মেইন ম্যেনু

‘অহল্যা’ নিয়ে চলছে হল্লা…

ধর্মশ্রাস্ত্র নয়- রামায়নের সাহিত্যমান কিংবা মিথলজি আচ্ছন্ন করে পাঠক হৃদয়। পাথর হয়ে যাওয়া অহল্যা উপাখ্যান শুধু প্রেম বা প্রতিশোধ নয়- জন্ম দেয় ভিন্ন দর্শন। যৌনসঙ্গ বঞ্চিতা অহল্যা স্বামী গৌতমকে প্রত্যাশা করে রোজ রাতে, কিন্তু বাসি হয় বাসর সাজানো ফুল। অহল্যাকে কামনা করে ইন্দ্র রূপ ধারণ করে গৌতমের, স্বামীর অনুপস্থিতিতেই পূর্ণতা পায় নারীত্ব। কিন্তু ঋষি গৌতম অভিশাপ দেয় অহল্যাকে, পঙ্কিল না হয়েও ইন্দ্রের পাপের শাস্তি স্বরূপ পাথর হয়ে যায় সতী। মুক্তি মেলে রামের আশীর্বাদে। এতো গেল রামায়ন চিত্র- কিন্তু চলচ্চিত্রের অহল্যাকে নিয়ে চলছে হল্লা।

সেলুলয়েডে অহল্যা গৌতমের পুতুল খেলার সঙ্গিনী। শরীর নয়, তার মন পরিণত হয়েছে পাষাণে। গৌতম তাকে দিয়েছে এক অভিশপ্ত জীবন। তা সত্ত্বেও বৃদ্ধ গৌতমে মজে আছে রাধিকা। প্রকাশ্যে জানালেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তার ভালোবাসার কথা। রাধিকা আপ্তে বলেন ‘সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি দেখি। তারপর থেকেই আমি সৌমিত্রের ফ্যান’।

WNjOTGu

‘রূপকথা নয়’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যের সঙ্গে প্রথমবার অভিনয় করেছিলেন রাধিকা। ‘আমি মনে করেছিলাম তার সঙ্গে ওটাই আমার শেষ ছবি। তবে সুজয় আমার আরেকটা সুযোগ করে দিয়েছে এতো বড় একজন অভিনেতার সান্নিধ্য পেতে’।

রামায়ণের অহল্যা, ইন্দ্র ও গৌতম মুনির কাহিনিটিকে থ্রিলারের মোড়কে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন সুজয় ঘোষ। সম্প্রতি অনলাইনে মুক্তি পেল সুজয় ঘোষের ১৪ মিনিটের শর্টফিল্ম ‘অহল্যা’। আর তারপর থেকেই চলছে প্রসংশার ঝড়। দর্শকের সংখ্যার সঙ্গেই বাড়ছে রাধিকার ভক্ত সংখ্যা। সৌমিত্র তো চেনা বামুন, তার পৈতা লাগে না। তবে অমিতাভ, শাখরুখের মত তারকারদের প্রসংশার জোয়ারে ভাসছেন রাধিকা আপ্তে।

অনেকে বলেছেন ‘অহল্যা’ নাকি বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিক রোয়াল্ড ডালের একটি গল্প অবলম্বনে তৈরি? এই গুজব উড়িয়ে দিয়ে সুজয়ের দাবি, ‘রোয়াল্ড ডালের কোনও গল্প থেকে নেওয়া নয় আমার এই কাহিনি। এই ছবির অনুপ্রেরণা রামায়ণের অহল্যা কাহিনি। তাছাড়া রোয়াল্ড ডাল একজন শিশু সাহিত্যিক। আর আমার ছবিটি একান্তভাবেই মননশীল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য।’

DGJJ8JE

ছবিতে শিল্পী গৌতম সাধুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অহল্যার ভূমিকায় রাধিকা আপ্তে, পুলিশ ইন্সপেক্টর ইন্দ্র সেনের ভূমিকায় টৌটা রায় চৌধুরী। গল্প ও কাহনির উপস্থাপনের পাশাপাশি লাস্যময়ী আবেদন, অভিনয়ের পরিপক্কতা, শব্দ ও আলোর ব্যবহার, ক্যামেরা ফ্রেমিং- সবকিছুতেই সুজয়ের জয়জয়কার।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই