মেইন ম্যেনু

অ্যানেমিয়ার যে লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিৎ নয়

কিছু রোগ নীরবে আসে যার তেমন কোন তাৎপর্যপূর্ণ উপসর্গ প্রকাশ করেনা। এই ধরণের রোগগুলো এমন পর্যায়ে ধরা পড়ে যখন খুব দেরি হয়ে যায়। অ্যানেমিয়া বা রক্তস্বল্পতা এমন একটি স্বাস্থ্যসমস্যা যার লক্ষণগুলো অস্বাভাবিক ও নীরবে আসে। লাল রক্ত কণিকার পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে অ্যানেমিয়া হয়। অ্যানেমিয়া হওয়ার প্রধান কিছু কারণ হচ্ছে – আয়রনের ঘাটতি, আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণ হলে, পুষ্টির ঘাটতি, বংশগতি ইত্যাদি। ক্লান্তি, মাথাঘোরা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি অ্যানেমিয়ার প্রধান কিছু লক্ষণ। অ্যানেমিয়ার অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণের বিষয়েই জানবো এই ফিচারে।

১। ফ্যাকাসে ত্বক

যদি আপনার ত্বক ফ্যাকাসে ও মোমের মত নরম হয়ে যায় তাহলে এর অর্থ আপনার শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত নেই, যা অ্যানেমিয়ার একটি লক্ষণ। লাল রক্ত কণিকা প্রতিটা অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ করে। আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ হচ্ছে ত্বক। তাই ত্বকে যদি পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ না হয় তাহলে ত্বককে স্বাস্থ্যবান দেখাবেনা। ইউ.এ স. ন্যাশনাল লাইব্রেরী অফ মেডিসিনের মতে, আয়রন ও ভিটামিন বি ১২ ছাড়া ত্বকে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ হয়না। এর ফলে ত্বক হয়ে উঠে ফ্যাকাসে এমনকি হলুদ হয়ে যায়।

২। বুকে ব্যথা

যদি আপনার অনবরত বুকে ব্যথা হয় হৃদরোগের কোন সমস্যা ছাড়াই এতে বুঝা যায় যে আপনার হৃদপিণ্ডকে অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে লালা রক্ত কণিকা কমে যাওয়ার কারণে।

৩। প্রেগনেন্সি

অনেক গর্ভবতী নারীই প্রথম কয়েকমাস অ্যানেমিয়ায় ভুগে থাকেন। তাই প্রেগনেন্সি অ্যানেমিয়ার কোন লক্ষণ নয়। এটি অ্যানেমিয়ার একটি অস্বাভাবিক কারণ।

৪। হেমোরয়েডস বা অর্শ

যদি আপনি অর্শরোগ বা পাকস্থলীর আলসারে ভুগে থাকেন তাহলে আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের জন্য অ্যানেমিয়ায় ভোগার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

৫। বুক ধড়ফড় করা

আপনার হার্ট বীট যদি খুব দ্রুত হয় বা বুক ধড়ফড় করে তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার অ্যানেমিয়া আছে, যার কারণে আপনার হার্ট পর্যাপ্ত রক্ত পায়না।

৬। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যাওয়া

যদি হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম আসে তাহলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে আপনি অ্যানেমিয়ায় ভুগছেন এবং দ্রুত এর নিরাময় করা প্রয়োজন।

৭। ভঙ্গুর নখ

অ্যানেমিয়াসহ আরো অনেক রোগেরই লক্ষণ হতে পারে নখের ভঙ্গুরতা। তাই এই সমস্যাটি দেখা গেলে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

যদি এই লক্ষণগুলো আপনার মধ্যে দেখা যায় তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলে জেনে নিন কি ধরণের অ্যানেমিয়ায় ভুগছেন এবং এর নিরাময়ের জন্য আপনার কি করা উচিৎ।






মন্তব্য চালু নেই