মেইন ম্যেনু

আজ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস

আজ বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টিতে এই ৬ দফার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৬৬ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ৬ দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী প্রবল গণ-আন্দোলনের সূচনা হয়। এই দিনে আওয়ামী লীগের ডাকা হরতালে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জে পাকস্তানি পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে শহীদ হন মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ আরো বেশ কয়েকজন। এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপসহীন সংগ্রামের ধারায় ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় বাঙালি জাতি।

এ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ৬ দফা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন আমাদেরকে চলমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণে উদ্বুদ্ধ করে এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই আসুন, আমরা ৬ দফা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার কাজে সম্মিলিতভাবে আত্মনিয়োগ করি।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা অন্যতম মাইলফলক এ কথা উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এই ঐতিহাসিক ৬ দফার প্রবক্তা।’ স্বাধীনতা সংগ্রামে অপরিসীম অবদানের জন্য তিনি জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব পেশের মাধ্যমে পাক-ভারত উপমহাদেশের জনগণ বৃটিশ শোষকদের এদেশ থেকে তাড়ানোর জন্য যেমন একমত হয়েছিল, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৬৬ সালের এই দিনে ঘোষিত ৬ দফাকে তৎকালীন পূর্ববাংলার জনগণ পশ্চিম পাকিস্তানিদের এদেশ থেকে তাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিল। বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তাসখন্দ চুক্তিকে কেন্দ্র করে লাহোরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সাবজেক্ট কমিটিতে ৬ দফা উত্থাপন করেন এবং পরের দিন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যাতে এটি স্থান পায় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর এ দাবির প্রতি আয়োজক পক্ষ থেকে গুরুত্ব প্রদান করেনি। তারা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সম্মেলনে যোগ না দিয়ে লাহোরে অবস্থানকালেই বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা পেশ করেন। এ নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুকে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। পরে ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু ১৩ মার্চ ৬ দফা এবং এ ব্যাপারে দলের বিস্তারিত কর্মসূচি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদে পাস করিয়ে নেন। পরে এই ৬ দফার প্রতিটি দফা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জনগণের সামনে তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু।

ঐতিহাসিক ৬ দফাভিত্তিক নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনই ধাপে ধাপে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিণত হয়। এ দাবির পক্ষে বাঙালি জাতির সর্বাত্মক রায় ঘোষিত হয় ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। ওই নির্বাচনে বাঙালিরা আওয়ামী লীগকে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী করে। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দলকে জনগণ বিজয়ী করলেও পাকিস্তানি শাসকেরা বিজয়ী দলকে সরকার গঠন করতে না দিলে আবারও বঙ্গবন্ধু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন।

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ ও পালন করবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভোরে সূর্যোদয়ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনসমূহের সব শাখাসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।






মন্তব্য চালু নেই