মেইন ম্যেনু

আইন ভাঙার পুরস্কার পুনঃনিয়োগ!

অবসরগ্রহণ প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) থেকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম’ ভাঙার অপরাধে প্রশাসনিক নোট দেয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা এএফএম আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে। হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট-১ এর ইস্যু করা এ নোটের কারণে প্রথমত তার অনিয়মের বিচার হওয়ার কথা। কিন্তু উল্টো দুই লাখ টাকা বেতনে তাকে পুনঃনিয়োগ দেয়ার বন্দোবস্ত চলছে পুরোদমে!

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, অবসর উত্তর ছুটি ভোগরত অবস্থায় দাপ্তরিক ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করার অপরাধে আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক নোট জারি করা হয়। এ ধরনের অনিয়ম স্টাফ রুলের পরিপন্থি। এ ধরনের নোট জারি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিচার হওয়ার আগপর্যন্ত নিয়োগ তো নয়ই, চলতি বেতন ভাতাও বন্ধ হওয়ার কথা।

কিন্তু এক অদৃশ্য ক্ষমতাবলে পুনঃনিয়োগ পেতে যাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে তার (অভিযোগ রয়েছে লোক দেখানো) মৌখিক পরীক্ষাও সম্পন্ন করা হয়েছে। যেখানে ডক্টরেট, কর্নেল ও মেজরসহ ১২ জন প্রার্থী রয়েছেন। ওই কর্মকর্তাকে নিয়মিত অফিস করতেও দেখা যাচ্ছে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকই যদি আইন পরিপন্থি কাজ করে তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফেরাতে কীভাবে কাজ করবে? কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হিসেবে নিজেদের স্বকীয়তা ধরে রাখতে না পারলে, কে এই প্রতিষ্ঠানকে মানবে? এ ধরনের কাজ প্রতিষ্ঠানের মেধাবীদের অযোগ্য প্রমাণ করা জন্য যথেষ্ট- এই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রশাসনিক ওই নোটে অবসরে থাকার পরও আসাদুজ্জামান যেসব ফাইলে সই করছে তার প্রমাণ হিসেবে একটি ফাইলের উল্লেখ করা হয়েছে। এটি হলো ২৮.০১.২০১৬ তারিখের সূত্র নং: গস/প্রটো/প্রেস/২০১৬-৪৩।

অভিযোগ রয়েছে, এ নোটটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেমের কাছে গেলে তিনি আসাদুজ্জামানকে দায়মুক্তি দেন। তিনি নোটে লিখে দেন, আসাদুজ্জামানের নাম ও কম্পিউটার ব্যবহার করে অন্য কেউ এসব করেছে।

তবে জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যেক কর্মকর্তার কম্পিউটার সবসময় পাসওয়ার্ড দিয়ে সুরক্ষিত থাকে। কারও অনুমতি ছাড়া একজনের কম্পিউটার অন্যজন ব্যবহার করতে পারে না।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ বৈঠত হয়েছে। যেখানে এভাবে আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ না দিতে একাধিক ডেপুটি গভর্নর আতিউর রহমানকে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু গভর্নর তা কানে তোলেননি।

উল্লেখ্য, ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় পাবলিক সার্ভেন্টস (রিটায়ারমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৭৪ এর ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশনস, ২০০৩ এর ১৪ ধারা, অত্র ব্যাংকের ০৬/০৭/২০১৫ তারিখের প্রসাশনিক পরিপত্র নম্বর- ১৬, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ০৬/০৪/২০১০ তারিখের প্রজ্ঞাপন নম্বর-অম/অবি-প্রবি-১/চা. বি.-৩/২০১০(অংশ-৩)/৬২ এবং পাবলিক সার্ভেন্টস (রিটায়ারমেন্ট) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০১১, তারিখ-২৬১২/২০১১ মোতাবেক প্রাপ্য ছুটি থেকে আসাদুজ্জামানকে পূর্ণ বেতনে ৩১-১২-২০১৫ থেকে ৩০-১২-২০১৬ সাল পর্যন্ত অবসর-উত্তর ছুটি দেয়া হয়েছে।

এইচআরডি বিভাগের (কর্মচারি নির্দেশ নম্বর- এইচআরডি (২)-৮০৫/২০১৫) এ অর্ডারে বলা হয়েছে, এএফএম আসাদুজ্জামানের ৫৯ বছর পূর্তির দিন (৩০-১২-২০১৫ তারিখ) অকর্ম দিবস হিসেবে গণ্য হবে এবং এ দিন থেকে তার অবসর গ্রহণ কার্যকর হবে।






মন্তব্য চালু নেই