মেইন ম্যেনু

অবশেষে ওস্তাদের যাবজ্জীবন!

একটি বাঘকে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ওস্তাদ নামে বাঘটির বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, এটি বিনা উসকানিতে মানুষ শিকার করে। মানুষ খেকো বাঘটিকে সারাজীবন আটকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ভারতের প্রধান বিচারপতি টিএস ঠাকুরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ শুনানি শেষে বাঘটিকে ‘মানুষ খেকো’ ঘোষণা দেন। ভারতের বন্যপ্রাণী আইনে এ ধরনের বাঘ মানুষের বিচরণ আছে এমন কোনো স্থানে বা তার আশপাশে থাকতে পারবে না। ফলে বাঘটির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন দণ্ড দেন আদালত।

রাজস্থানের রানথামভোর ন্যাশনাল পার্কের চিড়িয়াখানায় থাকা অবস্থায় ওস্তাদ গত পাঁচ বছরে চার ব্যক্তিকে শিকার করেছে। চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদরা বাঘটিকে রানথামভোর পার্কের চিড়িয়াখানা থেকে সরিয়ে অন্য কোথাও আটকে রাখার জন্য আদালতের স্মরণাপন্ন হন। আদালতে হাজির করা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ওস্তাদকে সারা জীবন আটকে রাখার নির্দেশ দেন বিচারপতিরা।

আদালতের নির্দেশে রানথামভোর ন্যাশনাল পার্ক থেকে ওস্তাদ নামের বাঘটিকে রাজস্থানেরই সাজাঙ্গড় জুওলজিক্যাল পার্কে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে। নির্বাসন বলতে জুওলজিক্যাল পার্কে বাকি জীবন খাঁচায় বন্দি অবস্থায় কাটাতে হবে ওস্তাদকে।

ওস্তাদের দণ্ডের বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদ অজয় দুবে। তার পক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট ইন্দিরা জয়সিং। ওস্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জয়সিং বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বশে ওস্তাদ মানুষ খেয়েছে, এর কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী নেই। কেউ কেউ বাঘটিকে মৃত মানুষের পাশে থাকতে দেখেছে। কিন্তু তারা বলতে পারেনি, ওই মানুষকে ওস্তাদই মেরেছে এবং খেয়েছে। তবে আদালত পাল্টা প্রশ্ন করে ওস্তাদের পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য নাকোচ করে দিয়েছেন।

ভারতের বন্যপ্রাণী আইনে বলা হয়েছে, বিনা উসকানিতে স্বভাবগতভাবে কোনো প্রাণী মানুষের ক্ষতি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তবে প্রাণীকে আক্রমণ করলে বা উত্তেজিত করলে ওই প্রাণী মানুষের ক্ষতি করলে, তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে ওস্তাদ নামের বাঘটি আদালতে দোষী প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত বাঘটির আরেকটি নাম টি-২৪। কাগজপত্রে টি-২৪ নাম হলেও লোকমুখে এটি ওস্তাদ। রানথামভোর পার্কের দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ থাকে ওস্তাদ। তার হুংকার, মেজাজি চলাফেরা দর্শনার্থীদের বিনোদন দেয়। কিন্তু সবশেষ এ মাসেই এক ব্যক্তিকে আক্রমণ ও হত্যা করায় পার্ক কর্তৃপক্ষ তাকে আর রাখতে চায় না।






মন্তব্য চালু নেই