মেইন ম্যেনু

অ্যালার্জি থেকে বাঁচতে করণীয়

পীড়াদায়ক চুলকানি সৃষ্টি করে অ্যালার্জি। যে কোনো বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অ্যালার্জির কারণে হাঁচি, নাক চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়ে বা নাক বন্ধ হয়ে যায়, কারও কারও চোখ দিয়েও পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়, শরীরে গোটা দেখা দেয়, সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

আসবাবে জমে থাকা পুরনো ধুলাবালি, পরাগ রেণু, পোষা প্রাণীর পশম বা চুলের সঙ্গে নানা ধরনের ছত্রাক, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদির কারণেও অ্যালার্জি হতে পারে। বংশগত কারণেও অনেক সময় এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারও বাবা-মা বা ভাইবোনের এ রোগ থাকলে তার দেহেও এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।

আবহাওয়া বা বাতাসের আর্দ্রতার তারতম্যের কারণেও এ রোগ হতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি জাতীয় খাদ্য যেমন- চিংড়ি, ইলিশ মাছ, ডিম, পাকাকলা, গরুর মাংস, বেগম, দুধ, তামাক ইত্যাদি গ্রহণ করলেও অ্যালার্জি হয়।

অ্যালার্জি জনিত সমস্যা দুই ধরনের। যেমন-

সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস

বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে অ্যালার্জির প্রোকোপ দেখা দিলে তাকে সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলে।

পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস

সারা বছর ধরে হলে খুটিনাটি সমস্যাতে অ্যালার্জি দেখা দিলে তাকে পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলে।

লক্ষণ

কাশি, ঘন ঘন শ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া বা বুকে চাপ চাপ লাগা, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে ঠাণ্ডা লাগা। বুকের ভেতর বাঁশির মতো সাঁই সাঁই আওয়াজ, শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট, দম খাটো অর্থাৎ ফুসফুস ভরে দম নিতে না পারা, ঘন ঘন কাশি, বুকে আঁটসাঁট বা দম বন্ধ ভাব, নিশ্বাসে কষ্টের কারণে রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকা সবই অ্যালার্জির কারণে হতে পারে। অ্যালার্জির কারণে ত্বক লালচে হয়ে ফুলে ওঠে ও চুলকায়। হাত-পা ফুলে যেতে পারে। ফোলা অংশ কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী থাকে, কখনও বারবার হতে পারে।

করণীয়

অ্যালার্জির টেস্ট করে কারণ নির্ণয় করে তা পরিহার করে চলা উচিৎ। ঠাণ্ডা বাতাস, ধুলোবালি, ফুলের রেণু বা যেসব খাবারে এমন সমস্যা দেখা দেয় তা পরিহার করে চলা উচিৎ। এছাড়া ডাক্তারি পরামর্শে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং সালবিউটামল ইনহেলার নেয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ভালো থাকার জন্য স্টেরয়েড ইনহেলার নেয়া যেতে পারে।

ভ্যাকসিন পদ্ধতি

উন্নত দেশগুলোতে ভ্যাকসিন পদ্ধতিতে অ্যালার্জির চিকিৎসা দেয়া হয়ে থাকে। এটা অ্যালার্জি রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ থাকার চিকিৎসা পদ্ধতি। আগে ধারণা ছিল অ্যালার্জি একবার হলে আর সারে না। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। উন্নত দেশের সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই