মেইন ম্যেনু

অর্থায়ন নিশ্চিত ছাড়াই নির্মাণে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র

অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত হওয়ার আগেই পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরুর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির যৌথ মালিকানাধীন ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম দুই ইউনিটের এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ শুরু আগামী ২৯ মার্চ। পরদিন ৩০ মার্চ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য ফার্স্ট নর্থ-ইস্ট ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কো. (এনইপিসি)। সমান উৎপাদনক্ষম দুই ইউনিটের প্রথমটি উৎপাদনে আসবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে, অন্যটি ২০১৯ সালের জুনে। প্রতি ইউনিটের সম্ভাব্য দাম ধরা হচ্ছে সাড়ে ছয় টাকা।

অর্থায়ন নিশ্চিত ছাড়া যৌক্তিক কি-না জানতে চাইলে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কাজ শুরু হয়েছে দেখলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হয়। এতে অর্থের সংস্থান সহজ হয়।’

তিনি জানান, চীনের সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগকারী সংস্থা সাইনোশিওর পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রর অর্থ সংস্থানের চেষ্টা করছে। প্রকল্পে চীনের মালিকানা থাকায় সাইনোশিওরের মাধ্যমে অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ মালিকানারি এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আগামী ২৯ মার্চ চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি। শর্ত অনুসারে চুক্তির দিন থেকেই নির্মাণ কাজ শুরু করবে ঠিকাদার কোম্পানি।

কেন্দ্রটির মালিকানা বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানির। এ কোম্পানির যৌথ উদ্যোক্তা চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হলো চীনা প্রতিষ্ঠান এনইপিসি।

সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত প্রাকচুক্তি বৈঠক থেকে দেশে ফিরে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম চুক্তি এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত চীনে প্রাক-দরপত্র বৈঠক হয়।

পায়রায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ২০১৪ সালে সিএমসি ও নর্থ ওয়েস্ট এমওইউ সই করে। এর আলোকেই সে বছরই বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি গঠন করা হয়। দু’বছর পরে উদ্যোগ নিয়েও রামপাল প্রকল্পের আগেই শুরু হচ্ছে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ।

অন্যদিকে রামপাল প্রকল্পের জন্য ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ কোম্পানি গঠনের চুক্তি হয়। একই বছরের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ ভারত মৈত্রি বিদ্যুৎ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) গঠিত হয়।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রটির কাজ পেয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যাল লিমিটেড (ভেল)। কিন্তু নির্মাণ চুক্তি এখনো হয়নি। সুন্দরবনের কাছে বলে এ প্রকল্প নিয়ে দেশে বিদেশে বিরুপ সমালোচনা ও বিরোধিতা রয়েছে ৷

এদিকে পটুয়াখালীতে পায়রা সমুদ্র বন্দরের পাশে নির্মিতব্য পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে মোট ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় হবে সাড়ে ৬ টাকা। এ প্রকল্পের নতুন দিক হলো অর্থায়ন চুক্তির আগেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে। যেখানে অন্য প্রকল্পগুলোর জন্য অর্থায়ন চুক্তি আগে সম্পাদন করতে হতো।

এ প্রসঙ্গে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির একজন কর্মকর্তা জানান, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রথম এক বছরে প্রকল্প ব্যয়ের ১৫ ভাগ (আনুমানিক ২০০ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করতে হবে। আলাদা করে অর্থায়ন চুক্তি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। চুক্তির সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সময় বাঁচাতে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

প্রকল্পের জন্য পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় মধুপুর এবং দেবপুর মৌজার মধুপাড়া, নিশানবাড়িয়া, দশরহাউলা, মরিচবুনিয়া গ্রামের ৯৮২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ভূমি উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ১৩২ পরিবারের জন্য নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বসত ভিটার জন্য একর প্রতি সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং নাল জমির জন্য ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। পটুয়াখালির জেলা প্রশাসনের হিসেবে মোট ৬৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রার খুব কাছে হওয়ায় কয়লা খালাসে তেমন সমস্যা হবে না বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, আন্ধারমানিক এবং রামনাবাদ নদীর মোহনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে গ্রীষ্ম মৌসুমে ৬ মিটার এবং বর্ষায় ১৩ মিটার পানির গভীরতা থাকে।

জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্রাংশ আসবে চীন থেকে। কন্ট্রোল প্যানেল সরবরাহ করবে জার্মানি। আর অ্যাশ ক্যাচার আনা হবে আমেরিকা থেকে।

ঠিকাদার এনইপিসি’র তুরস্ক ও ভিয়েতনামে ৬০০ মেগাওয়াটের ওপরে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আর যৌথ মালিক সিএমসি দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।






মন্তব্য চালু নেই