মেইন ম্যেনু

আজ মুন্সীগঞ্জের পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির ভয়ালতম দিন

আজ সেই ভয়াল ৪ঠা আগষ্ট। এই দিনে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া-কাওরাকান্দির পদ্মায় পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছিল। এ দূর্ঘটনার ঘটনায় ফরিদপুরের একই পরিবারের সাত জনসহ নিহত হয় মোট ২৭ জন। পিনাক লঞ্চ ডুবির ঘটনায় নিহত এসব পরিবারে এক বছর পরও চলছে শোকের মাতম। তাদের শোক বিথুর পরিবেশ এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছে ঘটনা ঘটার এক বছর পেরিয়ে গেলেও।
লঞ্চ ডুবির নিহত পরিবারকে সরকারের পক্ষ হতে কোন সহযোগীতা করা হয়নি আবার অনেক পরিবারের একমাত্র উপার্যনক্ষম ব্যাক্তি মারা যাওয়ায় পরিবারগুলো চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। পরিবারগুলো নিরুপায় হয়ে সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগীতা কামনা করছে।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রিবাহী পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ফরিদপুরের নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট নিহত হয়েছিলো ২৭ জন। এর মধ্যে জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ১০ জন, সদরপুর উপজেলার ১০ জন এবং সালথা উপজেলার ৭ জন রয়েছে। লঞ্চ ডুবির নিহত ২৭ জনের মধ্যে এখনো একই পরিবারের ৭ জনসহ নিখোঁজ রয়েছে ১০ জন। নিখোঁজ এসব পরিবার আর্থিক সহযোগীতার না পাওয়ার পাশাপাশি স্বজনদের লাশ ফিরে না পাওয়ার বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে একটি বছর।

এদের মধ্যে সদরপুরের সাতরশি গ্রামের একই পরিবারের রয়েছে ৭জন। এরা হলেন, ফরিদা আক্তার সীমু, তাঁর স্বামী মোঃ রুবেল, বড় মেয়ে ফাইজা, ছোট মেয়ে ফাতেহা, সোবাহান মাতুব্বর , তার স্ত্রী জিয়াসমিন আক্তার ও তার সন্তান ইভান।

এছাড়াও সালথায় একই পরিবারের ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। এরা হলেন, সালথা উপজেলার গট্টির মো: সাদিকের স্ত্রী শেফালী এবং দুই শিশুপুত্র আরাফ ও আনাম। লঞ্চডুবির পর সাদিক সাতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও স্ত্রী ও পুত্রদের কোন খোঁজ মিলেনি সেই সময়।

নিহত পরিবারের সদস্যরা জানান, আমরা সরকারীভাবে কোন সহযোগীতা পায়নি। ঐ সময় স্থানীয় এমপি নিক্সন চৌধুরী পক্ষ হতে বিশ হাজার টাকা করে দেয়। এরপর কেউ আমাদের কোন খোজ নেয়নি। আমাদের উপার্জক্ষম ব্যক্তিরা নিহত হয় এখন আমরা চরম অর্থনৈতিক অভাবে ভূগছি। এলাকার চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে গিয়েছি তারাও কোন কিছু করছে না।

সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী জাফর বলেন, পিনাক-৬ লঞ্চ দূর্ঘটনায় নিহত পরিবারগুলো খুবই দরিদ্র। আমি সদরপুর উপজেলাবাসী পক্ষ থেকে বলছি এদের সহযোগীতা দরকার। সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সদয় হবেন বলে আশা রাখছি।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকসানা রহমানের সাথে কথা হলে তিনি এ ব্যাপারে কোন কিছু বলতে অপরাগতা জানান। তা ছাড়া তিনি ঐ সময় উপজেলায় ছিলেন না বলেও জানান। পিনাক -৬ দূঘর্টনায় নিহত ও নিখোঁজ হত দরিদ্র পরিবারগুলোর উপর্জনক্ষম ব্যাক্তি নিহত হওয়ায় তারা এখন তাকিয়ে আছে সরকারের দিকে। একমাত্র সরকারের একটু সহযোগীতায় এ সব পরিবারের হাসি ফুটতে পারে বলে মনে করছেন জেলাবাসী।






মন্তব্য চালু নেই