মেইন ম্যেনু

‘অ্যাডাল্ট’ ছবির সংখ্যা বাড়ছে

আজ থেকে বছর কুড়ি আগেও কলকাতার মতো শহরে ‘নুন শো’ বলে যে একটা ব্যাপার চালু ছিল, তা সেই সময়ে বড় হওয়া প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেওয়া বাহুল্য মাত্র। সেই সব শো-তে যে ছবিগুলি প্রদর্শিত হত, তার সিংহভাগই ছিল অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডে তোলা বি-গ্রেড ইংরেজি ছবি। ক্বচিৎ কয়েকটা মালয়ালম ছবি এই ‘নুন’-ব্রিগেডে ঢুকে পড়ত।

১৯৮০-র দশকের শেষ থেকে হঠাৎই ‘জওয়ানি কি জলওয়া’-গোছের নামধারী কিছু হিন্দি ছবি জায়গা করে নিতে শুরু করে এই স্লটে। একটা সময় পরে দেখা যায়, হিন্দি ‘জওয়ানি সিরিজ’ সবাইকে হঠিয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সে অর্থে এই বিন্দু থেকেই হিন্দি অ্যাডাল্ট ছবির যাত্রা শুরু ধরলে খুব একটা অন্যায় হবে না। কিন্তু তার পরে ১৯৯০-র দশকে হুড়ুমতাল বিশ্বায়ন, নেট-এর কৃপায় পর্নোগ্রাফির রমরমা, সেক্স-চ্যাট, এমএমএস কেত্তন ইত্যাদি এমন ধামাকা মচায় যে ‘জওয়ানি সিরিজ’ তার মামাতো-মাসতুতো ভাই-ভাতিজা-সহ গুটিয়ে লাট হয়ে যায়।

অথচ সম্প্রতি ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি অনুসন্ধান জানাচ্ছে, ভারতে ‘অ্যাডাল্ট’ ছাপ-যুক্ত ছবির সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। মাল্টিপ্লেক্সে এই সব ছবি চলে না। চলার কথাও নয়। টিম টিম করে টিকে থাকা হলগুলিতেও আর এদের দেখা সেবাবে মেলে না। তা হলে কোথায় ডানা মেলে এই সব ছবি? অনুসসন্ধান জানাচ্ছে, এই সব ছবি সত্যিই সংখ্যায় অনেক। বেশিরভাগের বাজেট অবিশ্বাস্য রকমের কম। এক একটা ছবির বাজেট ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যে সীমায়িত থাকে। ছবির সর্বমোট কলাকুশলীর সংখ্যা ১০-১৫ জন। পরিচালক, ক্যামেরাম্যান তার ভিতরেই ধরা থাকেন। প্রধানত দু’রকম ছবি এইসব ইউনিট তুলে থাকে— ফিচার এবং শর্ট ফিল্ম। এই ‘শর্ট’ বস্তুগুলিই এই মুহূর্তে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ।

সেন্সর বোর্ডের দরজায় ঠকঠকিয়ে শেষমেশ কাঁচকলা জুটবে ধরে নিয়েই এই সব ছবির পরিচালক, প্রযোজকরা ইউটিউব বা অ্যাডাল্ট ওয়েব সাইটগুলিকে তাঁদের শর্ট ফিল্মগুলির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এখানে সেন্সরের ঝামেলা নেই। তাই বলে এখানে পর্নোগ্রাফিও দেখানো যায় না। অতএব মধ্যপন্থা অবলম্বন। কোনও বাংলো, একটু নিরালা এলাকার রিসর্ট, গেস্ট হাউজে দলবল-সহ পৌঁছে মারো শ্যুটিং ফটাফট। প্রযোজকদের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, একটা ৫ লাখ টাকা বাজেটের ছবি ৯-১০ লাখ টাকা আয় দেয়।

মজার ব্যাপার এই যে, এই সব শর্ট ফিল্মে যাঁরা অভিনয় করছেন, তাঁরা কেউই পেশাদার অভিনেতা বা অভিনেত্রী নন। অবশ্য তাঁদের মধ্যে অনেকেই ভবিষ্যৎ গড়তে চান অভিনয় জগতে। তাঁদের পারিশ্রমিক ২৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা। অভিনেত্রীরা অবশ্যই বেশি পেমেন্ট পান অভিনেতাদের চাইতে। কারণটা জলের মতো— তাঁদের শরীরের আনাচ-কানাচ প্রদর্শনই এই সব ছবির ইউএসপি। মফস্‌সল শহরের অ্যাম্বিশাস মেয়েদের এই ছবিতে পাওয়া নাকি সহজ। কোনও আড়কাঠির দরকার নেই, কোনও কেস-কাবাড়ির ভয় নেই। সহজ চুক্তিতে সহজ সমাধান।

ক্রমেই বাড়ছে এই ‘শর্ট অ্যাডাল্ট মুভি’-র সংখ্যা। যে কোনও ‘দেশি’ সাইটে প্রতিদিন আপলোড হয় একাধিক শর্ট ফিল্ম। চাহিদা যে দারুণ, তা আর আলাদা করে বলার কিছুই নেই। সুত্র-এবেলা






মন্তব্য চালু নেই