মেইন ম্যেনু

অমঙ্গল দূর করতে কুকুরের সাথে বিয়ে!

১৭ বছর বয়সী মেয়েটির ওপর অপবাদ ছিল গ্রামে যত অমঙ্গল সবই নাকি তার কারণে। তাই গ্রামবাসীর ইচ্ছেয় অমঙ্গল দূর করতে রাস্তার কুকুর শেরুকে বিয়ে করেছিল ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা মঙ্গলি মুণ্ডা। গ্রামবাসীর বিশ্বাস ছিল, এই বিয়ের পরই অমঙ্গল কেটে গিয়ে সুদিন ফিরবে তাদের।

২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে আবার সামনে নিয়ে এসেছেন বিশ্বের নারীরা। স্কুপহুপ নামে একটি বিশ্বব্যাপী জরিপ সংস্থার জরিপ অনুযায়ী গত বছরে বিশ্বে সবচাইতে আলোচিত খবর এটিই। গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নারী স্বাধীনতার ওপর বিশ্বব্যাপী পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে আবারও উঠে এসেছে গত বছরে ভারতের আলোচিত এই ঘটনা।

স্কুপহুপের জরিপ অনুযায়ী ভারতের ঝাড়খণ্ডের এই ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের পরই অমঙ্গল কেটে গিয়ে গ্রামবাসীর সুদিন ফেরার খবর দিতে পারেননি কেউই। তবে আলোচিত এই বিয়ের পর স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ভাগ্য ফিরে গিয়েছিল কিশোরী মঙ্গলির। পরের বছরই ঝাড়খণ্ডের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। বর্তমানে ইয়র্কশায়ারে বেশ সুখের সংসার তাঁর।

মঙ্গলির বাবা শ্রী আমনমুণ্ডা জানান, ২০১৪ সালে ঝাড়খণ্ডে খরা চলছিল। দুই বছরব্যাপী ওই খরার সময়ে গ্রামের এক পুরোহিত বলেন, মঙ্গলির কারণেই গ্রামবাসীর জীবনে নেমে এসেছে দুঃসময়।

অপদেবতার প্রভাব আছে মঙ্গলির ওপর। তাই অশুভ শক্তি দূর করতে গ্রামবাসীর নির্দেশে রাস্তার কুকুর শেরুর সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। প্রথমে বিয়েতে ইতস্তত করলেও শেষ পর্যন্ত খুশি মনেই বিয়ে করেন মঙ্গলি। পুরোহিত বলেছিলেন, এই বিয়ের ফলে তাঁর স্বামী দীর্ঘায়ু পাবেন।

মঙ্গলির মা সীমা দেবী জানান, কুকুর হলে কী হবে, শেরুর সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়েতে কোনো কিছুর কমতি রাখা হয়নি। ৭০ জনের বেশি লোক খেয়েছিল তাঁর মেয়ের বিয়েতে।

ওই বিয়ের চার মাস পরই যুক্তরাজ্যপ্রবাসী যুবক পারনেলের সঙ্গে মঙ্গলির বিয়ে হয়। পুরোহিত বলেছিলেন, ওই বিয়ের পর মঙ্গলি আবারও বিয়ে করতে পারবেন। তাই মঙ্গলির একটি বিয়ের পরও আপত্তি করেনি পারনেলের পরিবার।






মন্তব্য চালু নেই