মেইন ম্যেনু

আদালত ভবন তো নয় যেন পোস্টারের ভাগাড়

সিটি কর্পোরেশন যখন বিলবোর্ডের জঞ্জাল উপড়ে ফেলে চট্টগ্রামকে সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে ঠিক সে সময় পরীর পাহাড় খ্যাত আদালত ও তৎসংলগ্ন এলাকা নানা ধরণের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্রচারপত্র, স্টিকারের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষ্যে এই পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার, স্টিকার সাঁটানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন, সংবাদপত্রের প্রচারণামূলক পোস্টার, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি চেয়ে পোস্টার, রাজনৈতিক প্রচারণার নামে ব্যক্তি বিশেষের প্রচারণার পোস্টার, আইনজীবীদের নববর্ষ শুভেচ্ছার পোস্টার, বিভিন্ন ওরশ, সংগীতানুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, সালানা জলসা, ধরিয়ে দিন, পুরস্কার নিন, লটারিসহ নানা প্রচারপত্রে ঢেকে গেছে আদালত এলাকা। এসব প্রচারণার পোস্টারসহ নানা প্রচারপত্রে আদালত ভবনের সৌন্দর্যহানিই ঘটছে না, উপরন্তু দৃষ্টিকটূ লাগছে।

আদালত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মরণে নির্মিত আদালত ভবনের শহীদ মিনারটিও পোস্টারের খপ্পর থেকে রেহাই পায়নি। স্মৃতি সৌধের দেয়ালগুলোতে সংবাদপত্রের প্রকাশনা উৎসব থেকে শুরু করে হেন কোন বিষয় নেই যার পোস্টার সাটানো হয়নি।

এছাড়া আদালতের দেয়ালে, আদালত কক্ষের প্রবেশমুখে বিচারকের নেম-প্লেটের সাথে, এমনকি নামাজ পড়ার স্থান বা মসজিদের স্বচ্ছ কাঁচও রক্ষা পায়নি এ প্রচারকারীদের হাত থেকে। পোস্টার ব্যানার সাঁটাতে গিয়ে আদালত এলাকার গাছও বিদ্ধ হয়েছে পেরেকে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, রক্তাক্ত গাছগুলো যেন বলছে, হে মানব সন্তান, তোমাদের মাঝে অক্সিজেন বিলানোর জন্য আমাদের রক্ষা করো।

এছাড়া জেলা প্রশাসক ভবনের দেয়াল, আদালত ভবনের দেয়াল, মসজিদের দেয়াল, বারান্দা, আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন মিলনায়তনের দেয়ালসহ সব জায়গায় থরে থরে নানা ধরণের প্রচারপত্র। আর এসব নিয়ে যেন কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সরকারি সংস্থার প্রকৌশলী রাঙামাটি থেকে এসেছেন আইনজীবীর সাথে দেখা করতে। তিনি মন্তব্য করেন, এটি কি আদালত ভবন না কি পোস্টার, ব্যানারের ভাগাড়? তিনি বলেন, এখানে বিচারক, আইনজীবী, জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তর। আর পুরো চট্টগ্রাম শহর থেকে এ যেন বিচ্ছিন্ন এক পোস্টার দ্বীপ।

এ প্রসঙ্গে সিনিয়র আইনজীবী অতিরিক্ত জেলা জিপি (এডিজিপি) বলেন, আদালত ভবনের পুরো এলাকা যে কোন ধরণের পোস্টার ব্যানার বিলবোর্ডমুক্ত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, আদালত এলাকায় কতিপয় মানুষের এহেন পোস্টারসহ প্রচারপত্র দেখে আমার লজ্জা হয়।

অপরদিকে, জেলা প্রশাসনের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বেশিরভাগ আইনজীবী আদালত এলাকায় পোস্টারের জঞ্জাল বা পোস্টার জঙ্গল হওয়ার বিপক্ষে। কিন্তু এসব উচ্ছেদের বা পরিস্কার করার যেন কেউ নেই।

এ প্রসঙ্গে এডভোকেট মাহফুজুল মনির চৌধুরী ব্যঙ্গ করে একটি জনপ্রিয় গানের আদলে বলেন, চেয়ে চেয়ে দেখলাম, পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে।

জানতে চাইলে আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনের নির্বাচনী কর্মকর্তা এডভোকেট এসএম শওকত বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে যেসব পোস্টার, ফেস্টুন প্রার্থীদের পক্ষে টাঙানো হয়েছে তা নির্বাচনের পরে দুয়েক দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেব। তবে, নির্বাচনী পোস্টার নির্বাচনী আচরণবিধির সাথে সঙ্গতি রেখে তোলা হলেও অন্যান্য বহিরাগতদের পোস্টার ফেস্টুন স্টিকারগুলো তুলতে আমরা নির্দেশ দিতে পারি না।

তিনি বলেন, আদালত এলাকার বিচারপ্রার্থী, অধিকাংশ আইনজীবী, বিচারক, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের মানুষের দাবি শিগগির পরীর পাহাড়ের সবুজ আবহ ফিরিয়ে আনা হোক। আর যে কোনো ধরণের পোস্টার স্টিকার, দেয়ালে সাঁটানো প্রচারপত্র উপড়ে ফেলে আদালত ভবন ও জেলা প্রশাসন ভবনগুলোকে পরিচ্ছন্ন করা হোক।

উল্লেখ্য, আগামি ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে আদালত পাড়ায় এখন উৎসবের আমেজ। জাতীয় নির্বাচনের মতো এখানেও দুইটি বড় বলয়। একটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত বলয়, অপরটি বিএনপি সমর্থিত। তবে এখানে তৃতীয় আরেকটি ধারা গত ১১ বছর ধরে বিদ্যমান। শক্তিমত্তায় এ ধারাটিও কম নয়।

এর মধ্যে বিএনপি সমর্থিতরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং তৃতীয় ধারাটি দল নিরপেক্ষ সমমনা আইনজীবী সংসদের ব্যানারে নির্বাচন করছে। নির্বাচনে এবার ৩ হাজার ৪০৬ জন ভোটার ভোট দেবেন।






মন্তব্য চালু নেই