মেইন ম্যেনু

অবৈধ রোহিঙ্গাদের বিয়ের টার্গেটে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) থেকে: সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়ায় আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে মিয়ানমারের অবৈধ অধিবাসী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী যুবক-যুবতীদের বিয়ে। অসম এ বিয়ে থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এক শ্রেণীর অসাধু জনপ্রতিনিধি ও কাজীদের সহযোগিতায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিঘেœ অবৈধ রোহিঙ্গা যুবক-যুবতীদের সাথে স্থানীয়দের বিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৮ ইং থেকে পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা এই দেশে বানের পানির মত প্রবেশ করতে থাকে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তে রক্ষিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশ করা এই সব রোহিঙ্গারা শরণার্থীর মর্যাদা নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ নয়াপাড়া, মুছুনি, কুতুপালং, খুনিয়াপালং, হলদিয়া পালং, জুম্মা পাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহন করে। পরবর্তীতে দুদেশের কুটনীতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গা স্বদেশ ফিরে গেলেও এখন ও প্রায় ২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা টেকনাফ নয়াপাড়া, উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করছে। এছাড়া ও প্রায় ৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা কক্সবাজার, টেকনাফ, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়িয়া সবুজ বনায়ন ধ্বংসপুর্বক জবর দখল করে বসাবাস করে আসছে। ওই সব রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে ইউএনএইচসিয়ার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়ে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ও বাংলাদেশী পরিচয়ে ভুয়া আইডি কার্ড সৃজনের মাধ্যমে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় এবং সরকারি বনভূমি দখল করে অবৈধ ভাবে বসবাস করে আসছে তারা।

বাংলাদেশ সরকারের ২০১৪ সালে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা-বাঙ্গালী বিয়ে নিষিদ্ধ করে উপজেলা প্রশাসন গুলোকে সর্তক করে এবং রোহিঙ্গা-বাঙ্গালী বিয়ের সাথে জড়িতদের শাস্তির বিধান করা হলেও সেই আইনকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশী মেয়েদের সাথে গোপনে রোহিঙ্গাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের অবস্থানরত আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া রোহিঙ্গারা বিশেষ করে উখিয়ার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের বিয়ে করার মিশনে নেমেছে। বিদেশ থেকে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের পাশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের অজ্ঞতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে টাকার প্রলোভন এবং পরিবারের সদস্যদের বিদেশ নিয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের বিয়ে করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তারা যেকোন বিনিময়ে শিক্ষিত মেয়েদের বিয়ে করার জন্য টার্গেট করে অভিভাবকদের দ্বারা ওই সব সচেতন শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এসব করা হচ্ছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে। এছাড়াও রোহিঙ্গারা টাকার বিনিময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নকল আইডি কার্ড ও জন্ম সনদ পত্র তৈরি করে বিয়ে নিবন্ধনেরও চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মনুষ্যত্বহীন বাংলাদেশী অভিভাবকরা বিয়ে নিবন্ধন করতে না পারলে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছে।

উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিন মারা গ্রামের শাহীনা আক্তারকে বিয়ে করা প্রবাসী রোহিঙ্গা মোঃ মুজিব জানান, প্রবাস থেকে এসে শাহীনাকে বিয়ে করে বর্তমানে শ্বশুরের জমিতে স্থায়ী ভাবে বসাবাস করছেন এবং তিনি মিয়ানমার থেকে তার পুরো পরিবারকে নিয়ে এসেছেন।

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও রোহিঙ্গা নিয়ে কাজ করা এনজিও হেলপ কক্সবাজার এর নির্বাহী পরিচালক আবুল কাসেম এম এ, তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আইনকে তোয়াক্কা না করে মিয়ানমার থেকে বিদেশ যাওয়া রোহিঙ্গারা উখিয়ার বিশেষ করে কুতুপালং এলাকার অভিভাবকদের প্রলোভনে ফেলে স্কুল-কলেজ ছাত্রীদের অমতে বিয়ে করে বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়ার পায়তারাকারী রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশী অভিভাবকদের চিহ্নিত করে কঠোর হাতে দমনের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহব্বান জানান। অন্যথায় স্কুল কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীরা রোহিঙ্গাদের কবলে পড়ে অকালে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হতে পারে।

উখিয়ার কাজী অফিসের বিয়ে নিবন্ধনকারী মোঃ হারুন জানান, অনেক মায়ানমার প্রবাসী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশী স্কুল কলেজ ছাত্রীদের সাথে নকল জাতীয় পরিচয় পত্র, জন্ম নিবন্ধন নিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করতে আসলেও উখিয়া কাজী অফিসে বিয়ে নিবন্ধন করেন না এবং প্রশাসনকেও এইসব বিয়ের ব্যাপারে অবহিত করেন না বলে জানান।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাঈন উদ্দীন জানান, উপজেলা প্রশাসন রোহিঙ্গা বাংলাদেশী নিষিদ্ধ বিয়ে বন্ধে বদ্ধ পরিকর। নিষিদ্ধ রোহিঙ্গা বাংলাদেশী বিয়ের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই