মেইন ম্যেনু

‘আই লাভ ইউ’ বলে ক্যানসার থেকে মুক্তি!

কথায় আছে, ‘বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর।’ এ কথা ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে লেখা শুরু করতে হচ্ছে। কারণ বিজ্ঞান দিয়ে তা প্রমাণ করার কোনো সুযোগ নেই।

বিশ্বে জনপ্রিয় বাক্যের প্রতিযোগিতা হলে ‘আই লাভ ইউ’ জয়ী হতো বলে বিশ্বাস করি। বাক্যটি বিশ্বের সব ভাষায় আছে নিজস্ব ঢঙে। বাংলায় যেমন ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ ‘আই লাভ ইউ’ সব ভাষার অধিকাংশ মানুষ, হোক শিক্ষিত বা অশিক্ষিত বুঝতে পারে বলে ধরে নেওয়া যায়। এ জন্য অবশ্য ইংরেজির বিশ্বজোড়া প্রভাবই মূল কারণ।

এবার আসি মূল কথায়। ‘আই লাভ ইউ’ বলতে বলতে এক ব্যক্তি ক্যানসার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ক্যানসার ধরা পড়ার পর তিনি কোনো চিকিৎসা করাননি। কি আশ্চর্য! মারণব্যাধি ক্যানসার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কোনো ওষুধপত্র ছাড়াই সেরে গেল শুধু ‘আই লাভ ইউ’-এর গুনে। সত্যিই, বিশ্বাস করা খুবই কঠিন।

ক্যানসার রোগী যখন নিজেই দাবি করছেন, আই লাভ ইউয়ের জোরে তিনি ক্যানসার থেকে মুক্তি পেয়েছেন, তখন কার কী-ইবা বলার থাকে। তার ভাষ্যমতে, তিনি ১০ লাখের বেশি বার বিভিন্ন মানুষকে বলেছেন, আমি তোমাকে ভালোবাসি। শুধু বিশ্বাসের ওপর ভর করে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই নিজের ওপর ‘আই লাভ ইউ থেরাপি’ প্রয়োগ করেছেন এই ব্যক্তি।

ভারতের গুজরাট রাজ্যের বিনোদন জগতের খবরাখরব যারা রাখেন, তারা মুখটি চিনতে পারেন। অভিনেতা অর্চন ত্রিবেদী (৫০)। অভিষেক জাইন পরিচালিত ‘বে ইয়ার’ এবং বিপুল শর্মা পরিচালিত ‘দেশ বুক’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তারকা খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। তার অভিনয় গুণ জানতে সিনেমা দুটি সুযোগ পেলে দেখে নিতে পারেন।

এই অর্চন ত্রিবেদী দাবি করেছেন, ‘আই লাভ ইউ’ বলতে বলতে তার ক্যানসার সেরে গেছে। বিষয়টি তার কাছে ‘তিন শব্দের জাদু’। এই জাদুবলে দুরারোগ্য ব্যধির আক্রমণ থেকে বেঁচে গেছেন তিনি।

এই সুযোগে কিছু কথা না বললেই নয়। ভারতে আধ্যাত্মবাদের চর্চা বহু প্রাচীন। আত্মা ও মনকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আসাধ্য অনেক কিছু সাধন করা যায়- এমন বিশ্বাস ভারতবাসীর মধ্যে কম-বেশি আছে। আধ্যত্মবাদের চর্চায় যোগ বা যোগ ব্যায়াম উল্লেখযোগ্য একটি উপায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আধ্যাত্মবাদের চর্চায় বিশ্বাস করেন। এই কারণে তাকে সমালোচনাও সহ্য করতে হয়। মোদিকে যুক্তিবাদীরা ‘অবৈজ্ঞানিক’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন। কিন্তু যোগ বা ইয়োগা এখন বিশ্বজুড়ে চর্চিত। তবে অর্চন ত্রিবেদী তার ক্যানসার নিরাময়ের নেপথ্যে যোগের ভূমিকা আছে- এমন কিছু বলেননি।
মোদির জন্মভূমি গুজরাট। অর্চন ত্রিবেদীর বাড়িও গুজরাট। জন্মস্থান সূত্রে মোদির সঙ্গে তার মিল রয়েছে। ভাবনাগত জায়গা থেকেও তাদের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া গেল। শরীর ও মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় নিজের বিশ্বাসকে কাজে লাগচ্ছেন দুজনই। তা ছাড়া ৬৫ বছর বয়সেও সুঠাম দেহের অধিকারী মোদি। কী কারণে। অনেকে বলে থাকেন ধ্যান চর্চার কারণেই তিনি সুস্থ-সবল আছেন। অর্চন ত্রিবেদীও যেন মোদির পথে হেঁটেছেন। তবে একাকী নিরব বা নির্জন স্থানে বসে নয়, তিনি ধ্যান করেছেন সবার মধ্যে থেকে। দিনের সব কাজের মধ্যেই নিজের মনকে স্থির রেখেছেন, সব জড়তা, ভয়কে দূরে ঠেলে ফুরফুরে থেকেছেন। তার ভাষ্য, এ কারণেই তিনি ক্যানসার জয় করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

৯০ দশকে ‘গুনাহগার’ নামে সিরিয়ালে অভিনয় করার সময় অর্চন ত্রিবেদীর রক্ত ও ফুসফুস ক্যানসার ধরা পড়ে। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় মেডিক্যাল পরীক্ষা করে দেখেন, তার শরীরে ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। অর্চন জানিয়েছেন, তিনি বৈজ্ঞানিক চিকিৎসার দিকে যাননি। তার সবচেয়ে প্রিয় তিন শব্দের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শক্তি খুঁজেছেন। তখন থেকে শুরু করে প্রায় দুই যুগ তিনি যার সঙ্গেই কথা বলেছেন, শুরু করেছেন ‘আই লাভ ইউ’ দিয়ে। তার বিশ্বাস এই তিন শব্দের মধ্যে স্বর্গীয় শক্তি আছে। প্রশ্ন উঠতে পারে সত্যিই কি আছে? এর উত্তর শুরুতে দিয়ে দিয়েছি, ‘বিশ্বাসে মেলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর।’

সবাইকে কি আই লাভ ইউ বলা যায়, পরিচিত বা অপরিচিত, নারী বা শিশু সবাইকে? অপরিচিত নারীদের তিনি কীভাবে সম্বোধন করেন, জানতে চাইলে অর্চন ত্রিবেদী বলেন, ‘স্বর্গীয় অনুভূতি নিয়ে যখন আপনি আই লাভ ইউ বলবেন, তখন সবাই তা গ্রহণ করে।’

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা আছে। গুজরাট সরকারের শিল্প ও সংস্কৃতি বিভাগ অর্চন ত্রিবেদীকে চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার রুপি দিয়েছিল। পরে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়ম না থাকায় দেওয়া রুপি ফেরত নিতে পারেনি সরকারি কর্মকর্তারা। তার বিশ্বাস ছিল, তিন শব্দের ‘আই লাভ ইউ জাদুতে’ তার ক্যানসার সারবে, চিকিৎসায় নয়। শেষ পর্যন্ত জয় হয়েছে তার। তবে এমন পদ্ধতি অন্য কারো বেলায় কাজে আসবে কি না- এই প্রশ্নের উত্তর অর্চন ত্রিবেদীর কাছেও নেই।

সুস্থ হয়ে ওঠার পরও অর্চন ত্রিবেদী সবাইকে বলে যাচ্ছেন, আই লাভ ইউ।






মন্তব্য চালু নেই