মেইন ম্যেনু

আজ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে স্টিলের লাল-সবুজ কোচ

আজ দর্শনা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশে করছে রেলওয়ের স্টিলের লাল-সবুজ কোচ। নতুন ২০টি কোচ ভারতের রানা ঘাটের ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল বেশ কয়েকদিন। সেখান থেকেই আজ কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়ার্কশপ ম্যানেজার কুদরত-ই খোদা বলেন, ইতোমধ্যে সব ধরণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। আশা করছি আজই কোচগুলো দর্শনা হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। সেখান থেকে সরাসরি সৈয়দপুর কালখানায় নিয়ে আসা হবে ডি-প্রসেসিংয়ের জন্য।

অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল কোচগুলো রেলওয়ের ব্রডগেজের জন্য তৈরী। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ডি-প্রসেসিংয়ের পর এগুলো পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে, লোড টেস্ট করা হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এরপর কারখানার পক্ষ থেকে সেগুলো রেলওয়ের বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিবে কবে থেকে কোন কোন ট্রেনের সাথে কোচগুলো যুক্ত হয়ে চলাচল শুরু করবে।

রেল সূত্র জানায়, এভাবে পর্যায়ক্রমে ভারত থেকে মোট ১২০টি কোচ আসবে ব্রডগেজের জন্য। মিটার গেজের একশ’টি কোচ আসবে ইন্দোনেশিয়া থেকে।

সূত্র জানায়, ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালা কারখানায় তৈরী হচ্ছে কোচগুলো। অস্ট্রিয়ান টেকনোলজিতে তৈরী বিলাসবহুল এই কোচগুলো লিঙ্ক হোপম্যান বুশ (এলএইচবি) ব্রান্ডের। ভারতের বিলাসবহুল ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ ও ‘শতাব্দী এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এই কোচগুলো ব্যবহার করা হয়।

আজ মোট ২০টি কোচের মধ্যে ৫ ধরণের কোচ আছে। সেগুলো হলো শোভন চেয়ার (প্যানট্রিকারযুক্ত), শোভন চেয়ার (নামাজের স্থানযুক্ত), এসি বার্থ, এসি চেয়ার এবং পাওয়ার কার ও গার্ড ব্রেক। এলএইচবি কোচের চেয়ার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা অত্যন্ত বিলাসবহুল।

এ ছাড়া এবারই প্রথম শোভন চেয়ার শ্রেণিতে থাকছে খাবার মজুদের (প্যানট্রিকার) স্থান এবং নামাজের জায়গা। এতে করে যাত্রীরা খাবারের অর্ডার দেয়ার সাথে সাথে খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হবে। খাবারের কোচের (বুফে কার) জন্য দূরে যেতে হবে না। থাকছে নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান।

সূত্র জানায়, ব্রডগেজের জন্য তৈরী ১২০টি কোচের মধ্যে শোভন চেয়ার শ্রেণির মোট ৩৪টি কোচ আসবে। এর মধ্যে ১৭টি কোচে খাবার মজুদের স্থান (প্যানট্রিকার) থাকবে। বাকী ১৭টিতে থাকবে নামাজের জায়গা। অর্থাৎ যে কোচে খাবার মজুদের ব্যবস্থা থাকবে সেখানে নামাজের জায়গা থাকবে না। যাত্রীদের সুবিধার্থে এই দুই ধরণের কোচ পর পর সংযোজন করা হবে। যাতে দুই ধরণেরই সুবিধা পায় যাত্রীরা।

সূত্র জানায়, যাত্রীদের বিলাসবহুল সেবা প্রদানের জন্য ট্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘœ করা জরুরী। বিষয়টা মাথায় রেখে লাল-সবুজ স্টিল কোচের বহর সাজানো হয়েছে। তাতে প্রতিটি ট্রেনের সামনে এবং পেছনে দুটি করে পাওয়ার কার থাকবে। বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে একটাই পাওয়ার কার ট্রেনের মাঝখানের অংশে থাকে। অন্যদিকে, এসি বার্থ এবং এসি চেয়ার শ্রেণিগুলো হবে অত্যন্ত বিলাসবহুল আরামদায়ক।

বার্থগুলোর সেবার মান হবে অনেকটা তিন তারকা হোটেলের মতো। খাবারের পাশাপাশি বই পড়াসহ বিনোদনের ব্যবস্থাও থাকবে। এসির পাশাপাশি ননএসি বার্থ এবং প্রথমশ্রেণিও থাকবে। এসি-ননএসি চেয়ারেও যাত্রীরা আরাম করে ঘুমাতে পারবেন।

রেল সূত্র জানায়, এ বছরই রেলের বহরে যোগ হচ্ছে বিলাসবহুল ২৭০টি কোচ। বাংলাদেশের পতাকার সঙ্গে মিল রেখে স্টেইনলেস স্টিলের কোচগুলোর রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে লাল-সবুজ। ২৭০টি কোচের মধ্যে ১৫০টি কোচ আনা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া এবং ১২০টি আসবে ভারত থেকে। মিটার গেজের জন্য একশ’টি এবং ব্রডগেজের জন্য আরও ৫০টি কোচ আসবে ইন্দোনেশিয়া থেকে। আজ ভারত থেকে প্রথম ২০টি কোচ আসার মধ্যে দিয়ে রেলওয়ের নতুন যুগের সূচনা হলো।

রেলওয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া দুই দেশের কোচই স্টেইনলেস স্টিলের তৈরী। বিলাসবহুল, আরামদায়ক, টেকসই এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম। ওজনে অপেক্ষাকৃত হালকা বলে গতিবেগও বেশি। কোচগুলো রেলের বহরে যুক্ত হলে ট্রেনের গতি ও যাত্রীসেবার মান দুটোই বাড়বে। এসব কোচ সংযুক্ত হওয়ার পর ব্রডগেজের গতিবেগ হবে ঘন্টায় ১২০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত। আর মিটার গেজের গতিবেগ হবে ঘন্টায় ১২০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত। বর্তমানে মিটার গেজের গতিবেগ সর্বোচ্চ ৭৫ কিলোমিটার এবং ব্রডগেজের গতিবেগ ১শ’ কিলোমিটার।

জানা গেছে, রেলওয়ের মিটার গেজে বর্তমানে চলার উপযোগী ১ হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী কোচ আছে। এর মধ্যে ৫৯১টির অবস্থা ভালো নয়। অন্যদিকে, ব্রডগেজে ৩২৪টি কোচ রয়েছে, যার মধ্যে ৭৮টির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর মাসে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এজন্য পৃথক দুই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পদুটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ১শ’ আট কোটি টাকা।

এ ব্যয়ের মধ্যে সরকারের ৫৭৪ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে। প্রকল্প দুটির মধ্যে ১ হজার ৩৭৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ ‘প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ নামক প্রকল্পের আওতায় ২৭০টি কোচ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া কোচগুলো ধুয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ২টি ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট এ প্রকল্পের আওতায় কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই