মেইন ম্যেনু

অসহায় গৃহবধু কনক কি সঠিক বিচার পাবে না?

১০ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪সালে ইসলামী শরীয়ত বিধানমতে পারিবারিক ভাবে ফরিদপুরের চরকমলাপুর গ্রামের আরিফ শেখের কন্যা মোছা. কনক রেজার সঙ্গে চরভদ্রাসনের গাজীরট্যাক গ্রামের মালেক মন্ডলের পুত্র মো. শাহীন মন্ডলের সাথে বিবাহ হয়। বিবাহের পরে দুই মাস সুখে শান্তিতে ঘর সংসার করার পরেই শুরু হয় গৃহবধু কনক রেজার উপর অমানুষিক নির্যাতন।
যখন মেয়েটি জানতে পারে, তার স্বামীর সাথে সুমি নামের এক মেয়ের আনেক আগে থেকেই গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তখন সে তার স্বামীর কাছে সুমির সঙ্গে সম্পর্কে জানতে চাইলে শুরু হয় কনক রেজার উপর অমানবিক নির্যাতন। কথায় কথায় তার স্বামী স্ত্রী কনক রেজাকে বলে ৫লক্ষ টাকা যৌতুক নাদিলে সাবেক প্রেমিকাকেই বিয়ে করবে বলে পরিস্কার জানিয়ে দেয়।

বর্তমানে শাহীন মন্ডল সৌদি আরবে চাকুরিরত আছে, কিন্তু তার পিতা-মাতা ও পরিবারের লোকজন চালায় আরো বেশি নির্যাতন ও কথায় কথায় সেই ৫লক্ষ টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে শ্বশুর-শ্বাশুরী টাকার জন্য কনক রেজাকে বেধড়ক মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।
গত ২৯ শে মার্চ ২০১৫ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি হয় কনক রেজা।

উল্লেখ্য, কনক রেজার ৭ মাস বয়সের একটি ফটফুটে পুত্র সন্তান রয়েছে, শিশুটির পিতা শাহিন মন্ডল প্রবাসে থেকেও স্ত্রী-পুত্রের কোন খোঁজ খবর নেয়না এবং তাদের ভরন পোষনের জন্য কোন কিছু দেয় না। দরিদ্র পিতার ঘরে শিশু সন্তানকে নিয়ে কনক রেজা বর্তমানে অভাব অনটনে অসহায় অবস্থায় দিনপাত করছে। তার শিশু সন্তানটির কি হবে এখন শুধু এই প্রশ্ন ঘর ছাড়া গৃহবধু কনক রেজার। সে শিশু পুত্রের ভবিষৎ নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে ঘুরে দিন কাটছে তার।

এই বিষয়ে কনক রেজা সাংবাকিদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমাদিলে আমরা ছুটে যায় ঘটনাস্থল কনক রেজার শ্বশুর বাড়ী চরভদ্রাসন থানার গাজিরট্যাক গ্রামে। সেখানে দেখা মেলে তার শ্বশুর সাবেক ইউপি সদস্য মালেক মন্ডল ও তার স্ত্রীর, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলে তারা অস্বীকার করে সকল ঘটনা। তারা আরো জানান, তারা কোন যৌতুকের দাবি করে নাই, এমনকি তার গায়ে একটি ফুলের টোকা পর্যন্ত দেওয় হয় নাই, তাকে কোন নির্যাতন করা হয় নাই। তার শ্বাশুরী জানান, বৌয়ের সাথে তাদের কোন বিরোধ নাই, কনক তাদের সাথে থাকুক এটাই তাদের একান্ত চাওয়া।

বাড়ীর পাশের এক প্রতিবেশীর কাছে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এ বিষয়ে জানতে চাইলে সে এই প্রতিবেদককে বলেন বৌটি খুবই ভাল ছিলো তবে সে কনক রেজার শ্বশুর মালেক মন্ডলের পরিবার সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তথ্য দিতে অপরাগতা জানায়।
পার্শ্ববর্তী এলাকা চরসর্বান্দিয়া ছোনের মসজিদ এর পাশে একটি চায়ের দোকানে সাবেক ইউপি সদস্য সুলতান ফকির, শেখ আইয়ুব আলী, দানিস পাট্টাদার, আব্দুল কুদ্দুস সহ স্থানীয় প্রায় ২০ /২৫ জন উপস্থিত ছিল। সুলতান ফকিরের কাছে মন্ডল পরিবার সর্ম্পকে জানতে চাইলে, সে মন্ডলের পরিবার সর্ম্পকে খুবই খারাপ মন্তব্য করেন। তারা খুবই নিষ্ঠুর পরিবার। সে আরো বলেন মন্ডলের স্ত্রী এবং তার বড় মেয়ে পারুল (স্বামী পরিত্যাক্ত) খুবই জল্লাদ প্রকৃতির মানুষ।
কনক রেজা নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মৌলভীর চর বাজারের পাশে তার খালুর বাড়ী আশ্রয় নেয়। এবং সেখানে এই বিষয়ে শালিস হয়।

অনুসন্ধানকালে মৌলভীর চর বাজারে কনক রেজার শালিসের একজন সদস্য সরোয়ার আজম মৃধার সাথে কথা হলে এবং তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, শালিসী বৈঠকে কনক তাদের জানায় তাকে তার ননদ পারুল নির্যাতন করলে শ্বাশুরিকে জানায় কিন্তু ঘটে হিতে-বিপরীত, শ্বাশুরিও তাকে মারধর করে, এরপর শেষ ভরসা তার শ্বশুরকে জানালে সেও ঝাড়ু– দিয়ে তাকে আঘাত করে যার ফলে তার গালের একপাশে কেটে যায় যা তার গালে এখনো রয়েছে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুরের নারী নেত্রী এ্যাডভোকেট সুচিত্রা শিকদার জানান, ব্যাপারটি অমানবিক যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আর আমরা ঐ মেয়েটিকে সব রকমের সহযোগিতা করব।






মন্তব্য চালু নেই