মেইন ম্যেনু

অসুস্থ না হয়েও হাসপাতালে থাকতে হয় যে শিশুদের

অসুস্থ হলেই একমাত্র হাসপাতালে থাকতে হয় বলেই আমরা জানি। কিন্তু, সুস্থ্য থাকার পরও হাসপাতালে কেন থাকতে হয়! এমন কথা কি কেউ কখনো শুনেছি? না শুনিনি। তবুও সত্যি যে, বেশ কিছু শিশু আছে যারা অসুস্থ না হয়েও হাসপাতালেই থাকছে।

যেসব শিশুরা অসুস্থ না হয়েও হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছে, ক্রমশই তারা মানসিক ও শারীরক রোগীতে আক্রান্ত হচ্ছে। তারপরও তাদের থাকতে হচ্ছে হাসপাতালে। এ ছাড়া আর কোন উপাও নেই। গ্রিসের অ্যাথেনসের আজিয়া সোফিয়া হাসপাতালের সব শিশুরাই প্রাপ্তবয়স্ক নয়। এখানে এমন শিশুও আছে যার বয়স আঠোরো মাস। বাবা মায়ের কারণে জন্মের পরই তাকে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে।

সুস্থ্য শিশুরা অসুস্থদের সঙ্গে থেকে সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তারা মনে মনে ভাবতে থাকে ‘আমিতো অসুস্থ নই তাহলে কেন আমাকে হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। এর চাইতে তো আমি আমার বাসাতেই ভালো ছিলাম।’ আর এই প্রশ্নগুলোই তীব্র মানসিক চাপ সৃষ্টি করে শিশুদের মনে।

যেমন, আলেকসস নামের ছেলেটির ১৪ তম জন্মদিন। চুপ করে বসে আছে হাসপাতালের একটি শয্যায়। না, সে অসুস্থ নয়, এমনকি কাউকে দেখতেও আসেনি হাসপাতালে। গত দুমাস ধরে সে এই হাসপাতালে থাকে। তাকে নির্যাতন ও অবহেলা করা হয় এই মর্মে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেন তার মা। কারণ তার মা জানায় তার মানসিক সমস্যা রয়েছে এবং সে প্রায়ই নেশাগ্রস্থ থাকে যা মাঝে মাঝে তাকে খুব সহিংস করে তোলে। এমন অবস্থায় আলেকসস তার সঙ্গে মোটেই নিরাপদ নয়। রিপোর্টের পরে পুলিশ আলেকসসের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর থেকেই ছেলেটির ঠিকানা হয়েছে হাসপাতাল। যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দুই কি চারদিন সময় লাগার কথা সেখানে দুই মাস হাসপাতালে কাটিয়ে দিচ্ছে আলেকসস।

এখানে যেসব শিশু থাকে তারা অনুমতি ছাড়া হাসপাতাল থেকে বের হতে পারে না। এমনকি স্কুলে যাওয়ারও কোন অনুমতি নেই। হাসপাতালের ভেতরেই থাকতে হয় এবং এখানেই তাদের পড়ানো হয়। যেখানে বাবা-মা নিজের সন্তানকে নিরাপদে রাখার জন্য পুলিশের কাছে সোপার্দ করে। যাতে করে পুলিশ তার সন্তানটিকে কোন ভালো শিশু সংস্থার হাতে তুলে দিয়ে তার সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। সেখানে পুলিশ নিজেই এই শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দিচ্ছে। কোন সংস্থার হাতে তুলে দেয়ার আগে সেই শিশুটির শারীরিকভাবে সুস্থ্য তা প্রমাণ করতে হয়। আর এর জন্য পুলিশ শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। কিন্তু যেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে দুইদিন লাগে সেখানে তারা সময় নেয় মাসের পর মাস।

এই হাসপাতালে অনেকে শিশু আছে যারা দিনের পর দিন রোগী না হয়েও কাটিয়ে দিচ্ছে এখানে। শ্রম মন্ত্রণালয় অনুসারে বর্তমানে গ্রীসের হাসপাতালগুলোতে ২৭ টি শিশু এবং ৩৩ জন ছেলেমেয়ে রয়েছে। গ্রীসের একটি দাতব্য সংস্থা ‘স্মাইল’ অনুসারে আজিয়া সোফিয়া হাসপাতালে আলেকসস হলো একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। আর বাকি যারা আছে তাদের বয়স আরো কম। স্মাইল দাতব্য সংস্থার ব্যবস্থাপক কোস্টাস ইয়ানোপোলাস বলেন, ‘দিন দিন এই এই ধরণের শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এটা একটা সামজিক সমস্যা। আর এই সমস্যা নিরসনে সমাজের মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে।’

গত ছয় বছরে গ্রীসের অর্থনৈতিক অবস্থা তেমন ভালো নয় বললেই চলে। আর এর বেশ বড় প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাগুলো ওপর। সরিকারি অনুদান না পাওয়ার ফলে শিশুদের এখানে এনে বড় করতে হিমসিম খেতে হয় তাদের। শ্রম ও শিশু অধিকার মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বারবার আশ্বস্ত করা হলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।






মন্তব্য চালু নেই