মেইন ম্যেনু

আওয়ামী লীগ নেতার অপহরণ নাটক ফাঁস, চাঞ্চল্যকর তথ্যে এলাকা তোলপাড়

খুলনার দাকোপে বহুল আলোচিত সুভাষ গাইন অপহরণ নাটক ফাঁস হয়ে গেছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে গিয়ে মামলার বাদী আওয়ামী লীগ নেতা নিজেই এখন বেকায়দায় পড়েছেন। উপজেলার কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক রবীন্দ্র নাথ মণ্ডল এ অপহরণের নাটক সাজান। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের জব্দ করতে গিয়ে এ অপহরণ মামলা করা হয় বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। অপহরণ নাটকের দশদিন পর ভিকটিম সুভাষ গাইন (৪৫) আদালতে উপস্থিত হয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মারুফ আহমেদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, মামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমি আমার নিজ বাড়িতে ছিলাম। আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। আমি খুলনায় এসেছিলাম নিজ কাজে। সেখান থেকে পুলিশ আমাকে আদালতে নিয়ে এসেছে।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি এসআই প্রিয়তোষ কুমার সরকার রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর রূপসাঘাট এলাকা থেকে সুভাষ গাইনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে সিআইডি অফিসে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক মো. মঞ্জুরুল হোসেন সুভাষ গাইনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবান্দি রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। পরে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মারুফ আহমেদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সুভাষ গাইনকে নিজ জিম্মায় মুক্তি প্রদান করা হয়। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ই মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৪ নং কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিহির মণ্ডলের নৌকা প্রতীকের পক্ষে বাদী রবীন্দ্র নাথ মণ্ডলসহ দলীয় লোকজন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে হরিণটানাস্থ বোর্ড বাড়ির সামনে আওয়ামী লীগ অফিসে আলোচনা করছিলেন।

এ সময় আসামিরা বাদীর বাড়ি, রাজনৈতিক অফিস ভাঙচুর করে এবং চলে যাওয়ার সময় দাকোপ উপজেলার হরিণটানা গ্রামের মৃত যতীন্দ্র নাথ গাইনের ছেলে সুভাষ গাইন (৪৫)কে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের ধারণা অপহরণপূর্বক হত্যা করে গুম করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন (১৯শে মার্চ) দাকোপ উপজেলার হরিণটানা (বোর্ড বাড়ি) গ্রামের মৃত শশধর মণ্ডলের ছেলে রবীন্দ্র নাথ মণ্ডল (৩৫) বাদী হয়ে দাকোপ থানায় অপহরণ, ছিনতাই, ভাঙচুর ও মারপিট মামলা দায়ের করেন।

মামলায় দাকোপ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক এমপি ননী গোপাল মণ্ডল, নীলা মৃত রায়, রূপক রায়, দুর্গাপদ রায়, জাহাঙ্গীর আলম গাজী, ফয়সাল গাজী, শিবেন্দ্র প্রসাদ রায়, তরঙ্গ মণ্ডল, রিপন রপ্তান, মনির ফরাজি, প্রদীপ গাইন, অমর গাইন, মলিনা জোয়ার্দার, প্রলয় জোয়ার্দার, মাজেদ ফরাজি, নান্না হাওলাদার, ননী গাইন, রাজেশ মণ্ডল, তেজেশ মণ্ডল, মিঠু মণ্ডল, দেবব্রত বিশ্বাস, ফারুক হাওলাদার, ফারুক মণ্ডল, তারনি মণ্ডল, মিহির রায়, সাহিত্য মণ্ডল, মৃনাল মণ্ডল, অসিত মজুমদার, অজয় মজুমদার, নিহার রঞ্জন রায়, নিরঞ্জন ও তাপস মণ্ডলের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ শ’ জনকে আসামি করা হয়। -এমজমিন






মন্তব্য চালু নেই