মেইন ম্যেনু

আগুন জ্বলছে ভারতের ড্রেসিং রুমে!

বাংলাদেশের কাছে লজ্জ্বাজনক সিরিজ হারের অজুহাত খুঁজছে এখন ভারত। একে অপরকে দোষারোপ করা কিংবা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির কাজটাও শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। টক্কর লেগেছে মূলতঃ প্রত্যক্ষভাবে ভারতীয় দলের অংশ নন, কিন্তু পরোক্ষে তাদের বাদও দেওয়া যায় না এমন দু’জন ব্যাক্তির সঙ্গে। তারা অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং সহ-অধিনায়ক বিরাট কোহলির ব্যাক্তিগত কোচ চঞ্চল ভট্টাচার্য এবং রাজ কুমার শর্মা।

প্রশ্নটা তুলে দিয়েছে ধোনির ব্যাক্তিগত কোচ চঞ্চল ভট্টাচার্য। শুধু প্রশ্নই তোলা নয়, ভারতের অন্দর মহলের খবরও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ভারতের ড্রেসিং রুমের পরিবেশ মোটেও ভালো নেই। সেখানে বিরাজ করছে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। যে কারণে সব সময়ই চিন্তিত থাকতে হচ্ছে অধিনায়ক ধোনিকে এবং একই কারণে খেলায়ও ঠিকভাবে মনযোগ দিতে পারছেন না তিনি। এনডিটিভি জানিয়েছে এ সংবাদ।

নিশ্চিত বিস্ফোরক মন্তব্য। সিরিজ হারের কারণ খুঁজতে গেলে নিশ্চয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) তদন্ত কমিটির সামনে ডেকে নেবেন চঞ্চল ভট্টচার্যকে। জানতে চাইবেন, ড্রেসিং রুমে আসলে কি হয়েছে? কি হয়েছে মিডিয়ার সামনে বিস্তারিত আর কিছু না জানালেও ধোনির কোচ এটা অন্তত জানিয়ে দিলেন, ‘আগুন জ্বলছে ভারতের ড্রেসিং রুমে। যে আগুনে ঝলসে যাচ্ছে ধোনির ভেতরটা। খেলায় ভালোভাবে মনসংযোগ ঘটাতে না পারার একটা বড় কারণও হতে পারে এটা।

আগুন জ্বলার বিষয়টা এখানেই থেমে যেতে পারতো। ‘এক তরফা মন্তব্য’- অনেক সময় আত্মপক্ষ সমর্থণের মোক্ষম একটা হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু তালি বাজতে যখন দুই হাতই ব্যবহার হয় তখন বোঝাই যায় এখানে বড় ধরনের কোন ঘাপলা তৈরী হয়েছে।

ধোনির ব্যাক্তিগত কোচ যখন ঢাকায় বসে এই মন্তব্যটি করলেন, তখন বসে থাকলেন না কোহলির কোচ রাজ কুমার শর্মা। চঞ্চল ভট্টচার্যকেই যেন পাল্টা জবাব দিতে গেলেন। এক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব হিসেবে তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হার ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে লজ্জাজনক একটি বিষয়। আমার বলতে কোন দ্বীধা নেই যে, ওটা ছিল ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ব্ল্যাক সানডে।’

রাজ কুমার শর্মার কথাটা যে ধোনির দিকেই অঙ্গুলি তুলে দিচ্ছে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। যদিও ক্যাপ্টেন কুলের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে কোন মন্তব্য তিনি করেননি। ভারতের অনেক ক্রিকেট লেখিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ধোনির খেলোয়াড় বাছাই এবং মাঠের ভেতরকার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে। এমনকি, বাংলাদেশের কাছে এই হার ভারতের ক্রিকেট নিয়ে নতুন করে ভাববার এবং বিভিন্ন প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। যেখানে সহজেই ধোনিকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হযেছে কাঠগড়ায়।

দলের ভেতরকার অবস্থা এবং নিজেকে নিয়ে প্রশ্নটা তুলে দিয়েছেন ধোনি নিজেও। রোববার দ্বিতীয় ম্যাচে হারের পর তিনি জানিয়েছিলেন, ‘যদি মনে করা হয় যে আমিই সমস্যা, আমাকে সরিয়ে দিলে দলের জন্য ভালো হবে, তাহলে সরিয়েই দিন! আমি নিজেই ইচ্ছুক সরে দাঁড়াতে।’

অথচ এই মহেন্দ্র সিং ধোনিই ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে গোপন রহস্য জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমাদের ড্রেসিং রুমের শান্ত অবস্থাই এতবড় সাফল্যের কারণ।’ অথচ সেই অবস্থাটা কিভাবেই না পাল্টে গেল। এখন সেই ড্রেসিং রুমে অশান্তির কারণেই লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হতে হচ্ছে ধোনি বাহিনীকে।

অপর দিকে গুঞ্জন উঠেছে, ভারত যে অজুহাত দেখিয়ে জিম্বাবুয়ে সফর বাতিল করেছে সেটা আসল কারণ নয়। আসল কারণ হচ্ছে, খেলোয়াড়রাই বিসিসিআইর কাছে আবেদন জানিয়েছে, ট্যুরটি বাতিল করতে। কারণ, তারা খুবই ক্লান্ত।






মন্তব্য চালু নেই