মেইন ম্যেনু

আগস্টে যত হামলা

আগস্ট মাস বাংলাদেশের জন্য শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আগস্ট মাসে বাংলাদেশ আক্রান্ত হয়েছে জঙ্গিদের থাবায় চলুন দেখে নেওয়া যাক আগস্ট মাসে যত জঙ্গি হামলা। তারিখের ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে ঘটনাগুলোকে।

৭ আগস্ট, সিলেটের গুলশান সেন্টারে হামলা: ২০০৪ সালের এই দিনে সিলেটের তালতলায় অবস্থিত গুলশান সেন্টারে আওয়ামী লীগের একটি কার্যকরী সভায় বোমা ও গ্রেনেডহামলা চালায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ। এতে একজন নিহত ও ৪০ জনের বেশ আহত হন। নিহত ব্যাক্তি হলেন তৎকালীন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী। আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেননি। সিলেট ভিত্তিক একটি অনলাইনের সূত্রে জানা যায় এই হামলার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এটির মামলায় তেমন অগ্রগতি হয়নি।

২০০৪ সালের ৮ আগস্ট: সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এনামুল হক হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। এতে আসামী করা হয় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের। ২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০১০ সালের ২ আগস্ট, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মিসবাহউদ্দিন ঘটনার পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। বিষ্ফোরক মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনও চলছে আর হত্যামামলার অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

৭ আগস্ট, ব্লগার নিলয় নীল হত্যা: ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট রাজধানীর গোড়ানে বাসায় ঢুকে ব্লগার নিলয় নীলকে হত্যা করে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম। নিলয়কে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রগতিশীল সমাজ ফুঁসে ওঠে। নিলয়ের হত্যা মামলায় ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটির প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর।

০৮ আগস্ট, উম্মুল মুমীনিন তাইওয়্যেবুর রহমান ও তার ছেলে হত্যা: ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নিজেকে উম্মুল মুমেনীন দাবিদার তৈয়বুর রহমান ও তার ছেলে নাজমুল মনির নিজ বাসায় খুন হন। ঘটনাটি বাংলাদেশে আইএসের প্রথম অপারেশন বলে মনে করেন অনেকে। বিতর্কিত ধর্মীর পরিচয়ের বাহিরেও তিনি ছিলেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক উপ-পরিচালক। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে এমন কোনও অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি।

১৭ আগস্ট, সারাদেশে বোমা হামলা: ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট একযোগে কেঁপে ওঠে সারাদেশ। অন্তত ৫০০টি ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একযোগে এই বোমা হামলা চলে। এতে দুইজন নিহত ও দুই শতাধিক লোক আহত হয়। এই ঘটনায় সারাদেশে ৬৬০ জনকে আসামী করে ১৬১টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ১০৩ মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাকী মামলাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিচারে এ পর্যন্ত ১৫ জেএমবি সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১১৮ জনকে, এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় ১১৬ জনকে। মামলা থেকে অব্যহতি পান ১১৮ জন।

২১ আগস্ট, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা: বাংলাদেশের ইতিহাসে জঙ্গিবাদের অন্যতম বিভৎস উদাহরণ ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন, আহত হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০০-৪০০ জন। এই মামলায় তৎকালীন সরকার জজ মিয়া নাটক সাজায় ও মূল আসামীদের বাইরে রেখেই মামলার নিষ্পত্তি করে। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে মামলাটির পুনঃতদন্ত করা হয়। ঘটনার দুটি মামলায় ৪৯১ জন সাক্ষীর মধ্যে এপর্যন্ত ২২৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে খুব শীগ্রই এই মামলাগুলোর রায় পাওয়া যাবে। হামলাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বা হুজির কাজ বলে জানা গেছে।

২৭ আগস্ট, শেখ নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা: ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি টেলিভিশনে ধর্ম বিষক বক্তা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে বাসায় ঢুকে গলাকেটে হত্যা করে। ঘটনার পরের দিন ফারুকীর ছেলে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানান গেছে মামলাটিতে কোনও অগ্রগতিই নেই এখনও। এছাড়া ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে হামলা করে নিষিদ্ধ ফ্রিডম পার্টি।






মন্তব্য চালু নেই