মেইন ম্যেনু

আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে

ফরিদুন্নাহার লাইলী : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্মদিন, বাংলাদেশের আনন্দের দিন। একটি রাজনৈতিক দলের জন্মদিন কোন অর্থে পুরো দেশের কাছে আনন্দের? ঠিক এই অর্থে, আওয়ামী লীগ মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের রূপকার। এই দলের কাণ্ডারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় নেতৃত্বে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় অর্জন প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আত্মপ্রকাশ করে। জন্মলগ্নে এই দলের নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। ১৯৫৫ সালে এই দল ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে। দলের পুনঃনামকরণ হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। অচিরেই আওয়ামী লীগ হয়ে উঠে পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী সুসংগঠিত প্রধান রাজনৈতিক শক্তি।

বিশ্বে আর কোন দ্বিতীয় দল নেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ছাড়া, যারা কিনা একটি জাতির ভাষার জন্যে লড়েছে; একটি পতাকা নিজেদের করে পাবার জন্যে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে। ১৯৭১ সালে এই দলটি ছিল দেশের সকল মানুষের আশা ভরসার আশ্রয়স্থল। তাইতো বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ শত্রু মুক্ত করেছে। সেই তখন থেকে আওয়ামী লীগের প্রতি বরাবরই মানুষের প্রত্যাশা বেশি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার মাধ্যমে এই দেশ থেকে গণতন্ত্রের সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।

বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেই সময়ে বিদেশে থাকায় সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। তারপর থেকে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যাকে নিজ দেশে আসায় অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। অনিরাপদ জেনেও সকল প্রাণভয় তুচ্ছ করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে নিজ দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। তারপর বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত পথের পূর্ণতাদানের শপথে আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার গ্রহণ করে তিনি। দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিলেন বাংলার মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। বন্দুকের নলের কাছে গণতন্ত্র জিম্মি। তিনি অঙ্গীকার করেন জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণই হবে প্রজাতন্ত্রের মালিক। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুকন্যার গণতন্ত্র ও শান্তি পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। বন্ধুর সেই পথচলায় অসংখ্যবার তাকে মৃত্যুকে জয় করতে হয়েছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত অবাধ নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। পরে ঐ বছরের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা দিবসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা প্রথম সরকার গঠন করে। দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় পুনঃপ্রত্যাবর্তনের ফলে পঁচাত্তরের বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সূচিত স্বৈরশাসন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ধারার অবসান হয়। শেখ হাসিনার সরকার জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। সেই পাঁচ বছরে দেশে উন্নয়ন-অর্থনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে অর্জিত হয় চমকপ্রদ সাফল্য।

তারপর বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে জোট করে ক্ষমতায় আসে ২০০১ এর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন সামরিক শাসকের দ্বারা ক্যান্টনমেন্টে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতায় এসে দেশ দুর্নীতিতে ভাসিয়ে দেয়। আর তাদের মিত্র জামায়াত দেশব্যাপী জঙ্গি বীজ বিস্তার করে। তার প্রমাণ জনগণ দেখেছে। দেশের ইতিহাসে বড় বড় সব জঙ্গি হামলা ঐ মেয়াদে হয়েছিলো। বিশেষ করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতা-কর্মী নিহত ও শত শত আহত হবার ঘটনা বিশ্বব্যাপী নাড়া দিয়েছে। এছাড়াও ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ৬৪ জেলায় একই সময়ে ৫০০ স্থানে বোমা হামলার ঘটনা বিশ্ববাসীকে অবাক করেছে। ঠিক এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশের জনগণ কতোটা উতলা ছিল তার প্রমাণ পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলই বলে দেয়। সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ২৯ টি আসন বাদে সবকয়টি আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়লাভ করে।

সেই থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে নিয়ে যাবার স্বপ্নে শেখ হাসিনার এগিয়ে চলা। শুধু স্বপ্ন নয়, ইতোমধ্যে তার প্রমাণ স্পষ্ট সবার কাছে। গত বছর বিশ্বব্যাংকের তালিকায় নিন্ম আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ নিন্ম মধ্য আয়ের দেশে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.২। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন করছে এই সরকার। ভাবা যায়, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত এই দেশে ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে পদ্মা সেতু নির্মিত হচ্ছে সম্পূর্ণ দেশের টাকায়! এটা শুধু যে স্বনির্ভরতার চিত্র তা নয়, বলতে হয় দুঃসাহসিকতা। বঙ্গবন্ধুর কন্যার পক্ষেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। আরেকটি পরিসংখ্যান টেনে আনলে বুঝা যায় দেশের কি আমূল পরিবর্তন এসেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

গত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা বিএনপি সরকারের সর্বশেষ বাজেট ঘোষণা হয় ৬৯ হাজার কোটি টাকার। আর বর্তমান সরকারের সর্বশেষ বাজেট ঘোষণা হয় তিন লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি বোঝার জন্য আদতে আর কোনো উদাহরণ দরকার হয় না, বাজেটের আকারই তার প্রমাণ বহন করে। তাই বলতেই হয়, আওয়ামী লীগই পারে, আওয়ামী লীগই পারবে।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য এবং ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই