানায়, গত ২৩ জুলাই পেটে ব্যথার কারণে মেয়েকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় ক্লিনিকের দালাল আশাশুনি উপজেলার খাজরার বোরহান উদ্দীন বুলু কম খরচে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে অনুমোদনহীন শফিকুল ইসলাম ও শাহাজান হোসেনের মালিকানাধীন নাফ ক্লিনিকে ২৪ জুলাই ভর্তি করে। ক্লিনিকের মালিক শফিকুল ইসলাম পরদিন ক্লিনিকের নিচে নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলে রেক্সোনার পেটের নাড়ী উল্টে আছে, পেটের নাড়ীতে ছিদ্র হয়েছে। ফলে দ্রুত অপারেশন করতে হবে। এই বলে ২৬ জুলাই ডাঃ দেবদুলালকে ডেকে রেক্সনার অপারেশন করায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। আর এ জন্য খরচ দিতে হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এসময় তিনি তড়িঘড়ি করে অপারেশন করায় অপারেশন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে পেটের ব্যথা কমেনি রেক্সোনার। অপারেশনে ত্রুটি হওয়ায় ২৯ জুলাই একই ক্লিনিকে পুনরায় অপারেশন করেন দেবদুলাল। কিন্তু সেখানে অপচিকিৎসা হওয়ায় প্রচন্ড রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে। গত শনিবার রাতে প্রচন্ড খিচুনি হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রেক্সোনা। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ক্লিনিকের মালিক, ডাক্তার-নার্সরা পালিয়ে যায়।

সূত্র জানায়, নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমের লাইসেন্স না থাকলেও একই ভবনের তিন তলায় নাফ ক্লিনিকের নামে অবৈধভাবে ক্লিনিক কার্যক্রম চালানো হত। বোরহার উদ্দিন বুলুর নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী দালাল চক্র হাসপাতাল থেকে গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল মানুষকে তাদের ক্লিনিকে বিভিন্ন সময়ে ভর্তি করাতো।

অন্যদিকে, ঘটনার পরপরই নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নাফ ক্লিনিক শফিকুল ইসলাম ও শাহাজান হোসেন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে মেয়ের লাশ নিয়ে গ্রামে ফিরে গেছেন অসহায় নুরুল শেখ। তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের দিয়ে। গতকাল ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, একজন আয়া ছাড়া ক্লিনিকে কেউ নেই। তিনি নাম প্রকাশ না করে জানান, ক্লিনিকে আমরা ভর্তি করতে চাই নি। কিন্তু বোরহার উদ্দিন বুলু জোর করে ভর্তি করেছে। সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় ডাঃ দেবদুলাল তার অপারেশন করেছে। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় শনিবার সে মারা যায়।

এ ব্যাপারে নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ও নাফ ক্লিনিকের মালিক শফিকুল ইসলাম অনুমোদনহীনের কথা স্বীকার করে বলেন ভিন্ন রোগের কথা। তিনি বলেন, রোগীর শরীরে টিউমার ছিলো। খাদ্য নালী বের করতে হতো। ডাক্তার বের করার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়। এ বিষয়ে ডাঃ দেবদুলাল মোবাইলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পরে বলেন আমি রোগী রোগী দেখছি। আপনার সাথে পরে কথা বলল।






মন্তব্য চালু নেই