মেইন ম্যেনু

আইপিএলে নেই ভারতীয় চিয়ারলিডার

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) মানেই চিয়ারলিডারদের আধিপত্য। করব, লড়ব, জিতব- কেবল এতেই দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠবে না। এর জন্য প্রয়োজন সমর্থন ও উচ্ছ্বাস। দল হারুক কিংবা জিতুক সমর্থকের সমর্থন থাকে সবসময়ই। তবে খেলার সময় যারা চিয়ার করলে, `দল চাঙ্গা` হয়, তারা হলেন চিয়ারলিডার। উপমহাদেশে প্রথমবারের আইপিএলএ প্রথম দেখা গিয়েছিল চিয়ারলিডারদের।

তখন থেকেই উপমহাদেশে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেট চিয়ারলিডারদের প্রচলন শুরু হয়। তবে বিদেশে অনেক আগে থেকেই চিয়ারলিডারদের দেখা যেত। বলা যায় উপমহাদেশে এটা নতুন ধারণা। তাই তাদের নিয়ে এত উন্মাদনা।

এখন আর চিয়ারলিডার নিয়ে তেমন কৌতূহল নেই। আইপিএলের কল্যাণে বহুবার সুন্দরী চিয়ারলিডারদের দেখছে দর্শকরা। মাঠে চিয়ারলিডাররা কী করেন, কীভাবে নাচেন, ওভারের শেষে তারা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেন, সবই দেখছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাই কৌতূহলও নেই।

কিন্তু চিয়ারলিডারদের দেখলেই জনতার হৃদয়ে একটা মোচড় দিয়ে ওঠে। সুন্দরী চিয়ারলিডারদের দিকে গ্যালারি থেকেই চুমু ছুড়ে দেন দর্শকরা। আরও নানান রকমের অসভ্যতা করেন দর্শকরা। এমনও অনেক ক্রীড়াপ্রেমী আছেন যারা আইপিএল দেখতে যান ওই চিয়ারলিডারদেরই দেখার জন্য। চেনাপরিচিতদের কাছে টিকিট চান এই বলে যে গ্যালারিতে এমন জায়গায় যেন টিকিট পান যেখান থেকে চিয়ারলিডারদের খুব ভাল করে দেখা যায়।

এবার আইপিএলে আসা এক চিয়ারলিডার জানান, তাকে একরকম বলে আনা হয়েছে। অথচ তিনি এসে দেখছেন সম্পূর্ণ উল্টো। এই চিয়ারলিডারদের মোটেও ভাল জায়গায় রাখা হয় না। পাঁচতারা হোটেল তো দূর অস্ত। এই সব চিয়ারলিডারদের জন্য বরাদ্দ থাকে অত্যন্ত নিম্নমানের হোটেল। সেখানে আরশোলা দেখা যায়। তবুও হাসিমুখে এরা চিয়ারলিডারের কাজ করে যান।

আরেকজন চিয়ারলিডার জানান, খুব অবাক লাগে দেখে যে চিয়ারলিডাররা সবাই সাদা চামড়ার। ভারতীয় চিয়ারলিডার নেই কেন? সাদা চামড়ার মেয়েরাই ছোটখাটো পোশাক পরে নাচেন। সেখানে এদেশীয় মেয়েদের কোনো জায়গাই নেই।

চিয়ারলিডার ধারণাটাই বিদেশি। একবার ভারতের আই লিগে জেব্রা গার্লসদের আনা হয়েছিল। সেই জেব্রা গার্লসরা খেলার আগে, মাঝে বা পরে নাচতেন। দর্শকদের মনোরঞ্জন করতেন। আইপিএলের চিয়ারলিডাররাও তাই। বেশিরভাগ চিয়ারলিডারই বেলারুশ, ইউক্রেন বা পূর্ব ইউরোপের। তা ছাড়া পূর্ব ইউরোপের দেশের মেয়েদের শরীর নমনীয়। এই কারণেই ওই সব দেশ থেকেই জিমন্যাস্ট বেশি ওঠে। চিয়ারলিডার হতে গেলে দেহে নমনীয়তা দরকার। সেই জন্যই পূর্ব ইউরোপের দেশ থেকেই চিয়ারলিডার নেওয়া হয়। এখন অবশ্য চিয়ারলিডার কেবল নির্দিষ্ট জায়গায় থেমে নেই। ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বে। সর্বপ্রথম চিয়ারলিডারের সঙ্গে বিশ্ববাসীর পরিচয় হয় ১৮৯৮ সালের ২ নভেম্বর। ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোতা ছয়জন পুরুষ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি চিয়ারলিডিং এর আয়োজন করে। এরজন্য পড়াশোনার কোর্সও রয়েছে। রীতিমতো পাশ করে তবেই চিয়ারলিডার হতে হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়াটুডে, ২৪ ঘণ্টা, এবেলা






মন্তব্য চালু নেই