মেইন ম্যেনু

আজ আকাশে দেখা মিলবে বিরল ব্লাডমুনের

আজ সন্ধ্যার আকাশে দেখা মিলবে সুপার ব্লাডমুনের। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে ঘটতে চলেছে বিরল আরেক ইতিহাস। এই প্রথমবারের মতো পৃথিবীবাসী একযোগে উপভোগ করবে চাঁদের দৈত্যাকায় রক্তিম-লাল রূপ এবং পূর্ণ-চন্দ্রগ্রহণ। সোনায় সোহাগা ছাড়া আর কী?

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, পূর্ণ চন্দ্র গ্রহণ ঢেকে দেবে চাঁদের রঙচড়ানো পৃষ্ঠকে। প্রাকৃতিক বিস্ময়কর ও বিরল ৭২ মিনিটের এই ঘটনা উপভোগ করতে যারা ব্যর্থ হবে, তাদের অপেক্ষা করতে হবে এক দীর্ঘ সময়। কারণ, এই অনন্য ঘটনা ২০৩৩ সালে। এর আগে এরকম দৈত্যাকায় রক্তিম পূর্ণ-চন্দ্রগ্রহণের ঘটনা ঘটেছিল গত ১৯৮২ সালে। গত একশো বছরে এই সুযোগ পাওয়া গিয়েছিলো মাত্র পাঁচ বার।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান নাসার ওয়বসাইটে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত খবর প্রকাশ করা হয়েছে। এই ফাটাফাটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে নাসার পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি । এ উপলক্ষে নাসা টিভি লাইভ-ফিড সম্প্রচার করেবে।

এতে করে পৃথিবীবাসী উপভোগ করতে পারবে বিস্ময়কর ঘটনা। আর নাসার সৌর-পদার্থবিজ্ঞানী ক্যালিফ-মিটজি-এডাম টুইটারে সরাসরি অংশ নিয়ে এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করবেন এবং উৎসুক প্রশ্নকর্তাদের উত্তর দেবেন।

এই ঘটনাকে সামনে রেখে নাসা তৈরি করেছে বিস্তারিতভাবে প্রস্তুতকৃত একরাশি চমৎকার চলচ্চিত্র ও ভিডিও। নাসার মার্শাল স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের গ্রিফিথ মানমন্দির এই রোমাঞ্চকর দৃশ্য অবলোকনের জন্য দর্শকদের সুযোগ করে দেবে।

তবে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে এই ঘটনা দেখা না গেলেও উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, আটলান্টিক মহাসাগর, গ্রিনল্যান্ড, ইউরোপ, আফ্রিকা, ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই উত্তেজনাকর মুহূর্ত অবলোকন করা যাবে।

প্রতি মাসেই চাঁদ তাঁর উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে করতে পৃথিবীর কাছাকাছি চলে আসে। কিন্ত, পূর্ণ-চাঁদ হয়ে পৃথিবীর কাছে আসা তো বিরল ঘটনা ছাড়া আর কী? তাই তো জোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায় এ এক প্রাকৃতিক আশীর্বাদ। আমরা সত্যি সৌভাগ্যবান। এই দিনে চাঁদ তাঁর প্রকৃত পরিধি অপেক্ষা ১৪ শতাংশ বড় হয়ে আমাদের কাছে দেখা দেবে। আর একই সময়ে পৃথিবী চন্দ্র ও সূর্যের মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে পূর্ণ চন্দ্র-গ্রহণের সৃষ্টি করবে।

ভয়প্রদর্শনকারী অবজ্ঞাসূচক ”ব্লাডমুন” নামকরণটি করা হয়েছে খ্রিস্ট-ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কারণে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে লাল দেখায়। পৃথিবী যখন চন্দ্র ও সূর্যের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে তখন এর ছায়া গিয়ে পড়ে চন্দ্র পৃষ্ঠে। পূর্ণ-চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্যের আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রতিফলিত ও ফিল্টার্ড হয়ে গিয়ে পড়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে। এতেই লাল রঙ ছাড়া অন্য রঙ আর দেখা যায় না।

মানব ইতিহাসের সর্বত্র, চন্দ্রগ্রহণকে দেখা হয়েছে ভয় ও আতঙ্কের চোখে। এদিকে সুপার-মুনকে ঘিরে সারা পৃথিবীজুড়ে শুরু হয়েছে গুঞ্জন । গুজব উঠেছে-এদিন পৃথিবীতে গ্রহাণু আঘাত হানবে। গ্রহাণুর আঘাতে ধ্বংস হবে পৃথিবী। প্রচন্ড ভূমিকম্পেরও গুজব ছড়িয়েছে। তবে এসব গুজবকে পাত্তা দেয়নি নাসা। নাসা একে ভুতুড়ে গুজব বলেও জানিয়েছে।

আক্ষেপ একটাই। ঢাকা থেকে দেখতে পাওয়া যাবে না এই বিরল ঘটনা! তাতে কী? পৃথিবীর পড়শি চাঁদে ঘটতে চলা ২৭ সেপ্টেম্বরের এই বিরল ঘটনা উপভোগ করতে টিউন করুন নাসা টিভি’র সঙ্গে।






মন্তব্য চালু নেই