মেইন ম্যেনু

অবশেষে মায়ের কোলে ফিরে এলো সেই শিশু জুনায়েদ

পুত্রসন্তান জুনায়েদকে হারিয়ে মায়ের বিলাপে ভারী হয়ে উঠেছিল খুলনা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের গাইনি বিভাগের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ। গতকাল সেখানেই বইল খুশির বন্যা। নাড়িছেঁড়া ধনকে ফিরে পেয়ে মায়ের মুখে চওড়া হাসি। সেই হাসিতে উদ্ভাসিত উপস্থিত অন্যরাও।

চুরি যাওয়ার এক দিন পর গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবজাতক জুনায়েদকে উদ্ধার করেছে খুলনা সদর থানা-পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যান এক নারী।

খুলনার রূপসা থানার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের গৃহবধূ সানজিদা আক্তারের গত মঙ্গলবার সকালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ সন্তান হয়। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। তাদের নাম রাখা হয় জুনায়েদ ও জোবাইদা। এর মধ্যে জুনায়েদ চুরি হয়।

জুনায়েদকে চুরির ঘটনায় নাসিমা বেগম ওরফে শাবানা (৩৮) ও আবদুল মান্নান (৪৮) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দাবি, তাঁরা দুজনে স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের বাড়ি বরিশালের আমতলার পালগ্রামে। খুলনায় ভাড়া থাকেন রূপসার আইচগাতির মন্টুর বাড়িতে।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল বেলা পৌনে একটার দিকে খুলনা নগরের খানজাহান আলী রোডের শান্তিধাম মোড়ে অবস্থিত মেডিপ্যাথ ডায়াগনস্টিক কনসালট্যান্ট সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক থেকে জুনায়েদকে উদ্ধার করা হয়।

মেডিপ্যাথ ক্লিনিকের ইনচার্জ ও চিকিৎসক নাসির উদ্দীন বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার দিকে নাসিমা নবজাতকটি নিয়ে ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁকে ২০৭ নম্বর কক্ষে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গতকাল সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফাইল দেখতে গিয়ে জানতে পারেন, নাসিমা কোনো ওষুধ কেনেননি। কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজেকে গরিব দাবি করেন। তা ছাড়া প্রথমে বলেন, তাঁর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। কিন্তু পর মুহূর্তেই বলেন অস্ত্রোপচার হয়েছে। পরে চিকিৎসক ব্যান্ডেজ পরীক্ষা করতে গেলে নাসিমা কিছুতেই তা পরীক্ষা করাতে চাইছিলেন না। তখন ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ নিশিকান্ত সরকার চিকিৎসককে বলেন, বৃহস্পতিবার জেনারেল হাসপাতাল থেকে একটি নবজাতক চুরি হয়েছে। এতে সন্দেহ জোরালো হয়। তখন দায়িত্বরত নার্স নাসিমার ব্যান্ডেজ খুলে দেখতে পান সেখানে কাটাছেঁড়ার কোনো চিহ্ন নেই। এরপর নাসিমা স্বীকার করেন যে সন্তানটি তাঁর না। দাবি করেন, একজনের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় কিনেছেন। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

চিকিৎসক নাসির উদ্দীন বলেন, পুলিশ ক্লিনিকে এসে নাসিমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। পরে তাঁর স্বামী আবদুল মান্নান ক্লিনিকে খাবার নিয়ে এলে তাঁকেও পুলিশে দেওয়া হয়। তিনিও প্রথমে নিজেকে নবজাতকটির বাবা দাবি করেন। কিন্তু সন্তানের জন্ম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন।

গতকাল বিকেল চারটার দিকে সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে সানজিদা বেগমের কোলজুড়ে রয়েছে দুই সন্তান। তিনি বলেন, ‘আমার বাবু আমার কোলে ফিরে এসেছে। মা হিসেবে এর চেয়ে খুশি আর কী হতে পারে! আপনারা সবাই ওদের জন্য দোয়া করবেন।’

জানতে চাইলে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাসিমা ও মান্নান শিশুচোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাঁদের থানাহাজতে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আজ শনিবার আদালতের কাছে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।’

হাসপাতাল থেকে সন্তান চুরির ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীকে আসামি করে বৃহস্পতিবারই সদর থানায় মামলা করেন জুনায়েদের বাবা।






মন্তব্য চালু নেই