মেইন ম্যেনু

আইনমন্ত্রীর আপত্তিতেই বাস্তবায়ন হয়নি তামাক আইন

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আপত্তিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেছেন, আমি এ সংক্রান্ত ফাইলটি সই করে আইনমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে জানিয়েছেন, কোর্টের নির্দেশনা আছে, সুতরাং এটি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

রোববার সিরডাপ মিলনায়তনে তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন নাসিম।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ও এর বিধি অনুযায়ী, সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী সিগারেটের প্যাকেটের উভয় পাশে উপরিভাগের ৫০ শতাংশে এমনভাবে মুদ্রণ করতে হবে, যাতে তা স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল দ্বারা ঢেকে না যায়। কিন্তু তামাক কোম্পানির দাবি অনুযায়ী তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের নিচের অংশের ৫০ শতাংশ জায়গায় ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবাণী দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিধি অনুযায়ী তামাকজাত পণ্যের প্যাকেটের উপরিভাগের ৫০ শতাংশে সতর্কবাণী মুদ্রণের বিষয়ে আমার সম্মতি আছে। কিন্তু আইনমন্ত্রীর আপত্তিতেই আইনটির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো বলেন, প্লেইন প্যাকেজিং তামাকের প্যাকেট বা কৌটাকে ব্যবহারকারীর কাছে অনাকর্ষণীয় করে তোলে। এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না তামাক কোম্পানিগুলো। তাই রিপোর্ট পেলে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীকে একটু কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। জুনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলেও আশা করছেন তিনি।

তামাক চাষ দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ- এমন মতবাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তামাকের ভায়বহতায় ক্যানসার, হৃদরোগ ও প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তাই তামাক চাষ বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষিত সমাজে ধূমপানের প্রবণতা বেশি উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধূমপান বেশি হয়। এ জন্য পরিবারকে দায়িত্ব নিতে হবে। অনেক অভিভাবক ছোট ছেলে-মেয়েদের বইয়ের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে বাড়তি চাপে মাদক গ্রহণ করছে।

প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ‘প্রজ্ঞা তামাক নিয়ন্ত্র সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০১৬’ এর বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক এবং দৈনিক সমকালের উপ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন।






মন্তব্য চালু নেই