মেইন ম্যেনু

আইএস মুল্লুকে না খেয়ে মরছে গরিবরা

এবার জানা গেল, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখলি অঞ্চলে নিত্যনতুন নির্যাতনের আড়ালে না খেয়ে মরছে সেখানকার গরিবরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকট সেখানে।

আইএসের তথাকথিত খিলাফতে গরিবদের অবস্থা শুনে নেওয়া যাক ওই অঞ্চলের কিছু বাসিন্দাদের মুখে, যারা এখন জর্ডানে শরণার্থী শিবিরে আছেন।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন ফাতেন হুমায়দা। দুই বছর আগে তার লোকালয় আইএসের দখলে যাওয়ার সময় চুলা জ্বালানোর জন্য তার কাছে এক ট্যাংক গ্যাস ছিল। তখন এর বাজারমূল্য ছিল মাত্র ৫০ সেন্ট (ডলারে)। পরে এর দাম হয় ৩২ ডলার। অগত্যা গ্যাসে রান্না ছেড়ে মাটির চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হন তিনি। মরুভূমিতে কাঠখড়ি জোগাড় করা কত কঠিন, তা কিছুটা আঁচ করা যায়।

হুয়ামদা বয়স ৭০ বছর ছাড়িয়েছে। জন্মভূমি সিরিয়ার ইউফ্রেতিস নদী তীরের লোকালয়ের কথা স্মরণ করতেই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন তিনি। এখন জর্ডানের আজরাক শরণার্থী শিবিরে থাকেন। সঙ্গে তার ছোট্ট নাতি ও পরিবারের অন্য কয়েকজন সদস্য আছে। মে মাসে মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে তারা এখানে এসেছেন।

আল-কায়েদা বা অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো থেকে আলাদা চরিত্র ধারণ করেছে আইএস। তারা নিজস্ব অর্থনীতি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা লাখো মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী পেয়ে যায়। কিন্তু তাদের বাইরে যারা আছে, সেই সব মানুষের বেঁচে থাকা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আইএসের সাহায্য ছাড়া খাদ্যসামগ্রী জোগাড় করা অসম্ভবই বলা যায়, কারণ সেগুলোর দাম খুব চড়া। তা ছাড়া আইএসের দখলি অঞ্চলের পাশের এলাকায় চরম খাদ্যসংকটে রয়েছে মানুষ। খাদ্য সরবরাহের সব পথ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

আজরাক শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন সিরীয়র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইএস খিলাফতে দ্বিমুখী অর্থনীতি চালু হয়েছে। যারা আইএসের সমর্থক তাদের জন্য সব আছে- গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাদ্যসামগ্রী ইত্যাদি। কিন্তু আইএসকে সমর্থন করে না, এমন লোকদের খাদ্যের সংকট, বিদ্যুৎ নেই। বিশুদ্ধ পানীয় জলও পাচ্ছে না তারা।

আইএস ওই অঞ্চল দখল করার পর প্রায় সব কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লোকজন গণহারে বেকার হয়ে পড়েছে। না খেয়েই মারা যাচ্ছে অনেকে, যাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। অস্ত্রধারী পক্ষগুলো যখন দখল-উন্মাদনায় মেতে রয়েছে, তখন সাধারণ, গরিব সিরীয়রা খাদ্যের কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

আজরাক শরণার্থী শিরিবে প্রায় ২০ হাজার সিরীয় আছে। আমিনা মুস্তাফা হুমাইদি তাদের মধ্যে একজন। তার স্বামীকে আইএসের জঙ্গিরা গুলি করে হত্যা করার পর দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। আমিনাকে তার আত্মীয়-স্বজন একটি প্রেসার-কুকার জোগাড় করে দেয় তখন। কিন্তু প্রতিদিন বিচ্ছিন্নভাবে মাত্র ১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পেতেন তারা। ফলে সেটি ব্যবহার করা যেত না। একটি ফ্রিজও ছিল তার। সেটিরও একই অবস্থা, বিদ্যুতের অভাবে অকেজো হয়ে ছিল। রান্না করতে না পারায় তার শিশু সন্তানরা না খেয়ে থাকতে বাধ্য হতো। আমিনার মতে, কলহ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি আইএস।

এদিকে ভুক্তভোগী এসব সিরীয়র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিকিৎসাসেবাও নেই তাদের জন্য। মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলো দখল করে আছে আইএস। ন্যূনতম সামাজিক নিরাপত্তা নেই সেখানে।

তথ্যসূত্র : এনডিটিভি অনলাইন।






মন্তব্য চালু নেই