মেইন ম্যেনু

আজও দাসপ্রথা চালু রয়েছে যেসব দেশে!

দাসব্যবস্থার কথা কারোরই অজানা নয়। আর দশটা প্রাণহীন জড়বস্তুর মতন মানুষকেও যে পণ্য হিসেবে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে কেনা-বেচা করা যায়, মেরে ফেলা যায়, এমনকি ইচ্ছে করলেই যে তাকে দিয়ে যা খুশি তাই করানো যায়- সেটার এক জ্বলন্ত প্রমাণ রেখে গিয়েছে ইতিহাসে এই দাসব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানে যদিও এই পুরো প্রক্রিয়াকে আইনগতভাবে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সেটা কি এখন কেবলই ইতিহাসের অংশ? না! এখনো পৃথিবীতে ছড়িয়ে রয়েছে দাসব্যবস্থা। তাও বৈধভাবেই। আসুন জেনে নিই এমনই কিছু স্থানের কথা যেখানে দাসব্যবস্থা আজও টিকে রয়েছে।

১. মৌরিতানিয়া

১৯৮০ সালে পৃথিবীর শেষ যে দেশটি থেকে দাসপ্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে আইন করা হয় সেটি হচ্ছে মৌরিতানিয়া। তবে আইন তৈরি হলেও এর প্রয়োগ কখনোই ঠিকঠাকভাবে হয়ে ওঠেনি এ দেশটিতে। আর তাই উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি সবসময়েই রয়ে গিয়েছে দাসব্যবস্থার করাল থাবার ভেতরে। যে থাবা থেকে আজ অব্দি বেরিয়ে আসতে পারেনি দেশের প্রায় ৪ শতাংশ জনগন। ২০১৪ সালের এক পরিসংখ্যানে জানা যায় যে এখনো অব্দি মৌরিতানিয়ায় রয়েছে প্রায় ১৫৬,০০০ জন দাস ( আল জাজিরা )। যাদের কারোরই নেই সম্পত্তির অধিকার, সন্তানের অধিকার, এমনকি একটা নামের পূর্ণাঙ্গ অধিকার ( দি আটলান্টিক )। আর এই দাসপ্রথা কেবল এক প্রজন্মের নয়। এটি বংশের ভেতর দিয়ে চলে আসা একটি প্রথা। যেটা বর্তমান দাসের বাবা পালন করেছে, সে করছে, তার ছেলে করছে এবং তার নাতি-নাতনিরাও করবে। এই কালো আর অসভ্য প্রথাকে উসকে দেওয়ার পেছনে মৌরিতানিয়ার সরকারের ভূমিকাকেই প্রধান করে দেখেন অনেকে। বাস্তবিকভাবেই জঘন্য এই দাসপ্রথার বিরুদ্ধে সরকার নিজে তো সঠিক কোন ব্যবস্থা নেয়ই না, এর বিরুদ্ধে চালানো আন্দোলনগুলোকেও দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায় তাদের ভেতরে।

২. সুদান

এমনিতে সুদানে দাসপ্রথা নেই বলে এর সরকার দাবী করলেও গোপন সূত্রে জানা যায় যে, এখনো বেশ বড় আকারে এই ব্যবস্থা চালানো হচ্ছে এই দেশটিতে। কিছু কিছু পশ্চিমা দেশ সুদান থেকে প্রায়ই টাকার বিনিময়ে মানুষের স্বাধীনতা কিনে নিয়ে যাচ্ছে ( রিলিজিয়স টলারেন্স )। বেশকিছু উপায়ে এই স্বাধীনতা বিক্রি পরিচালিত হচ্ছে এখানে। কখনো সেটা যুদ্ধের সময়ে ধরে নিয়ে আসা মানুষের দ্বারা, কখনো বা এখানকার সরকারের নানা সংগঠনের মদদেই।

৩. হাইতি

পৃথিবীর ভেতরে মৌরিতানিয়ার পরে যদি দাসপ্রথার জন্যে আর কোন দেশকে এগিয়ে রাখতে হয় সেটা হচ্ছে হাইতি। ২০১৩ সালে গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্সে মৌরিতানিয়ার পরে যে দেশটির নাম এসেছে সেটি হচ্ছে হাইতি। তবে বয়স্কদের চাইতে ছোটদেরকেই দাস করার প্রথা বেশি প্রচলিত রয়েছে এখানে। বর্তমানে প্রায় ২০০,০০০ থেকে ২২০,০০০ জন দাস হাইতিতে রয়েছে বলে মনে করা হয় (বিজনেস ইনসাইডার )। যাদেরকে সরাসরি দাস না বলে আশ্রিত বলা হয়।






মন্তব্য চালু নেই