মেইন ম্যেনু

আত্মঘাতী গোলই কাল হয়েছিল যে ফুটবলারের (ভিডিও)

ফুটবলকে সর্বদাই ভ্রাতৃত্ব আর শান্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ইতিহাসে এমনও কিছু ঘটনা রয়েছে যেটা স্মরণ করিয়ে দেয় ফুটবলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার জগতের কথা। একটি গোলের মূল্য কত হতে পারে? নিঃসন্দেহে সেটার মূল্য টাকায় পরিমাপ করা সম্ভব নয়। কিন্তু একটি আত্মঘাতী গোলের জন্য একজন জাতীয় দলের ফুটবলারের জীবন কেড়ে নেওয়াটা কতটা সমীচীন কিংবা সভ্য সমাজের পরিচয় বহন করে? তেমনই এক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৪ সালে। আত্মঘাতী গোলের দায়ে জীবন দিতে হয়েছিল কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এস্কোবারকে। আততায়ীদের গুলিতে ২৭ বছর বয়সেই নিভে যায় সম্ভাবনাময়ী এক ফুটবলারের জীবন প্রদীপ।

যা ওই ম্যাচে ঘটেছিল

১৯৯৪ ফুটবল বিশ্বকাপ। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হয় এস্কোবারের দল কলম্বিয়া। সে ম্যাচের ৩৫ মিনিটের সময় আমেরিকান মিডফিল্ডার জন হার্কসের একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে ফেলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার এস্কোবার। তার সেই গোলটির কারণে ২-১ গোলে ম্যাচ জিতে যায় যুক্তরাষ্ট। আর বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে যায় কলম্বিয়া।

2

মূলত ১৯৯৪ বিশ্বকাপে কলম্বিয়া ছিল ডার্ক হর্স। তাই প্রতিটি ম্যাচেই জুুয়াড়িরা কলম্বিয়াকে নিয়ে লাখ লাখ ডলারের বাজি ধরত। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সেদিন জয়ের পাল্লা কলম্বিয়ার দিকেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে ছিল। কেউ হয়তো কল্পনাও করেনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কলম্বিয়া হেরে যাবে। কিন্তু এস্কোবারের আত্মঘাতি গোলের কারণে হেরে যায় কলম্বিয়া।

ধারণা করা হচ্ছে তার এই আত্মঘাতি গোলে কলম্বিয়া হেরে যাওয়ায় জুয়াড়িদের লাখ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়। আর সে ক্ষতির ক্ষোভের কারণেই এস্কোবারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। যার নেপথ্যে ছিল নিরেট বিনোদনের উৎস খেলাকে নিয়ে জুয়া খেলার গডফাদাররা।

যেভাবে মারা হয় এস্কোবারকে

২ জুলাই ১৯৯৪। কলম্বিয়ার মেডেলিনের ‘এল-ইন্দিয়’ নাইটক্লাবে গিয়েছিলেন এস্কোবার। সেখান থেকে তিনি যখন বের হন ঘড়ির কাটাতে তখন রাত ৩টা। পার্কিং এলকায় নিজের পার্ক করা গাড়িতে উঠতে যাবেন তিনি। এমন সময় তিনজন অপরিচিত লোক পেছন থেকে তাকে ডাক দেয়। তারা অল্প কিছুক্ষণ এস্কোবারের সঙ্গে তর্ক করেন।

এস্কোবার হয়তো টের পেয়েছিলেন যে দুজনের হাতে পিস্তল রয়েছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা গুলি করা শুরু করে। এস্কোবারের বুকে ও পেটে একে একে ৬টা গুলি করে ঘাতকরা। গুলি করতে করতে ঘাতকরা উচ্চস্বরে চিৎকার করে ‘গোল’ ‘গোল’ বলে। যেমনটা আমেরিকার ধারাভাষ্যকাররা আত্মঘাতি গোল হওয়ার পর করেছি। গাড়ির পাশেই লুটিয়ে পড়েন ২৭ বছরের কলম্বিয়ান তারকা ডিফেন্ডার। ঘাতকরা একটি টয়োটা পিকআপে করে স্থান ত্যাগ করে।

1

রক্তে ভেসে যাওয়া এস্কোবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এর ৪৫ মিনিট পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ফুটবলার। তার মৃত্যুতে কলম্বিয়ার মানুষ এতোটাই কষ্ট পেয়েছিল যা তারা কলম্বিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়াতেও পায়নি। তার এমন অনাঙ্কাঙ্খিত ও অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে বিমর্ষ হয়ে পরে কলম্বিয়া। আর শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় ফুটবল বিশ্ব। এস্কোবারের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল।

এস্কোবারের ক্যারিয়ার

কলম্বিয়া জাতীয় দলের জার্সিতে ৫১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন আন্দ্রেস এস্কোবার। রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হলেও আন্তর্জাতিক একটি গোলও রয়েছে তার হিসেবের খাতায়। কলম্বিয়ার পেশাদার ক্লাব অ্যাটলেটিকো ন্যাসিওনালের হয়ে ১৯৮৫ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খেলেছিলেন। ১৯৮৯ সালে তার ক্লাবকে তিনি কোপা লিবার্তোদোরেস শিরোপা জিতিয়েছিলেন। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ খেলে যাওয়ার পর ইতালিয়ান সিরি’আ লিগের ক্লাব এসি মিলানে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আর খেলা হয়নি তার। এসি মিলানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই ঘাতকের গুলিতে সবধরণের চুক্তি ছিন্ন করে চলে যান পরপারে।

এখনো মানুষ তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে কলম্বিয়ান এই তারকাকে। যার জন্ম হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ১৩ মার্চ কলম্বিয়ার মেদেলিনে।

সেই আত্মঘাতি গোলের ভিডিও :






মন্তব্য চালু নেই