মেইন ম্যেনু

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল ও নতুন নেতৃত্ব

কবীর চৌধুরী তন্ময় : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র ২০তম কাউন্সিল নিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলন-এর আগেই নিজেদের তুলে ধরার জন্য স্যোশাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও প্রচারনা অবলোকন করা যাচ্ছে। সবাই চায় একটু ভালো জায়গায় নিজের নাম লেখাতে। আর এটা স্বাভাবিকও।

ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রাচীন-বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সদস্য পদটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানের। সেটা জেলা-উপজেলা, ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কিংবা কেন্দ্রীয় কমিটেরই হোক না কেন। আর তাই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজপথের অতীত হিসেব-নিকেসও ভাইরাল করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর ২০তম জাতীয় সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা ভবিষ্যত নেতৃত্ব নির্ধারণ এবং কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কাজ, জামায়াত ইসলাম-সংগঠন নিষিদ্ধ করণ, যুদ্ধাপরাধী ব্যক্তি ও সংগঠনের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করণ, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ-নির্মূল, দলিয় শৃঙ্খলা এবং সংগঠনের চেইন অব কমান্ড জোড়ালো-শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

‘আওয়াামী লীগের সব নেতাকে কেনা যায়, এটাই সমস্যা। শেখ হাসিনা ছাড়া’ ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হতে-হতে দলিয় প্রধান বঙ্গবন্ধু’র কন্যা শেখ হাসিনার এই মন্তব্যটি একবারেই হালকাভাবে নেওয়া বা উড়িয়ে দেওয়ার মতন নয় বলে পরবর্তীতে বহু কর্মকান্ডে প্রতীয়মান হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় জেএমবি, যুদ্ধাপরাধীর সন্তান, বিএনপি’র নেতা, জামায়াত ইসলামের বহু নেতার হাতে টাকার বিনিময়ে অনেক আ’লীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীক তুলে দিয়েছিল বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে যা পরবর্তীতে শেখ হাসিনার নির্দেশক্রমেই জেএমবি’র সদস্যের মনোনয়ন বাতিলও করা হয়।

তৃতীয় বিশ্ব অগ্রসর হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে। দেশপ্রেম, সংগঠন প্রিয়, সাংগঠনিক, শিক্ষা-দীক্ষা, সুস্থ-গ্রহণযোগ্যতা আর মেধা-সভ্যতার আধলে। আর আমরাও সেদিকে এগিয়ে চলেছি। তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ এখন একটি উদাহরণ। শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ পরিকল্পনা এখন শুধু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতই নয়, বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রপ্রধান অনুকরণ-অনুস্মরণ করে চলেছে।

ডিজিটাল বাংলাদশ বিনির্মাণে যিনি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে চলেছে, যার হাত ধরে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে, তিঁনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক খন্ডকালীন ও অবৈতনিক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধের জয় বার্তা নিয়েই ২৭ জুলাই পিতা পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও বিশ্ব মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার সংসারকে আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিঁনি ভারতের পালানি হিলসের কডাইকানাল আন্তর্জাতিক স্কুল থেকে শিক্ষা জীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তামিল নাড়–র সেন্ট জোসেফ কলেজে অধ্যয়ন করেন। ব্যাঙ্গোলর বিশ্ববিদ্যালয় দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে বিএসসি ডিগ্রি নেন কম্পিউটার সায়েন্স, ফিজিক্স ও ম্যাথম্যাটিকস বিষয়ের উপর।

কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে তাঁর আগ্রহের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রেরর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পুনরায় বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। সর্বশেষে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কেনেডি স্কুল অব গভর্নমেন্ট থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন জাতির জনক’র দৌহিত্র ও শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।

‘ইওর সন ইজ ভেরি স্মার্ট, অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট’ অর্থাৎ ‘আপনার ছেলে খুব সুদর্শন ও বুদ্ধিমান’ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এমন প্রশংসা করলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের।

ইতোমধ্যেই নিজ সমাজ ও পেশার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য প্রথম বাংলাদেশি হয়ে আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে ২০০৭ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম থেকে ‘ইয়াং গ্লোবাল লিডার’ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন জয়।

ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্লান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট প্রদেশের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে আয়োজিত ডিজিটাল বিশ্বের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খ্যাতনামা অভিনয় ও সংগীতশিল্পীদের উপস্থিতিতে ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন বরেণ্য হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডেভি।

একজন মা হিসেবে শেখ হাসিনা যেমন সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে গর্ববোধ করেন, বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য আমরাও জাতি হিসেবে গর্বিত। আর তাই তাঁর এই সাফল্য চলমান রাখার জন্য, নতুন প্রজন্মকে আরও আধুনিক, আরও সমৃদ্ধ, আরও উচ্চাপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের যেমন দ্বায়িত্ব রয়েছে। তেমনি ইতিহাস-ঐতিহ্যের রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র সেই কর্তব্য গ্রহণ-পালন করা এখন সময়ের দাবি হয়ে ওঠেছে।

মুক্তিযুদ্ধের সেই ঝড়-তুফানে জন্ম নেয়া, রাজনৈতিক ইতিহাস-ঐতিহ্যের সংস্কৃতিতে বড় হওয়া সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্যপদ লাভ করার মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নতুন নেতৃত্বের আশার দিশারী হয়ে এগিয়ে চলেছেন এবং রংপুর জেলার কাউন্সিলর হিসেবে আসন্ন জাতীয় সম্মেলন-এ যোগ দেবেন তিঁনি।

মিডিয়া এবং স্যোশাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নিজের গ্রহণযোগ্যতায় অদ্বিতীয় জয়। আর তাই ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে ঈর্ষান্বীত হয়ে ভবিষ্যত রাজনীতি থেকে মুছে দেওয়ার জন্য ২০১১ সালে এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট রবার্ট লাস্টিককে ঘুষ দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত তথ্যাদি জেনে তাঁকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মতন ষড়যন্ত্র করার পরেও তিঁনি বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্য বা ব্যক্তিগত আক্রমন করে ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে বিরত ছিলেন যা আধুনিক ও শিক্ষিত নাগরিক তথা নতুন প্রজন্মের সামনে উদাহরণ হয়ে বেশ আলোচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র ২০তম জাতীয় সম্মেলন-এ কাউন্সিলরগণ বঙ্গবন্ধু’র দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে যদি গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব গ্রহণে বাধ্য করতে পারে তাহলে ভবিষ্যত নেতৃত্বের নক্ষত্র হবেন তিঁনি। শিক্ষা-মেধা, সভ্যতা-নেতৃত্বের জায়গায় ইতোমধ্যেই তিঁনি নতুনদের মাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু’র কন্যা শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ২৬ অক্টোবর ২০০২ সালে ক্রিস্টিন অ্যান ওভারমাইনকে বিয়ে করেন। সোপিয়া রেহানা ওয়াজেদ কন্যা সন্তান তাঁদের সংসার আলোকিত করে রেখেছে।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)






মন্তব্য চালু নেই