মেইন ম্যেনু

অবশেষে মুক্তি পেলেন মেয়র বুলবুল

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : অবশেষে মুক্তি পেলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বুধবার দুপুরের পরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এবারে দায়িত্ব পেতে অপেক্ষায় রয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দুই মাস ১৮ দিন কারা ভোগের পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।

উচ্চ আদালত থেকে সদ্য জামিন পাওয়া দু’টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় রোববার রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানিতে তিনি জামিন পেলে বুধবার কারাগার থেকে মুক্ত করা হয় তাকে। মুক্তি পেয়ে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রথমে হেতেম খাঁ গোরস্থানে যান বাবা-মার কবর জিয়ারত করতে। এরপরে তিনি সোজা বাড়িতে যান।

সম্প্রতি সব মামলায় জামিন পান তিনি। উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া সর্বশেষ দু’টি মামলায় জামিনের কাগজ বৃহস্পতিবার রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো।

কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো চিঠির কারণে কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালত থেকে সদ্য জামিন পাওয়া দু’টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় আগামী রোববার (২৯ মে) রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানি রয়েছে। সেই শুনানি শেষে জামিনের কাগজপত্র কারাগারে এসে পৌছালে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান তার জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মেয়র বুলবুলের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রইসুল ইসলাম বলেন, গত ১৩ মার্চ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ৯ মামলায় জামিনের আবেদন জানিয়ে রাজশাহীর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজশাহীর আদালত থেকে ৭টি মামলা ও উচ্চ আদালত থেকে দু’টি মামলায় জামিন লাভ করেন।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সর্বশেষ দু’টি মামলার জামিনের আদেশ বৃহস্পতিবার বিকেলে কারা কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছে। কিন্তু সন্ধ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকেও চিঠি আসে। এতে বলা হলেছিলো বৃহস্পতিবার মেয়র বুলবুলের জামিনের বিপক্ষে আদালতে আপিল করা হয়েছে। যার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে রোববার বেলা ১২টায়। তাই বুলবুলকে সেইদিন মুক্তি দেয়া যায়নি। সেই শুনানীতেও বুলবুল জামিন পাওয়ায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার উচ্চ আদালতে দু’টি মামলায় পাওয়া জামিনের আদেশ বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এর মধ্যে সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বাড়িতে হামলা ও সাহেব বাজার এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের মামলাটি রয়েছে। কিন্তু বিস্ফোরক মামলায় জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। রোববার এর শুনানি হয়। সেখানেও জামিনে পায় বুলবুল।

এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিএনপি জোটের অবরোধ-হরতাল চলকালে মোট ৯টি মামলার আসামি করা হয় রাসিকের নির্বাচিত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এর মধ্যে ৪টি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। মামলাগুলোর মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ হত্যা মামলাও রয়েছে। তবে সে মামলায় বুলবুল আগে থেকেই জামিনে রয়েছেন।

একের পর এক মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক ছিলেন বুলবুল। গত বছরের ৭ মে পলাতক থাকা অবস্থায় তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের এ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গত ১০ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি এমদাদুল হক ও বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়ার যৌথ বেঞ্চ বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশ অবৈধ বলে ঘোষণা করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ মার্চ তিনি রাজশাহীর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। এরপর থেকেই রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন মেয়র বুলবুল।






মন্তব্য চালু নেই