মেইন ম্যেনু

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাকা-মুজাহিদের ফাঁসি

শনিবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বাংলাদেশের দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী এবং বিরোধী দলীয় নেতারা ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এই ফাঁসির খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়েছে।

‘Bangladesh hangs Chowdhury and Mujahid over 1971 war crimes’-এই শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সময় তারা গণহত্যা এবং ধর্ষণের মত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যদিও তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ শনিবার রাতে তাদের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেয়ার পর অল্প সময় পরেই তাদের ফাঁসিতে ঝোলান হয়। বাংলাদেশের কারা মহাপরিদর্শক সৈয়দ ইফতেখারউদ্দিন বিবিসি’কে জানিয়েছেন, ‘১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।’ স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৪ বছর পর এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা এবং ছয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামিক দল জামায়োতে ইসলামির শীর্ষ নেতা ছিলেন মুজাহিদ।

তবে সাকা এবং মুজাহিদের পরিবার এই প্রাণভিক্ষার খবর অস্বীকার করেছেন। সাকার ছেলে হুমাম কাদের চৌধুরী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কয়েক ঘণ্টা আগে বাবার সঙ্গে শেষবারের মত দেখা করেন। এরপর তিনি সংবাদ সংস্থা এএফপি’কে বলেছেন,‘আমার বাবা কারো কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাননি। কেননা তিনি সবসময় নিজেকে নির্দোষ বলেছেন।’ প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে নিজেকে অপরাধী বলে উল্লেখ করতে হয়।
বাংলাদেশে আলোচিত এই মৃত্যুদণ্ডের ওপর রয়টার্সের  করা প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘Bangladesh executes two opposition leaders for 1971 war crimes’। এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়,‘ওই দুজনকে দুটি পৃথক প্ল্যাটফর্মের উপর একযোগে ফাঁসি দেয়া হয়।’ তাদের ফাঁসি কার্যকর করার পর সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অধা সামরিক বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজেবি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে চলাকালীন সময়ে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বিএনপি নেতা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরী এবং জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি ওই দুই যুদ্ধাপরাধীর প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেয়ার পর শনিবার রাতে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য গোটা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ভারতের প্রথম শ্রেণির বাংলা পত্রিকা আনন্দবাজার জানিয়েছে,‘বুধবার সর্বোচ্চ আদালত আসামিদের আপিল খারিজ করে দেওয়ার পরে দেরি করল না বাংলাদেশ সরকার। শনিবার রাতেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হল একাত্তরে গণহত্যার দুই নায়ক বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামাতে ইসলামির সাধারণ সম্পাদক আলি আহসান মহম্মদ মুজাহিদকে।’

পত্রিকায় ‘ঢাকায় রাতেই ফাঁসি গণহত্যার দুই নায়ককে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে,ফাঁসি হয়ে যাওয়া মাত্র উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ। রাতেই মশাল মিছিল বার করে ঢাকা পরিক্রমা করে গণজাগরণ মঞ্চের সদস্যরা। মিছিল বেরোয় বাংলাদেশের ছোটবড় প্রায় সব শহরেই। পাশাপাশি তাঁদের নেতা মুজাহিদের ফাঁসির প্রতিবাদে সোমবার হরতাল ডেকেছে জামাতে ইসলামি।’

পত্রিকাটি আরো জানিয়েছে, নিজের দুই মন্ত্রীর ফাঁসির তোড়জোড় শুরু হওয়া মাত্র দীর্ঘ লন্ডন সফর কাটছাঁট করে এ দিনই ঢাকায় ফিরে এসেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বিএনপি-র পক্ষে বলা হয়েছে, দেশে সঙ্কটময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়াতেই তাঁদের নেত্রী চিকিৎসা স্থগিত রেখে দেশে ফিরলেন।






মন্তব্য চালু নেই