মেইন ম্যেনু

আক্রান্ত হলেই গুলি, আতঙ্কে জামায়াত

আক্রান্ত হলেই পুলিশ সদস্যরা গুলি করতে পারবেন, এজন্য কোনো প্রকার পূর্বানুমতির প্রয়োজন পড়বে না- এমন খবর শোনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। তারা বিবৃতি দিয়ে এ জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এ ঘোষণা দেশের আইন, সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বলেও দাবি করেছে।

বুধবার ঢাকার আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া চেকপোস্ট এলাকায় শিল্প পুলিশের এক কনস্টেবলকে কুপিয়ে হত্যার পর পুলিশের সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে দেশের ৬৪ জেলাসহ সবকটি রেঞ্জের ডিআইজির কাছে। সে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলে প্রয়োজনে গুলি করতে পিছপা হওয়া যাবে না, এর জন্য কারো অনুমতির প্রয়োজন নেই।

এছাড়া র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ গত বুধবার রাতে বিজি প্রেসের সামনে সাংবাদিকদের বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিজের ও অন্যের জীবন রক্ষার জন্য যে কোনো মুহূর্তে গুলি করতে পারবে এ জন্য কোনো নির্দেশনা প্রয়োজন নেই।

একই দিন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ডিএমপির পুলিশ কমিশনার অফিসে উপ-পুলিশ কমিশনার ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠককালে বলেছেন, ‘তল্লাশী চৌকিতে দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলেই গুলি চালাতে পারবেন।’

পুলিশ কর্মকর্তাদের এ ধরনের বক্তব্য এবং পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এম. আলম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের নির্দেশনার ফলে পুলিশ বাহিনী বেপরোয়া হয়ে যাবে। পুলিশদের আর জবাবদিহীতার ভয় থাকবে না।

এ নিদের্শের ফলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বিচারে গুলি করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করার প্রবল আশংকা প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে- এভাবে দেশের পুলিশ বাহিনীকে নিরীহ জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ ঘোষণা দেশের আইন, সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

আক্রান্ত হলেই গুলি করার অনুমতি দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় জামায়াতের ‘উদ্বেগ’কে প্রকৃতপক্ষেই আতঙ্ক ও ভয় হিসেবেই মনে করছেন অনেকে। কারণ আন্দোলনের নামে পিটিয়ে পুলিশ হত্যার নজির রয়েছে এদলের নেতা-কর্মীদের। এমনকি চলমান ব্লগার, লেকক, প্রকাশক ও পুলিশ হত্যার পেছনে অনেকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মনে করেন।






মন্তব্য চালু নেই