মেইন ম্যেনু

অলৌকিক কেরামতি দেখাতে শিশুকে পিটিয়ে মারলো মা-বাবা

অলৌকিক কেরামতি জাহির করতে নিজের তিন বছর বয়সী কন্যাশিশুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারলো মা-বাবা। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মেহের (উত্তর) ইউনিয়নের তারাপুর কামার (সিরাজ মেম্বারের) বাড়িতে।

তিন বছরের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে শিশুটির মা আমেনা বেগম (৩৫) ও বাবা এমরান হোসেন (৪০)। এ ঘটনায় পুলিশ তাদের আটক করেছে।

শাহরাস্তি থানার ওসি (তদন্ত) দিলদার আজাদ জানান, ভণ্ড কবিরাজির মাধ্যমে টাকা আয়ের চিন্তা থেকেই শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তবে কেউ বলছেন মায়ের সঙ্গে জিন ছিল। মেয়ের সঙ্গেও জিন ছিল। জিন তাড়াতে গিয়ে হাবলা পাতা দিয়ে শিশুটিকে মারধর করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, এলাকার একটি এনজিও থেকে সুমাইয়ার মা আমেনা বেগম এক লাখ টাকা ঋণ নেয়। এ টাকা পরিশোধ করতে না পেরে স্ত্রী আমেনা বেগম ও স্বামী এমরান হোসেন কবিরাজির মাধ্যমে টাকা আয় করার চিন্তা করে।

তারা জানায়, এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ দিন আগে আমেনা বেগমকে জিনে ধরেছে এবং অলৌকিক ক্ষমতা লাভ করেছে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। তা প্রমাণ দিতে বলা হয়, শিশুকে মারধর করলেও সে কান্নাকাটি করবে না। এজন্য তার সাড়ে ৩ বছরের শিশু সুমাইয়াকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে সাধারণ লোকজনকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করা হয়।

এতে কয়েকজন রোগীকে ঝাড়, ফুক, পানিপড়া, তাবিজ-কবজ দিয়ে টাকা আদায়ও শুরু করে তারা। এ কাজে স্ত্রীকে সহযোগিতা করে তার স্বামী। নিজ কন্যা সুমাইয়াকে নিজ হাতে লাঠি দিয়ে পেটাতেও একটু দয়া হয়নি নিষ্ঠুর বাবার।

গত ৬ দিন ধরে চলে এ নির্মম নির্যাতন। এতে শিশু সুমাইয়া মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরে সকাল ৭টার দিকে খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ও উপ-পরিদর্শক (এসআই ) নিজাম উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে শিশু সুমাইয়ার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এসময় ঘাতক বাবা-মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে এসআই নিজামুদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে বলে জানান থানার ওসি মিজানুর রহমান।






মন্তব্য চালু নেই