মেইন ম্যেনু

অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে ৪০ হাজার বছরের পুরোনো দেহাবশেষ

অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীদের কাছে ৪০ হাজার বছর আগের মানুষের দেহাবশেষ ফেরত দিল অস্ট্রেলিয়ান ইউনিভার্সিটি। আদিবাসী নেতারা জানায় এটি তাদেরই প্রাপ্য ছিল।

গত রোববার দেহাবশেষগুলো আপাতত: দেশটির জাতীয় জাদুঘরে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকেই মূলত: আদিবাসীদের এগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

‘মাঙ্গো মানুষ’দের এই হাড় স্থানীয় আদিবাসী নেতাদের ফেরত দেওয়া হবে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, আদিবাসীরা এটি মাঙ্গো লেক এ ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন যেখান থেকে ১৯৬০ সালে এটি আবিস্কৃত হয় এবং ১৯৭৪ সালে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়।

হাড়গুলো গবেষণা করে পাওয়া যায় এটি ৪০ হাজার বছরেরও বেশি আগের দেহাবশেষ। মুথি মুথি নামে এক নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীর নেতা আন্টি ম্যারি পাপিন বলেন, ‘অনেক দিন হয়ে গেছে। এখন আমাদের মানুষগুলোকে ঘরে ফিরিয়ে আনার সময়। আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ যে তারা বাড়ি ফিরে আসছে।’

এ নিয়ে এক বিবৃতির মাধ্যমে আদিবাসীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বিবৃতিতে তারা জানায়, গবেষণাটি আদিবাসী নেতাদের অনুমতি ছাড়াই করা হয়েছে এবং ৪০ বছর ধরে হাড়গুলো তাদের হেফাজতেই ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ইয়ান ইয়াং বলেন, ‘আমরা জানি যে আদিবাসীদের কাছ থেকে তাদের পূর্বপুরুষদের এই হাড়গুলো সরিয়ে নেওয়াটা তাদের জন্য যথেষ্ট দুঃখের। আমরা এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা আশা করি আপনাদের পূর্বপুরুষদের আপনাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম আমরা আমাদের ভুল শোধরাতে পারছি।’

বারকান্দিজি গোষ্ঠীর নেতা লোটি উইলিয়াম বলেন, ‘আমাদের না বলে নেওয়াটা খুবই মারাত্মক ব্যাপার ছিল। আর এখন তারা আবার বাড়ি ফিরে আসছে যা সত্যিই দারুণ।

পাপিন বলেন, ‘আমরা জানতাম যে দেহাবশেষগুলো অনেক আগের। তারা আসলে আমাদের ধারণাকেই প্রমাণ করল।’

১৪০ জন মানু্ষের এই দেহাবশেষ ১৯৬০ সালে প্রথম আবিস্কার করেন অধ্যাপক জিম বাওলার। তার তত্বাবধানেই এখন হাড়গুলো জাতীয় যাদুঘরে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, তাদের ফিরিয়ে দেওয়াটা দারুণ এক সিদ্ধান্ত।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ






মন্তব্য চালু নেই