মেইন ম্যেনু

অ্যানোরেক্সিয়া ও বুলিমিয়া নার্ভোসার বিষয়ে জানুন

অ্যানোরেক্সিয়া একটি ইটিং ডিজঅর্ডার। মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে অত্যধিক ডায়েটিং এর কারণেই অ্যানোরেক্সিয়ার মত স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত হয় মানুষ। অতিতে এই সমস্যাটি মেয়েদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ছেলেদের মধ্যেও এই সমস্যাটি দেখা যায়।

অ্যানোরেক্সিয়া বা ক্ষুধাহীনতার মতোই আরেকটি ইটিং ডিজঅর্ডার হচ্ছে বুলিমিয়া নার্ভোসা। এক্ষেত্রে রোগী খুব দ্রুত খায় এবং খাওয়ার পর পরই যা খেয়েছে তা বমি করে বের করে দেয়ার চেষ্টা করে। যখন কোন ব্যক্তি ওজন নিয়ে ক্রমাগত চিন্তা করতে থাকে তখনই সে বুলিমিয়ার মত ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হয়। BBC এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয় যে, অ্যানোরেক্সিয়ার সাথে বুলিমিয়ার বৈশিষ্ট্যের মিল আছে।

জিনগত, সামাজিক ও মানসিক কারণকেই দায়ী করা হয় অ্যানোরেক্সিয়া ও বুলিমিয়ার জন্য। অ্যানোরেক্সিয়ার লক্ষণগুলো হচ্ছে – নিজের ওজন স্বীকার করতে না চাওয়া, ওজন কম থাকা সত্ত্বেও মোটা হয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকা, সামাজিক ভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা, ডিপ্রেশনে ভোগা, ঘুমের ব্যঘাত হওয়া, ক্লান্ত বোধ করা, মনোযোগের ঘাটতি, মানুষের সাথে মিশতে সমস্যা হওয়া, খাওয়া নিয়ে চিন্তা করা, স্ব-উপলব্ধির অভাব, মেজাজ, ব্যক্তিত্ব ও আচরণের ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়া, শারীরিক পরিপূর্ণতা ও রুপের বিষয়ে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করা ইত্যাদি।

বুলিমিয়ার ক্ষেত্রে নার্ভাস সিস্টেম আক্রান্ত হয়। অনেক বেশি খেয়ে ফেলার পর অপরাধবোধে ভোগা এবং বমি করে তা বের করে দেয়ার চেষ্টা করা ছাড়াও ডিপ্রেশন, ক্রনিক অ্যাংজাইটি, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এবং মেজাজের পরিবর্তন হতে দেখা যায় বুলিমিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে। তবে বুলিমিয়া নার্ভোসা অ্যানোরেক্সিয়ার মত জীবন সংশয়কারী সমস্যা নয়। ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই বেশি আক্রান্ত হয় এই রোগে।

এই উভয় রোগের জন্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ না করলে মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ঘরোয়া প্রতিকার রোগীকে দ্রুত এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। অ্যানোরেক্সিয়া ও বুলিমিয়া নার্ভোসার ঘরোয়া প্রতিকারের বিষয়ে জেনে নিই চলুন।

১। ভালো খাদ্যাভ্যাস

বুলিমিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয় বরং আপনার আত্মার সন্তুষ্টির জন্য খাবেন। আপনি যা খাচ্ছেন তা খেয়ে যদি তৃপ্তি পান তাহলেই বার বার খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে আপনার। ভাত, মটরশুঁটি, মিষ্টিকুমড়া, মিষ্টি আলু এবং শাকসবজি খান তাহলে পেট ভরা থাকবে। আপনার খাবারে আদা, রসুন, দারুচিনি ইত্যাদি যোগ করুন তাহলে আপনার ক্ষুধা উদ্দীপিত হবে।

২। আনারস

প্রতিদিন নাশতায় তাজা আনারস খেলে অতিরিক্ত খাওয়া বন্ধ হয়। নাশতার পরে ৩-৪ টুকরা আনারস খেলে সারাদিনে আপনার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে সাহায্য করবে।

৩। চা পান করুন

যখনই অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার ইচ্ছা জাগবে তখন চা পান করুন, বিশেষ করে হারবাল যা, ক্যামোমিল চা বা আদা চা পান করুন। হারবাল চা এর উপাদান খাদ্যাভ্যাসের আবেগীয় কারণকে নিরাময় করতে পারে।

৪। আপেল, কমলা ও লেবু

অ্যানোরেক্সিয়া আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ক্ষুধাকে উদ্দীপিত করার জন্য প্রতিদিন ২-৩ টি কমলা খেতে পারেন। কমলার মত আপেল ও ক্ষুধা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। লেবুর ও একই রকম প্রভাব লক্ষ করা যায়। ১ কাপ গরম পানিতে ২ চা চামচ লেবুর রস এবং ২/৩ টি লবঙ্গ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি কিছুটা ঠান্ডা হলে পান করুন। এটি অন্তত ১ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন পান করলে ক্ষুধার সমস্যাটি সমাধানে সাহায্য করবে।

বুলিমিয়া নার্ভোসা অ্যানোরেক্সিয়ার মত প্রাণনাশক না হলেও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া প্রয়োজন। অ্যানোরেক্সিয়াও নিরাময় যোগ্য সমস্যা। এজন্য আপনাকে সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা এবং পরিপাক তন্ত্রকে নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এটি যেহেতু একটি মানসিক রোগ তাই এর নিরাময়ের জন্য চিকিৎসকের সাহায্য নেয়া প্রয়োজন।

টিপস

সকালের নাশতা খাওয়া বাদ দেবেন না। যদি অস্বস্তি হয় তারপর ও। সুস্থ থাকার জন্য সকালের নাশতা খাওয়া জরুরী। তারপর সারাদিনে অল্প অল্প করে খান।

প্রতিবার খাওয়ার পূর্বে ফল বা সবজির সালাদ খান।

মসলাযুক্ত খাবার বেশি করে খান

প্রতিদিন একমুঠো আখরোট ও কাঠবাদাম খান

পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তবে শুধু পানি খেয়েই থাকবেন না

রোগীর নিরাময়ের জন্য পারিবারিক সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রয়োজন

মাতাপিতার উচিৎ গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সন্তানের ইতিবাচকতাকে উন্নত করতে সাহায্য করা এবং কীভাবে সুস্থ ও সক্রিয় থাকা যায় তা শেখানো।






মন্তব্য চালু নেই