মেইন ম্যেনু

আই ফোনে, দশ মিনিটের ফিল্মে শাহরুখ-জিত

মাত্র ১৭ বছর বয়সের ডিরেক্টর মহিমা বর্মা। তার নির্মিত দশ মিনিটের শর্ট ফিল্মে অংশ নিলেন টলিউড বলিউডের নামকরা সব অভিনেতা অভিনেত্রীরা। কে নেই সেখানে! শাহরুখ খান, জিত, সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়, প্রীতি প্যাটেল, ঊষাউত্থুপ, রাজ মহতানি, তনুশ্রী শঙ্কর, নারায়ণ সিনহা, বিক্রম ঘোষ-সবাই এরা উপস্থিত৷ ছবির নাম ‘কলকাতা মাই হার্ডবিড’৷ কলকাতা নিয়ে শর্টফিল্ম এই প্রথম নয়৷ কিন্তু কাহানি মে টুইস্ট হল পুরো ফিল্মটা শ্যুট করা হয়েছে আই ফোন ক্যামেরা দিয়ে৷ কোনও প্রফেশনাল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়নি৷ প্রথম শর্ট ফিল্ম কলকাতার ওপরই কেন? লোরেটো হাউস-এর ক্লাশ টুয়েলভ-এর ছাত্রী মহিমার উত্তর, ‘এটা আমার শহর আমি এখানেই জন্মেছি৷ তাই প্রথম ফিল্মে কলকাতার প্রতি আমার ভালোবাসা প্রকাশ করেছি’৷

ফিল্ম তো যথেষ্ট প্রসংসিত৷ মেকিং নিয়েও কথা বলছেন সবাই৷ ‘হ্যাঁ, সবার খুব পছন্দ হয়েছে৷ আমি এতোটা স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা পাব আশাই করিনি৷ সবাই যে আমার এই ফিল্মের ফিচারড হতে রাজি হবেন, এটাও ভাবিনি’- লাজুক উত্তর মহিমার৷ এডিটিংটা অবশ্য নিজে করেননি তিনি৷ ৩ হাজার ভিডিও থেকে এডিট করে মাত্র ৩০০টা ভিডিও নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ফিল্ম৷ ছবির মিউজিক নেওয়া হয়েছে বিক্রম ঘোষ আর পিট লকেটের অ্যালবাম ‘কিংডম অফ রিডিং’ থেকে৷

যে সব সেলিব্রিটিরা এই ফিল্মে অংশ নিলেন, তাঁরা কী বলছেন মহিমা সম্পর্কে? ‘প্রথমেই মহিমার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই৷ এত অ্যাডভান্স ক্যামেরা থাকতেও শুধুমাত্র মোবাইল ক্যামেরা ব্যবহার করে যে এরকম একটা ফিল্ম তৈরি করা যায় আমি ভাবতেও পারিনি’- জানাচ্ছেন নৃত্যশিল্পী প্রীতি প্যাটেল৷ ‘মহিমার সঙ্গে আমার পরিচয় শামলুদির মাধ্যমেই (প্রসঙ্গত, মহিমা কাঁথা স্টিচ এক্সপার্ট সামলু দুদেজার নাতনী)৷ আমার বলেছিল ওয়ার্কশপে চলো, আমি বেশিক্ষণ সময় নেবো না৷ আমার কাজের পরিধি ব্যাপক৷ সেটা ও পাঁচ মিনিটে মোবাইল ক্যামেরায় আবদ্ধ করতে পারবে ভাবতেই পারিনি’- জানাচ্ছেন শিল্পী নারায়ণ সিনহা৷

বিক্রম ঘোষের মতে, ‘মহিমার পরিবারের সঙ্গে আমার অনেকদিনের পরিচয়৷ যখন কেউ কোনও ভালো কাজ করেন, তার আত্মপ্রত্যয়েই সেটা প্রমাণিত হয়৷ তাই যখন মহিমা আমাকে মিউজিকের কথা বলে আমি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই শুনি৷ এবং রাজিও হয়ে যাই৷ পরে যখন ফিল্মটা দেখি, বুঝতে পারি ভালো সিদ্ধান্তই নিয়েছি৷ মোবাইলের ক্যামেরায় তোলা হলেও ফিল্মের রেজিলিউশন আর প্রফেশনাল স্ট্যার্ন্ড দেখে সেটা বোঝাই যাচ্ছে না৷’

নৃত্য শিল্পী তনুশ্রী শঙ্করও জানাচ্ছেন, ‘খুব ভালো প্রয়াস আমি খুব খুশি হয়েছি মহিমার এই শর্ট ফিল্মের অংশ হতে পেরে৷ ও একদিন ফোনে আমাকে অ্যাপ্রোচ করে এবং আমিও রাজি হয়ে যাই৷’ এই ফিল্মের পর কলকাতাকে কি আরও একটু বেশি আপন মনে হচ্ছে? মহিমার উত্তর, ‘কলকাতা বরাবরই আমার আপন৷ আমি ভালো বাংলা বলতে পারি না৷ বাঙালিও নই৷ কিন্তু তাতে কিছু এসে যায় না৷ এটা আমার শহর৷ আর আমিও এই শহরেরই’৷






মন্তব্য চালু নেই