মেইন ম্যেনু

অফিসে কাজের সময়ে ঘুম পেলে যা করবেন

অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন, হঠাৎ লক্ষ্য করলেন ঘুমে আপনার চোখ জড়িয়ে আসছে। আবার রাতে ঠিকমত ঘুম হয় নি, ফলে সকালেই রাজ্যের ঘুমে আপনার চোখ ভারী করে তুলছে। অনেকে তো আবার অফিসেই ঘুমিয়ে পড়েন, যা কর্মক্ষত্রে একজন মানুষের দায়িত্বশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কিন্তু কেন এমন হয়? কী বলছেন ভুক্তভোগীরা, চলুন এ বিষয়ে গবেষণার ফলাফল দেখে নেই।

আমেরিকার কর্মচারী-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি ৩টি প্রতিষ্ঠানের ১১৩৯ কর্মচারীর উপর একটি গবেষণা চালিয়েছেন। গবেষক Jennifer Turgiss খুঁজে পেয়েছেন মূলত চারটি কারণে মানুষ রাতে শান্তিমত ঘুমাতে পারে না। তা হল চিন্তা বা চাপ, শারীরিক অস্বস্তি, পরিবেশগত ব্যাঘাত এবং বিভিন্ন মানসিক সমস্যা।

National Sleep Foundation (NSF)

অন্য একটি রিপোর্টে উল্লেখ করে যে ২৯ ভাগ মানুষ কাজের সময় ঘুমিয়ে পড়িয়ে বা কাজের সময় প্রচণ্ড তন্দ্রা বোধ করে। আবার ৩৬ ভাগ মানুষ গাড়ি চালানোর সময় ঘুম সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ে।

আসুন কেন মানুষ রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারে না, এ সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল জেনে নেই।

৮৫.২ % মানুষ বলেছেন তাদের ঘরের তাপমাত্রা খুব বেশি অথবা কম কম ছিল যার ফলে ঠিকমত ঘুমানো সম্ভব না।

৭১.৯% মানুষ বলেছেন তারা তাদের সঙ্গীর ঘুমগত সমস্যার কারণে ঠিকমত ঘুমাতে পারেন নি।

৬৮.৬% মানুষ উল্লেখ করেছেন শব্দগত সমস্যার কথা।

৫২.8% মানুষ দায়ী করেছে উজ্জ্বল আলোকে।

৪০% মানুষকে সমস্যায় ফেলেছে তাদের ম্যাট্ট্রেস বা গদি।

৩৫.৯% মানুষ বলেছেন তাদের সন্তানেরা ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

১০.২% ভাগ মানুষ উল্লেখ করেছেন তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো ছিল না।

Jennifer Turgiss

অফিসে ঘুম সংক্রান্ত গবেষণার নেতৃত্বে থাকা এই গবেষক এ প্রসঙ্গে বলেন, “অতিরিক্ত ক্লান্তি মানুষের চাপ নেওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়। এটা কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যেমনঃ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়, মনোযোগকে নাড়িয়ে দেয়, ধৈর্যশক্তি কমিয়ে দেয় এমনকী সহকর্মীদের সাথে কলহও সৃষ্টি হতে পারে।”

কর্মক্ষেত্রে ঘুমিয়ে পড়া খুবই বিব্রতকর একটি অভিজ্ঞতা। রাতে নিয়মিত ঘুম হলে, এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

গবেষকরা এ বিষয়ে পরমর্শ দেন তা হল-

– শরীরচর্চা এবং পার্কে নিয়মিত হাঁটাহাঁটির অভ্যাস করতে হবে।

– অফিসে কয়েক ঘণ্টা কাজের পরে একটু বিশ্রাম নেওয়া উচিত। এ সময়ে অফিস প্রাঙ্গনে একটু হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

– স্বাস্থ্যকর ডায়েট শরীরে যোগাবে প্রয়োজনীয় শক্তি, যা ক্লান্তিকে কমিয়ে দেবে।

– ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় দেখা গেছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড – রাতে ভালো ঘুম হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ।

– এছাড়া ঘুমানোর সময় টেলিভিশন দেখা, ল্যাপটপে কাজ করা, ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

সুত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া






মন্তব্য চালু নেই