মেইন ম্যেনু

অস্তিত্বহীন বালুখালী বাজার এখন ইয়াবা ব্যবসায়ীর দখলে

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের নাফ নদী সংলগ্ন অস্তিত্বহীন বালুখালী বাজারটি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। দোকান পাটের পরিবর্তে এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাকা ইমারত। এককালের জমজমাট এ বাজারটি বিলুপ্ত পরবর্তী বাজার দখল করে স্থাপনা নির্মাণের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে গ্রামবাসী ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তবে পত্রিকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, এরা বড় ইয়াবা ব্যবসায়ী, নাম বললে গোষ্ঠীশুদ্ধ বালা করে দেবে।

এলাকার সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ আলম প্রকাশ- বাঘা আলম, ডাঃ মঞ্জু লাল বিশ্বাস জানান, তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে এ বাজারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার থেকে দুইটি যাত্রীবাহী বাস বালুখালী পর্যন্ত আসা-যাওয়া করায় এখানে ছিল একটি বাস কাউন্টার। বালুখালী ষ্টেশনের পর থেকে আর কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বালুখালী বাজার নাফ নদীর ঘাট হয়ে নৌকা যোগে মালামাল নিয়ে যাত্রীরা টেকনাফ আসা-যাওয়া করত। জনশ্র“তি রয়েছে বালুখালীর স্থানীয় বাসিন্দা মরহুম নুর আলী সিকদার এ বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেছিল।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা হামিদুল হক জানান, প্রতি রবিবার ও বুধবার বালুখালী বাজারে হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হত। তৎকালীন বার্মা (মিয়ানমার) হতে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মালামাল নিয়ে এ বাজারে আসত। সীমান্তে তেমন কোন কড়াকড়ি ছিল না বিধায় বার্মার সব ধরনের মালামাল এ বাজারে পাওয়া যেত। যে কারণে বিয়ের বাজার থেকে শুরু করে সব ধরনের কেনাকাটার জন্য এ বাজারটি ছিল প্রসিদ্ধ। পাশেই ছিল বাস কাউন্টার। সেখানে যানবাহনের শ্রমিকের ছিল নিয়মিত আড্ডা। দুয়েকটি হোটেলে ছিল খাবার ব্যবস্থা। দুর দুরান্ত থেকে আগত যাত্রী বা সরকারি কর্মচারীরা এ হোটেলে বসে নির্ঘুম রাত কাটাতে হতো বলে জানা গেছে। এলাকার প্রবীন ইউ,পি, সদস্য ও আইনজীবী সোলতান আহমদ জানান, তৎকালীন সময়ে বালুখালীর বাসিন্দা হিসাবে তারা গর্ব অনুভব করতে পারত। যেহেতু বালুখালীর মত একটি জমজমাট বাণিজ্যিক এলাকা কক্সবাজার জেলায় আরেকটি ছিল না।

১৯৬০ এর দশকেও এ বাজারটি তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম ছিল। কালের আবর্তে ও স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী মহলের চাঁদাবাজি, দৌরাত্মা, নির্যাতন, মালামাল কিনে টাকা পরিশোধ না করার কারণে এ বাজার ছেড়ে ব্যবসায়ীরা চলে গেছে। শনিবার সকালে বাজারটি ঘুরে দেখা যায়, বাজারে কোন দোকান পাট নাই। একটি সনাতনী পরিবার তার আদি পেশা কামার শিল্পের কাজ করে বাজারের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। বাজারের হাতুড়ি ডাক্তার মঞ্জু লাল বিশ্বাস জানায়, বাজার বিলুপ্ত হওয়ার কারণে তিনি এখন পান বাজারে দোকান দিয়েছেন। স্থানীয়রা জানায়, এখানে ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মা ও ইয়াবা সেবনকারীদের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে এ বাজারটি এখন ইয়াবা অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি বালুখালী বাজার নিয়ে আলাপ করে জানতে চাওয়া হলে তহসিলদার সেলিম জানায়, এ বাজারে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা ইয়াবার টাকায় আলিসান ইমারত তৈরি করে বাজারটি দখল করে নিয়েছে। তিনি বলেন, তিন একর ১৪ শতক খাস জমির উপর গড়ে উঠা এ বাজারটি ২০০৯ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বাজার দখল করে ইমারত নির্মাণের ব্যাপারে উখিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরু উদ্দিন মোঃ শিবলী জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসলে যে কোন ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা পূণরুদ্ধার করা হবে এবং জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






মন্তব্য চালু নেই