মেইন ম্যেনু

‘আগামী ত্রিশ বছরের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বিএনপি’

দীর্ঘ তিনযুগের বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বাস্তবতার আলোকেই নতুন করে সাজবে দলটি। জেলা কমিটি পুনঃগঠিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ অক্টোবর পর্যন্ত গড়াবে এ প্রক্রিয়া। নভেম্বরজুড়ে প্রস্তুতি শেষে এবারো ডিসেম্বরেই ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করার টার্গেট রেখেছে হাইকমান্ড।

এরই মধ্যে ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠন করা হবে। প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জে. মাহবুবুর রহমান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের গড়া ছত্রিশ বছরের বিএনপিকে ঢেলে সাজিয়ে আগামী আরো ত্রিশ বছরের জন্য প্রস্তুত করতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। নতুন বিএনপির এই পথ চলার সাথে সম্পৃক্ত করতে চান দেশ বরেণ্যদেরও। সভা-সমাবেশ ছাড়াও দলের প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের সাথে এমন আলাপও করেছেন তিনি। তাই এখনই আন্দোলনের কথা ভাবছে না দলটির নীতি-নির্ধারকরা।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেই নীতি-নির্ধারণী ফোরাম পুনর্গঠনসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি দিতে পারেন। সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের এমন ইঙ্গিতই দেয়া হয়েছে। নীতি-নির্ধারকদের কয়েকজনের মতে, বিএনপি চেয়ারপারসনের লন্ডন সফর বেশ গুরুত্ব বহন করছে। চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি আগামীর কর্ণধার দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে সময় উপযোগী সংগঠন প্রস্তুত করাসহ সুদূরপ্রসারী দিক-নির্দেশনা দেবেন বেগম খালেদা জিয়া।

এ ক্ষেত্রে দলের মহাসচিব নির্বাচন, স্থায়ী কমিটিতে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা, নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে সাচ্চা নেতাদের পদায়ন এবং নির্বাহী কমিটির বাইরে একটি পরামর্শ দেবার জন্য কমিটি গঠন করার কথা চলছে। তাতে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তথ্য-প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় খুব শিগগিরই প্রেস উইংয়ের পরিধি বাড়ানো হবে। গঠন করা হবে গবেষণা সেল। ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির ইতিবাচক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যতে তাদের পরিকল্পনা দেশবাসীর প্রতি জানান দিতে কাজ করবে এই সেল।

ধীরে চলছে পুনর্গঠন : বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশক্রমে যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান গত ৯ আগস্ট এক চিঠিতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা, মহানগর, থানা/উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। পুনর্গঠন কাজ চলছে তবে প্রত্যাশিত গতিতে নয়।

গাইবান্ধা, রাঙ্গামাটি, মেহেরপুর, দিনাজপুর, পিরোজপুরসহ ৮টি জেলা তাদের থানা, ইউনিয়ন কমিটি পুনর্গঠিত করেছে। জেলার সম্মেলনের জন্য চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রকে। ৬টি জেলা সময়ের আবেদন করেছে। বাকিগুলোতে কাজ চলছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী মঙ্গলবার দেশে ফিরছেন। তার উপস্থিতিতে পুনর্গঠন কাজ আরো গতি পাবে। দলের সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু এই প্রতিবেদককে জানান, পুনর্গঠনে সরকার নানামুখী বাধাবিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তাই যৌক্তিক কারণেই কিছু জেলাকে সময় দিতে হবে। তবে সর্বোচ্চ অক্টোবরেই সব জেলা কমিটি পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, যেখানে কমিটি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ছাড়াও লন্ডনে যাবার আগে চেয়ারপারসন নিজে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনভাবেই যেন ত্যাগী নেতারা বাদ না পড়েন এবং পকেট কমিটি না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখছেন তিনি। এরপরও কোন ব্যত্যয় ঘটলে সে কমিটি অনুমোদন দেবে না কেন্দ্র। প্রয়োজনে কেন্দ্র থেকে আহ্বায়ক কমিটি করে দেয়া হবে। তৃণমূল পুনর্গঠনের পরই কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে কাজ করবেন হাইকমান্ড।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির সর্বশেষ ৫ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিধি রয়েছে। সে অনুযায়ী ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ৬ষ্ঠ কাউন্সিল হওয়ার কথা। তবে বিরোধীদল হিসেবে আন্দোলনে ব্যস্ততা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে তা করতে পারেনি দলটি। ২০১৩ সালে একবার কাউন্সিল আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নিলেও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানসহ সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরে আসে দলটি। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি মেনে ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ২০১৪ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কাউন্সিল আয়োজনের সময় চায় দলটি। সেটিও সম্ভব হয়নি। তবে এবারো ডিসেম্বর মাসকেই টার্গেট করে এগুচ্ছে বিএনপি।

স্থায়ী কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ ও নির্বাহী কমিটি : ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির কলেবর বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এই কমিটির অনেকেই বয়সের কারণে অবসরে যেতে হবে। একই সাথে কর্মের কারণে ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত চার-পাঁচজন এই কমিটিতে স্থান পেতে পারেন বলে তার ধারণা।

এর মধ্যে সাদেক হোসেন খোকা, আব্দুল্লাহ আল নোমান, বিচারপতি টিএইচখান, রিয়াজ রহমান ও খন্দকার মাহবুব হোসেনের নাম ইঙ্গিত করেন তিনি। নির্বাহী কমিটিতে যোগকরা হচ্ছে সারা দেশের তরুণ বিশেষ করে নব্বইয়ের পর সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠের ছাত্রদল নেতাদের। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এই পর্যায়ের শতাধিক নেতার একটি তালিকাও করা হয়েছে। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও পুনর্গঠন করার প্রস্তুতি রয়েছে বিএনপি। সরকারের তরফ থেকে নতুন করে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি না করা হলে ঢেলে সাজানো বিএনপি দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে বলে মনে করেন নীতি-নির্ধারকরা।-ইনকিলাব






মন্তব্য চালু নেই