মেইন ম্যেনু

পুলিশের লাঠিচার্জে এক নার্সের গর্ভপাত, আহত অর্ধশত

দুই দফা দাবি নিয়ে রাজধানীতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসার সামনে পুলিশ-নার্স ধস্তাধস্তির ঘটনায় অর্ধশতাধিক নার্স আহত হয়েছেন।

বেসিক গ্র্যাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিবিজিএনএস)-এর সভাপতি রাজিব কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। হঠাৎ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের একদল কর্মী এসে আমাদের ওপর আক্রমণ করে।’

তিনি জানান, আহতদের মধ্যে ২৫ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য নার্সরা রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত ক্যাম্প ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, আহতদের অবস্থা তেমন গুরুতর নয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেয়ে আবারও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসা নার্সরা। বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নার্সরা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের ধানমণ্ডির বাসার সামনে অবস্থান নেন।

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে আগের নিয়মে ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিডিবিএনএ) ও বেসিক গ্র্যাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির (বিবিজিএনএস) ব্যানারে নার্সরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন।

ধানমণ্ডি থানার পরিদর্শক তদন্ত মো. হেলাল উদ্দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে বলেন, ‘তারা দাবি আদায়ে বিকেলে মন্ত্রীর বাসার সামনে অবস্থান নেন। আমরা কিছু না করা সত্ত্বেও এ সময় নার্সরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে, এতে আমাদের নারী সদস্যসহ ৬ জন আহত হন। এরপরও আমরা কোনো অ্যাকশনে যাইনি।’

‘এখন তারা অবস্থান করছে, আমরাও ঘটনাস্থলে রয়েছি। তারা এখানে থাকবে কি না বা আমরা কোনো ব্যবস্থা নেব কি না তা নির্দেশ পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে,’ বলেন তিনি।

এ ব্যাপারে বিডিবিএনএ মহাসচিব ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম বুধবার দুপুর ১২টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সাক্ষাতের কোনো ডাক না এলে আবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বাসা ঘেরাও করা হবে। যেহেতু দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাদের সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি, তাই আমরা একান্ত বাধ্য হয়েই আবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছি।’

নার্সদের কেউ পুলিশের ওপর আক্রমণ করেনি বরং পুলিশই তাদের দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত সোমবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসায় চার নার্স নেতৃবৃন্দের সামনে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) সাইফুজ্জামান শেখরের সাথে লাউড স্পিকারে কথা বলেছিলেন। শেখর তখন বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বেকার নার্সদের সমস্যার কথা পূর্ণরূপে অবগত এবং সহানুভূতিশীল। আগামীকাল বা পরশু দুপুরের মধ্যেই তিনি নার্সদের সাথে কথা বলতে আগ্রহী।’

এর আগে ২৬ এপ্রিল থেকে নার্সরা আমরণ অনশন শুরু করায়, ১ মে নার্স নেতাদের নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের মাত্র সাত দিনের মাথায়, সোমবার নিজস্ব ওয়েবসাইটে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এরপর থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাসকে ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আশ্বাস দিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করেন নার্সরা।

পুলিশের লাঠিচার্জে নার্সের গর্ভপাত

ব্যাচভিত্তিক নিয়োগের দাবিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওকালে পুলিশের লাঠিচার্জে সালমা আক্তার (২৭) নামে আন্দোলনরত এক নার্সের গর্ভপাত হয়েছে। তিনি ৩ মাসের গর্ভবতী ছিলেন বলে জানা গেছে। আহত সালমা আক্তার বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি রিনা আক্তার।






মন্তব্য চালু নেই