মেইন ম্যেনু

আদমদীঘিতে ৬মণ কাঁচা মরিচে ১ কেজি ইলিশ!

কাজী আনিছুর রহমার, রাণীনগর (নওগাঁ) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় এবার কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাঁসি নেই। কারণ বাজারে দাম কম হওয়ায় মরিচ বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মরিচ চাষিরা। বাজারে ৬মণ মরিচ বিক্রি করে ১ কেজি ইলিশের দাম হচ্ছে।

এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন, সান্তাহার,ছাতিয়ানগ্রাম,নশতপুর,কুন্দগ্রাম ও চাঁপাপুর ইউনিয়ন এলাকার উঁচু জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। অনেক কৃষক বাড়তি ফসল হিসাবে এর আবাদ করেছেন। এর মধ্যে উপজেলার কোমারপুর, কাশিমালকুড়ি, শালগ্রাম, কোমারভোগ, জিনইর, কেশতরা, কুসম্বী এলাকায় কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে চোখে পড়ার মতো।

জানা গেছে, এ কাঁচা মরিচের ঢাকায় খুচরা বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। একজন শ্রমিকের এক বেলার মজুরী ২০০টাকা। একজন শ্রমিক এক বেলায় ২০ থেকে ২৫ কেজি মরিচ তুলতে পারে। সেই মরিচের মূল্য প্রায় ১২৫ টাকা। এই ১২৫ টাকার চেয়ে শ্রমিকের মূল্যই বেশি অথাৎ ২০০ টাকা। শ্রমিকের মূল্য দিয়ে কাঁচা মরিচ তুলে বিক্রি করলে লোকসান হবে বিধায় কৃষকরা নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মরিচ তুলে বিক্রি করছে। যাদের জনবল কম তারা ভাবছে শ্রমিক দিয়ে মরিচ তুলে বিক্রি করার চেয়ে জমিতেই নষ্ট হওয়া ভালো।

আদমদীঘিতে প্রতি কেজি ইলিশ মাছের মূল্য ১২শ’ টাকা। সেই দিক দিয়ে বিবেচনা করলে একজন কৃষককে এক কেজি ইলিশ মাছ কেনার জন্য প্রায় ৬মণ কাঁচা মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষক জাহাঙ্গীর আলম ও ফজলূল হক জানান, বর্তমান কাঁচা মরিচের দাম নেই বললেই চলে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৪-৫ টাকা হিসাবে পাইকাররা কিনছেন। আদমদীঘিতে শনিবার ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে।

শনিবার পাইকারি বাজারে ১৮০ থেকে ২০০ মণ কাঁচা মরিচ বেচাকেনা হয়েছে। এব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহাদুজ্জামান জানান, কাঁচা মারচের আশাতীত ফলন হয়েছে এবার মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি ও পরামর্শে কৃষকরা এই সাফল্য অর্জন করেছেন। তবে বাজারে দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা বিরাজ করছে।






মন্তব্য চালু নেই